চবিতে কোয়ারেন্টাইন নিয়ে শিক্ষক সমিতির উদ্বেগ

প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২০, ১৮:২৫

চবি প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে কোয়ারেন্টাইন স্থাপন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। পাশাপাশি কোয়ারান্টাইন বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য উপাচার্য বরাবর একটি স্মারকলিপিও দেয়া হয়েছে।

বুধবার দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি উদ্বিগ্ন এবং শঙ্কিত। কারন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এর সাম্প্রতিক কোয়ারিন্টিন বিষয়ক Infection Prevention and Control guidance for Long-Term Care Facilities in the context of COVID-19 নীতিমালায় সুস্পষ্ট ভাবে বলা আছে, কোয়রান্টিন এর জন্য নির্ধারিত এলাকা হতে হবে জনবসতি থেকে দূরে এবং সুনির্দিষ্ট একটি দূরত্ব এক্ষেত্রে বজায় রাখতে হবে এবং আবাসস্থলে প্রতি রুমের সাথে সংযুক্ত শৌচাগার বা টয়লেট থাকতে হবে। কিন্তু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উক্ত হলের খুব কম দূরত্বের মধ্যেই আশেপাশে শিক্ষক ও কর্মচারিদের বসতি আছে এবং হলের রুমগুলোতে সংযুক্ত টয়লেট নেই যা এর নীতিমালার বেতিক্রম। দ্বিতীয়ত, lancet গবেষনাপত্রে গত ২০ মার্চ ইরান ও ইটালিতে এই মহামারী ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে কোয়ারান্টিন সুবিধা তৈরিতে তারা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা মেনে চলেনি এবং ইউভি (আল্ট্রাভায়োলেট রে) ও হট রুম সমৃদ্ধ নিয়মিত জীবাণুমুক্তকরন সুবিধা অনেক কোয়ারেন্টিন সেন্টার এ ছিলনা। এরকম সুবিধা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসেও নেই তাই এটি কোন ভাবেই করোনা আক্রান্তদের জন্য উপযুক্ত আবাস নয়।  তৃতীয়ত, , আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন বায়সেফটি লেভেল -২+ (জীবনিরাপত্তা স্কেল ২ এর অধিক) waste management system বা বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থাপনা নেই যা নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিন এ গত সপ্তাহে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী করোনা আক্রান্ত রোগীদের কোয়ারান্টিনের একটি অত্যাবশ্যকীয় শর্ত। এই ক্ষেত্রে সেই বর্জ্য নিশ্চিতভাবে পরিবেশে ছড়িয়ে পড়বে যার দীর্ঘস্থায়ী প্রতিক্রিয়া বহন করবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০ হাজার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারী । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস কে জনবসতি শুন্য করা হয়েছে এই সংক্রমণের আক্রমন ঠেকাতে। সেই জায়াগায় আমাদের ক্যাম্পাসে এরকম সিদ্ধান্ত নেয়াটা অত্যধিক ঝুঁকির।

জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে সরকারের এবং দেশের পাশে দরকার। কিন্তু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা সংক্রমন এর সংখ্যা না কমিয়ে বরং বাড়িয়ে দিতে পারে। আমরা মনে করি দেশের পাশে দাঁড়ানো যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন তেমনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০ হাজার ছাত্র, শিক্ষক ও কর্মচারি এই দেশেরই সম্পদ। তাদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার কথা চিন্তা করাটাও আমাদের নৈতিক ও পবিত্র দায়িত্ব। অতএব, এই সিদ্ধান্তটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০ হাজার মানুষের সুরক্ষায় বাতিল ও পুনঃবিবেচলার জোরালো দাবী জানাচ্ছি।