মেস ভাড়া মওকুফের সুবিধা থেকে বঞ্চিত দেড় হাজার শিক্ষার্থী

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২০, ১১:১৭

অনিরুদ্ধ বিশ্বাস, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

‘আমি স্বপ্নপুরী আবাসিক এলাকায় একটি মেসে থাকি। আমার অন্যান্য ব্যাচমেট, সিনিয়র, জুনিয়রেরা মেস ভাড়ার ৪৫ শতাংশ দিয়ে যাচ্ছে। আর আমার মেস মালিক বলছেন, তিনি এমন কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানেন না। সম্পূর্ণ ভাড়া না দিলে তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে মেস ভাড়া দেবেন না।’ বলছিলেন ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্সেস টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ফাহমিদা মাহবুব মুন।

জানা যায়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষার্থী বিভিন্ন হলে অনাবাসিক হিসেবে সংযুক্ত রয়েছেন। অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা ইসলামনগর, খানজাহান নগর, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের বিপরীতে, গল্লামারী, নগরী নিরালা আবাসিক এলাকার মেসগুলোতে থেকে পড়াশোনা করেন। সম্প্রতি হরিনটানা থানা, ইসলামনগর ও খানজাহান নগর এলাকার মেস মালিকপক্ষ এবং শিক্ষার্থীদের সমঝোতার মাধ্যমে মেস ভাড়ার ৫৫ শতাংশ মওকুফের ব্যবস্থা করে দেয়। কিন্তু বাকি এলাকার শিক্ষার্থীরা ওই থানার অধীনস্থ না হওয়ায় মেস ভাড়া মওকুফের সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকছেন। অথচ এইসব এলাকায় দেড় থেকে দুই হাজার শিক্ষার্থী বসবাস করেন।

একাধিক শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের বিপরীতের কিছু এলাকা লবণচারা থানার অধীনে হওয়ায় তাদেরকে সম্পূর্ণ ভাড়া দিয়ে যেতে হচ্ছে। কোনো ফ্ল্যাট থেকে একজন শিক্ষার্থী নেমে গেলে ওই ফ্ল্যাটের বাকি শিক্ষার্থীদেরকেও খালি সিটের ভাড়া বহন করার জন্য চাপ দিচ্ছেন মেস মালিকরা। বিকাশের মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করে কেউ ভাড়া পাঠালে তাকে টাকা তোলার খরচ পাঠানোর জন্য আবারও যোগাযোগ করা হয়। এমনকি, ভাড়া কমাবার কথা তুললে ঢাকার অবস্থার (সম্প্রতি ঢাকায় এক মেস মালিক ভাড়া না পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের সনদপত্র, ল্যাপটপসহ অনেক প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ময়লার গাড়িতে তুলে দিয়েছেন) সাথে তুলনা করে হুমকি দেন। 

অন্যদিকে গল্লামারী, নিরালা আবাসিক এলাকার মেসে থাকা শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, এসব এলাকায় তুলনামূলকভাবে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কম হওয়ায় তারা প্রশাসনের নজরে আসছেন না, তাদেরকেও সম্পূর্ণ ভাড়া দিয়ে যেতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ ব্যাচের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের বিপরীতে আপন নিবাসে থাকি। মেস কেয়ারটেকার জানিয়ে দিয়েছেন, এখানে থাকতে হলে থানার নিয়মে না, তার নিয়মে থাকতে হবে। মেস ভাড়া কমানোর কথা বললে কেয়ারটেকার বলেন, ঢাকায় কি অবস্থা হয়েছে দেখো নাই?

ওই কেয়ারটেকার মো. শাহাজানকে এসব অভিযোগের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, আমি সোমবার রাতে থানার সিদ্ধান্তের কথা জানতে পেরেছি। যদিও আমরা ওই থানার অধীনে নই, তাও বিষয়টি মেসের মালিককে অবহিত করবো। এছাড়া, ঢাকার অবস্থার সাথে তুলনা করার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

হরিনটানা থানার মতো মেস ভাড়া কমাতে উদ্যোগ নেবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে লবণচারা থানার ওসি শেখ আবুল খায়ের বলেন, শিক্ষার্থীরা মৌখিক বা লিখিত কোনোভাবেই আমাদের এখনো কিছু জানায়নি। তারা আমাদের কাছে এলে তবেই ব্যবস্থা নিতে পারবো।

পিডিএসও/হেলাল