জাবিতে উপ-উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি উপাচার্যপন্থি শিক্ষকদের

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:০২

জাবি প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান আন্দোলনে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আমির হোসেনের ‘প্রত্যক্ষ মদদ’ রয়েছে উল্লেখ করে তার পদত্যাগ দাবি করেছে উপাচার্যপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ’। এছাড়া এই আন্দোলনে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক শরীফ এনামুর কবিরেরও মদদ রয়েছে দাবি করে তার বিরুদ্ধে ‘কালো’ পুস্তকে আনীত অভিযোগের তদন্ত ও বিচার করার দাবি জানায় সংগঠনটি।

বৃহস্পতিবার সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক মো. আব্দুল মান্নান চৌধুরী ও সম্পাদক অধ্যাপক বশির আহমেদ স্বাক্ষরিত সংগঠনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব দাবি করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘শিক্ষার্থীদের একাংশের আন্দোলনকে সুযোগ হিসেবে গ্রহন করে দুর্নীতির কল্পিত অভিযোগ এনে শিক্ষকদের একাংশ যাদের কেউ কেউ নিজেরাই সীমাহীন দুর্নীতিতে অভিযুক্ত তারা ক্রমাগত ষড়যন্ত্রের জাল বুনে যাচ্ছেন। এর পশ্চাতে বর্তমান প্রশাসনের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আমির হোসেন এবং সাবেক উপাচার্যের প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে, এখন আর কারো বুঝতে বাকি নেই।

এতদিন কানাঘুষা হলেও গত ১৮ সেপ্টেম্বর ফোন বন্ধের (কথিত ফোন বন্ধের সাথে বিশ্বদ্যিালয়ের কোন সম্পর্ক নেই) মামুলি অজুহাতে প্রশাসনের সাথে আন্দোলনকারীদের পূর্ব নির্ধারিত বৈঠক বর্জন করে তিনি প্রমাণ করেছেন ষড়যন্ত্রের হোতা কে? উপাচার্যকে সরিয়ে তিনি নিজে অথবা তার কোন গুরুজন উপাচার্যের পদে বসতে চান। অথচ তিনি ২০০৪-০৫ শিক্ষাবর্ষে আপন ভাগ্নেকে ভর্তি করতে গিয়ে ‘দুর্নীতিপরায়নতা এবং নৈতিক অসচ্চরিত্রতা, অসদাচরণ’-এর অভিযোগের দায় নিয়ে এক যুগ ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আর তার গুরু অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবির পাহাড় সমান দুর্নীতির বোঝা মাথায় নিয়ে উপাচার্য পদ থেকে অপসারিত হয়েছিলেন।’

এছাড়া বিজ্ঞপ্তিতে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. আমির হোসেনের পদত্যাগ ও ভর্তি কেলেঙ্কারির তদন্ত শেষ করে তার শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

প্রশাসনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগের বিষয়ে অধ্যাপক আমির হোসেন বলেন, ‘আন্দোলনকারীদের সাথে বৈঠকের আগের রাতে আমার মুঠোফোন বন্ধ করা হয়েছিল। এর পেছনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মদদ রয়েছে। উপাচার্য আমাকে বিভিন্ন সময় তার দলে যোগ দিতে বলেছেন। কিন্তু আমি আমার আদর্শ হতে বিচ্যুত হতে চাইনি। তাই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আমি এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

তবে বিজ্ঞপ্তিতে প্রশাসনপন্থি শিক্ষক সংগঠটির অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবিরের মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের পদত্যাগ দাবি করে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’- এর ব্যানারে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

পিডিএসও/তাজ