জাবি উপাচার্যের ‘দুর্নীতির খতিয়ান’ প্রকাশ

প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ২০:২৪

জাবি প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে ‘দুর্নীতির খতিয়ান’ প্রকাশ করেছে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলার শিক্ষক লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্যের দুর্নীতির খতিয়ান বই আকারে প্রকাশ করা হয়। ২২৪ পৃষ্ঠার এ বইতে উপাচার্যের বিরুদ্ধে ১১টি খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ দেখানো হয়েছে। এছাড়া খতিয়ানে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় দুর্নীতিবিরোধী ৭ ইশতেহারও প্রস্তাব করেছে আন্দোলনকারীরা।

সংবাদ সম্মেলনের পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে আন্দোলনকারীরা। বুধবার উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে গণসংযোগ ও আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার স্থিরচিত্র প্রদর্শন এবং হল নির্মাণ কাজে ‘অনিয়মের’ প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করবেন তারা।

আন্দোলনকারীদের প্রকাশিত এ খতিয়ানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পে উপাচার্যের আর্থিক দুর্নীতি, অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের নির্মাণ কাজের টেন্ডার ও মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নে অনিয়ম, আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার মদদ দেওয়ার অভিযোগ করা হয়।

খতিয়ানটিতে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান আন্দোলনের ইতিবৃত্ত; অপরিকল্পিত মাস্টারপ্ল্যানের সংকট; উপাচার্যের দুর্নীতির পূর্বাপর; আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার বৃত্তান্ত; বিভিন্ন সময় দেয়া স্মারকলিপি, লিফলেট, সংবাদ বিবৃতি; আচার্যের কাছে খোলা চিঠি, সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন সময়ের প্রতিবেদন; কার্টুন, গ্রাফিতি, পেইন্টিং ও স্থিরচিত্র; আন্দোলনের ক্রমপঞ্জি; দুর্নীতিবিরোধী ৭টি ইশতেহারসহ আন্দোলনের নানা দিক খতিয়ানে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সহ-সভাপতি মুশফিক উস সালেহীনের সঞ্চালনায় আন্দোলনের সমন্বয়ক অধ্যাপক রায়হান রাইন খতিয়ানের ‘ভূমিকা’, অধ্যাপক জামাল উদ্দিন রুনু ‘উপাচার্যের দুর্নীতির পূর্বাপর’ ছাত্রফ্রন্ট (মার্কসবাদী) বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মাহাথির মুহাম্মদ ‘দুর্নীতিবিরোধী ইশতেহার’ পাঠ করেন।

এ সময় রায়হান রাইন বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান এই আন্দোলন ‘দুর্নীতিবাজ’ উপাচার্যের অপসারণের মধ্য দিয়ে আগামী দিনে দুর্নীতিগ্রস্থ পথ পরিবর্তনের সুগম করবে।’

এসব বিষয় জানতে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। আর উপাচার্যপন্থী শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বিত সংগঠন ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং উন্নয়নের পক্ষে জাহাঙ্গীরনগর’ এর শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করা হলে ২২৪ পৃষ্টার বইটি (খতিয়ান) না পড়ে কেউ মন্তব্য করতে চাননি। তারা বলেন, বইটি পড়ে বিচার-বিশ্লেষণ না করেই মন্তব্য করা ঠিক হবে না।

পিডিএসও/তাজ