পরিবেশ নিরাপদ রেখেই উন্নয়ন : চবিতে তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২০, ১৫:২২ | আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২০, ১৫:৩৫

চবি প্রতিনিধি
তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ। ফাইল ছবি

তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ বলেছেন, বস্তুগত উন্নয়নই নয়, মেধা ও মূল্যবোধের সমন্বয়ে জাতিগঠন করতে হবে। নিজেদের স্বার্থে প্রকৃতি ও পরিবেশকে নিরাপদ রেখেই উন্নয়ন করতে হবে।

শনিবার বেলা ১২টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশবিদ্যা ইনস্টিটিউট (ইফেস্কু) অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের পুনর্মিলনী অনুুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হাসান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ একটি ছোট, ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। মাথাপিছু জমির হারে সর্বনিম্ন হলেও আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এ বিষয়টি বিশ্ব খাদ্য সংস্থার কাছে একটি বিস্ময় এবং কেস স্টাডি। ঝড়, বন্যা, জলোচ্ছাস যাদের নিত্যসঙ্গী—কিভাবে সে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলো? ছোট হলেও আমাদের দেশের জমি উর্বর ও এর জীববৈচিত্র্য প্রাচুর্যময়।

অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রকৃতির প্রতি খেয়াল করে না মর্মে অভিযোগ করে মন্ত্রী বলেন, আমি অবাক হয়ে যাই চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মতো একটি প্রতিষ্ঠান এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন্সের পাশে রাস্তা নির্মাণ করতে গিয়ে ৩০০ ফুট পাহাড় কেটে ফেলেছে। বিষয়টি আমাকে খুব পীড়া দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ১১ বছর আগে দেশে বনাঞ্চলের পরিমাণ ছিল ১৯ শতাংশের নিচে। আর এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ শতাংশের বেশিতে। নগরায়ন ও শিল্পায়ন হলেও বনভূমির পরিমাণ ২৪ শতাংশে রয়েছে। এর কারন মানুষ সচেতন হচ্ছে।

তথ্যমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে জন্ম নেওয়া প্রতিটি নবজাতকের জন্য একটি করে গাছ লাগাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আহ্বান জানান।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশবিদ্যা ইনিস্টিটিউট (ইফেসকু) প্রাঙ্গণে উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতারের সভাপতিত্বে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও নেদারল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শেখ মোহাম্মদ বেলাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, চট্টগ্রামের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মতিউর রহমান। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক প্রফেসর গিয়াস উদ্দীন আহমেদ, এলামনাই এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর জসিম উদ্দিন ও পুনর্মিলনীর আহ্বায়ক মোহাম্মদ মহিউদ্দীন প্রমুখ।

এ সময় উপাচার্য শিরীণ আখতার সুবজ সমারোহকে অক্ষুণ্ন রেখে যাবতীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার আশ্বাস দেন। জেনারেল মতিউর রহমান মুজিববর্ষ উপলক্ষে গৃহীত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে নিজেদের সম্পৃক্ত করার ঘোষণা দেন। একই সাথে নিজেদের নার্সারি থেকে বিভিন্ন প্রজাতির দুই হাজার গাছ দেওয়ার কথা বলেন। আলোচনা শেষে মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর স্মৃতিচারণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। 

পিডিএসও/হেলাল