এবার শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি যাবেন শিক্ষকরা

প্রকাশ : ০৭ জুন ২০২০, ০৮:৫৯ | আপডেট : ০৭ জুন ২০২০, ০৯:১২

নিজস্ব প্রতিবেদক

সারা দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়া অব্যাহত রাখতে এবার শিক্ষকদের বাড়ি বাড়ি পাঠানোর কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বাড়িতে গিয়ে শিক্ষকরা লেখাপড়ার খোঁজ নেবেন। পাশাপাশি সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশনে পাঠদানের আলোকে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের ওপর প্রশ্নপত্র দিয়ে আসবেন। ছাত্রছাত্রীরা নিজের খাতায় উত্তর লিখে রাখবেন। পরে শিক্ষকরা তা সংগ্রহ করে মূল্যায়ন করবেন। তবে এই উদ্যোগে শিক্ষকদের মধ্যে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শিক্ষকরা জানিয়েছেন, বাড়ি বাড়ি যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। তবে কোনো কোনো শিক্ষক বলছেন, উদ্যোগটি ভালো। এতে শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ায় ফিরে আসার পাশাপাশি মানসিকভাবেও চাঙা হবে।

এ ব্যাপারে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ফসিউল্লাহ বলেন, শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন শ্রেণি কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্ন। তাদের বিকল্প প্রক্রিয়ায় পাঠদান চলছে। এখন আমরা সেই পাঠদানের ওপর মূল্যায়ন করতে চাই।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম-আল-হোসেন বলেন, ‘সংসদ টিভির মাধ্যমে আমরা যে পাঠদান করছি, তা সবার কাছে পৌঁছাচ্ছে না। এ কারণে বেতারে পাঠদানের কাজ চলছে। এ ছাড়া মোবাইল ফোনে হেল্পলাইনও খোলা হচ্ছে। সবকিছুর লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া অব্যাহত রাখা। কেননা, করোনার প্রাদুর্ভাবের যে অবস্থা তাতে জুন মাসে বিদ্যালয় খোলা সম্ভব নাও হতে পারে। তিনি এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের সহায়তা কামনা করেন।

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শিক্ষকরা জানিয়েছেন, করোনাকালে বাড়ি বাড়ি যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। এতে একদিকে তাদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকছে। বিপরীত দিকে শিক্ষার্থীর অভিভাবকের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া না মেলার আশঙ্কাও তাদের। কেননা অনেক পরিবারই এ সময়ে সন্তানদের আলাদা রাখার চেষ্টা করছে।

তবে কোনো কোনো শিক্ষক বলছেন, উদ্যোগটি ভালো। এতে শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ায় ফিরে আসার পাশাপাশি মানসিকভাবেও চাঙা হবে। গত ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ আছে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ওই মাসের শেষের দিকে শিক্ষার্থীদের টেলিভিশন পাঠদান শুরু হয়। পরে বেতারে পাঠদান প্রক্রিয়া শুরু করতে এগিয়ে আসে ইউনেসকো। এ নিয়ে সংস্থাটির তত্ত্বাবধানে কাজ চলছে। এরই মধ্যে মোবাইল ফোন হটলাইনে বিশেষজ্ঞ শিক্ষকের পরামর্শ সেবা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে মন্ত্রণালয়। বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর ৩৩৩৬-এ ফোন করে ভালো মানের শিক্ষকদের কাছ থেকে শ্রেণি পাঠ ও পরামর্শ নিতে পারবে শিক্ষার্থীরা। এতে পাঁচ মিনিট পর্যন্ত বিনা খরচে কথা বলা যাবে। উদ্যোগটি সফল হলে তা কোচিং সেন্টারের বিকল্প হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্পের সম্মিলিত উদ্যোগে এ কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।

সচিব আকরাম-আল-হোসেন বলেন, মোবাইলের মাধ্যমে অন্তত ৯৮ ভাগ শিক্ষার্থী বা অভিভাবকের কাছে শিক্ষা পরামর্শ ও শ্রেণি পাঠ পৌঁছানো সম্ভব হবে। এ কারণেই এই হেল্পলাইন চালুর উদ্যোগ।

হঠাৎ মাউশির জরুরি নির্দেশনা

করোনার কারণে বন্ধ রয়েছে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এরই মধ্যে জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি)। জানা যায়, দেশের যেসব স্থানে শিক্ষার্থীরা সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশন ও অনলাইনে ক্লাস করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, সেসব এলাকা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য চেয়ে আগামী ৭ জুনের মধ্যে মাউশিতে তথ্য পাঠাতে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়, এখন পর্যন্ত যেসব এলাকায় সংসদ টেলিভিশনে প্রতিদিনের সম্প্রচারিত ক্লাস দেখা যাচ্ছে না এবং অনলাইনে ক্লাস করারও সুযোগ নেই; থানা, উপজেলা ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা সেসব এলাকার বিদ্যালয়ের তথ্য সংগ্রহ করে পাঠাবেন। নির্দিষ্ট ছকে [email protected] এই ঠিকানায় এসব তথ্য পাঠাতে হবে।

নির্দেশনায় আরো বলা হয়, কোভিড-১৯ মহামারির সময়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে মাধ্যমিক স্তরের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম টিভি ও অনলাইনের মাধ্যমে অব্যাহত রাখা হয়েছে। ‘আমার ঘরে আমার স্কুল’ নামে মাউশি এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

পিডিএসও/হেলাল