সম্মেলন হলেও হয়নি জবি ছাত্রলীগের কমিটি

প্রকাশ : ২০ মে ২০১৭, ১৬:৫১

জবি প্রতিনিধি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার ৫২ দিন পেরিয়ে গেলেও নতুন কমিটি ঘোষণা করেনি সংগঠনের কেন্দ্রীয় সংসদ । দীর্ঘ সাড়ে চার বছর পর গত ৩০ মার্চ জবি শাখা ছাত্রলীগের প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ঐ দিন শাখা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। সম্মেলনকে ঘিরে বিগত মাসগুলোতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখরিত ছিল ক্যাম্পাস। সম্মেলনের পর  মুখরিত ক্যাম্পাস ঝিমিয়ে পড়েছে, সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে। ছাত্রলীগ ক্যাম্পাস ছেড়ে সাবেক কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের কাছে লবিং তদবিরে ব্যস্ত। এদিকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রলীগের সিন্ডিকেটের সদস্যদের পছন্দের প্রার্থীদের বাদ পরার কারণে কমিটি  ঘোষণা করতে দিচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন,‘কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক চাইছেন দ্রুত কমিটি দিতে।সংগঠনের সাবেক নেতারা তাদের পছন্দের ব্যক্তিদের দুটি শীর্ষ পদে বসানোর জন্য চাপ দিচ্ছেন।সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন,‘ছাত্রলীগে এখন কেউ গ্রুপিং করে নেতা হতে পারবে না বরং যোগ্যতা দিয়ে নেতা হতে হবে।’কোনো পকেট কমিটি না  করে নেতৃত্বের গুনাবলী এবং কর্মীদের গ্রহণ যোগ্যতা দেখে নেতা নিবার্চন করার জন্য ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের আহ্বান করেন তিনি। কিন্তু তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ নেতারা জবি ছাত্রলীগে নিজেদের কর্মীদের জায়গা নিশ্চিত করতে দরকষাকষিতে ব্যস্ত। জবি ছাত্রলীগের সম্মেলনের পর দেশের আরো কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং তারা ইতিমধ্যে নতুন কমিটিও পেয়েছে।

গত কয়েক দিনের ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা গেছে, ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের শোডাউন,শিবিরের উপস্থিতি। ১৭ মে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসেও কেন্দ্রীয় ঘোষনা থাকলেও কোন ধরনের প্রোগ্রাম করতে পারেনি জবি ছাত্রলীগ।ছাত্রলীগের বিভিন্ন গ্রুপের নেতাকর্মীদের আড্ডা স্থল গুলো ফাঁকা পড়ে আছে। এখন এসবে আড্ডা জমিয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগে উদিয়মান আর প্রবীণ কোন গ্রুপেরই শো-ডাউন দিতে দেখা যায়নি।নিরব হয়ে উঠেছে জবি ছাত্রলীগ।
এ বিষয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগকে ও সাধারন সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন কে একাধিক বার ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তারা ফোন ধরেননি।

এদিকে ছাত্রলীগের সম্মেলনের আগে যারা শীর্ষ পদ প্রত্যাশী প্রার্থী ছিলেন সম্মেলনের পর তাদের অনেকেই লবিং তদবিরে পিছিয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে। শেষ তথ্য পাওয়া পর্যন্ত শীর্ষ পদ প্রত্যাশীদের সংখ্যা ৬ জনে চলে এসেছে।এদের মধ্যে রয়েছেন সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান জুয়েল,গণযোগাযোগ ও উন্নয়ন সম্পাদক আপেল মাহমুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ,সমাজসবো বিষয়ক সম্পাদক সাইফুল্লাহ ইবনে সুমন,উপ- প্রচার সম্পাদক আনিসুর রহমান শিশির,শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক উপসম্পাদক মাহবুবুল আলম খান রবিন উপ-সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক মমিনুর রহমান মমিন।

 

পিডিএসও/রানা