হল খুলে দিতে ফেসবুকে সরগরম জাবি শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ : ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ২০:২৪

জাবি প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণ দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার পর ক্লাস-পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত ৫ নভেম্বর দুপুরে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের জরুরি সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধের পাশাপাশি ওই দিনই শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে এ ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো হল খুলে দেয়নি প্রশাসন।

এতে দুর্ভোগে পড়া শিক্ষার্থীরা হল খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের এমন দাবিতে কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক সরগরম হয়ে উঠেছে।

শিক্ষার্থী সূত্রে জানা গেছে, যারা টিউশনি কিংবা খণ্ডকালীন চাকরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন, তারা পড়েছেন বেশি বিপাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে হল খুলে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন। সেশন জটের আশঙ্কায় অনেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আবার অনেকে আন্দোলনকারীদের দুষছেন।

প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিভাগে ৪৩ ব্যাচের নরত্তম বিশ্বাস লিখেছেন, ‘ক্যাম্পাসের আশপাশে গেরুয়া, ইসলামনগর, বটতলা বাজার প্রতিটি জায়গা এক একটা শরণার্থী শিবিরে পরিণত হয়েছে। ক্যাম্পাসের আশপাশে যেসব বড় ভাই-আপু থাকে পড়াশোনার জন্য লাইব্রেরিটাই তাদের সম্বল। সামনে বিসিএসের রিটেন। দয়া করে হলগুলো আর লাইব্রেরিটা খুলে দিন।’

সুলতান আজিজুল নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘আপনারা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে দ্রুত একটা সমাধানে আসেন, হলগুলো খুলে দেন, অনেক ছেলেরে দেখি একটা ব্যাগ কাঁধে নিয়ে গেরুয়া সারা দিন ঘোরাঘুরি করে। ব্যাগের মধ্যে থাকে একটা লুঙ্গি আর একটা গামছা, রাত হলে কোনো এক ভায়ের রুমে গিয়ে ঘুমায় আবার সকাল হলে ব্যাগ নিয়ে বের হয়ে যায়। বাড়ি যেতে পারে না, কারণ বাড়ি গেলে একমাত্র টিউশনিটা হারাবে আর এই টিউশনিটা হারালে তার পড়াশোনাটাও শেষ হয়ে যেতে পারে।

ক্যাম্পাসে রিকশাওয়ালা মামাদের মুখের দিকে তাকালে আরো বেশি খারাপ লাগে, সারা দিন রিকশা নিয়ে দাঁড়ায়ে থাকে, কোনো লোক নেই। আপনাদের স্বার্থের জন্য হাজার হাজার পরিবার না খেয়ে মরতেছে, শত শত স্টুডেন্ট তাদের টিউশনি হারাচ্ছে। যদি দয়ামায়া করে লাইব্রেরিটা একটু দ্রুত খুলে দিতেন, তাহলে অনেক কৃতজ্ঞ থাকতাম, সামনে সবার বিসিএস পরীক্ষা সবার মধ্যে খুব টেনশন আর হতাশা কাজ করছে।’

ফারহাদ জামিল লিখেছেন, ‘হল ভ্যাকেন্ট আর কত দিন! হল এবং লাইব্রেরি দুইটার খুব প্রয়োজন এখন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের চাওয়া একটাই হল খুলে দিক দ্রুতই। টিউশনের জন্য বাড়িও যাওয়া যাচ্ছে না, আর উদ্বাস্তু হয়ে আশপাশে থাকতে হচ্ছে। হল ও লাইব্রেরি দ্রুত খুলে দেওয়া হোক।’

আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন লিখেছেন, ‘মাননীয় ভিসি ম্যামের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, হলগুলো খুলে দেন দয়া করে। অনেক সমস্যা আসবে সেগুলো সুষ্ঠুভাবে সমাধান করে কীভাবে সুশৃঙ্খলভাবে বিশ্ববিদ্যালয় চালানো যায় সে জন্যই আপনাকে ওই চেয়ারে বসানো হয়েছে। ক্যাম্পাসের হল ভ্যাকেন্ট করে কৌশলে চেয়ার ঠেকানোর জন্য নয়, দয়া করে সাধারণ ছাত্রছাত্রীর কথা ভাবেন। এই অনুরোধ বামসহ যারা মাঠে আন্দোলন করছেন তাদেরও। আপনারাও কীভাবে সাধারণ শিক্ষার্থীর জন্য কাজ করা যায় সেটা ভাবুন। কারণ যে ছেলেটা ক্যান্টিনে তিন বেলা খাবে, লাইব্রেরি গিয়ে বিসিএস/চাকরির পড়া পড়ে তার কাছে আপনার এই আন্দোলনও ফলদায়ক কিছু নয় বরং হল ভ্যাকেন্ট তার জন্য অভিশাপ।’

রাজিয়া অর্পা ফেন্সী লিখেছেন, ‘এই গ্রুপে অনেকেই পোস্ট করছেন হল/লাইব্রেরি খোলা নিয়ে, হলে আসা নিয়ে। মন্তব্য আর পোস্টের সমানসংখ্যক মানুষ যদি ক্যাম্পাসে চলে আসেন, তাইলেই প্রশাসন হল খুলে দেওয়ার বিবেচনায় আসবে দুদিনের মধ্যেই সিন্ডিকেট বসিয়ে দিতে বাধ্য হবে। চলেন সবাই হলের সামনে অবস্থান নেই।’

এ প্রসঙ্গে মন্তব্যের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও রিসিভ করেননি। তবে হল প্রাধ্যক্ষ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক বশির আহমেদ বলেন, ‘হল খোলার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, যে পরিস্থিতির কারণে হল বন্ধ হয়েছে, সে পরিস্থিতির উন্নতি যত দ্রুত হবে, তত দ্রুত হল খোলা হবে।’

পিডিএসও/তাজ