ছাত্রলীগকে টাকা দেওয়ার অভিযোগের তদন্ত

আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় উপাচার্য

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৭:৪৯ | আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৮:১৩

জাবি প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে ছাত্রলীগকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দেওয়ার অভিযোগের তদন্তের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’-এর ব্যানারে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনায় বসেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বুধবার বিকেল সাড়ে চারটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে পূর্ব নির্ধারিত আলোচনা শুরু হয়। তবে গত রাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সম্পৃক্ততায় মোবাইল ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল দাবি করে আলোচনায় অংশ নেননি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আমির হোসেন।

ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী এবং শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের ফোনালাপ এবং শাখা ছাত্রলীগের একাধিক নেতার স্বীকারোক্তিতে দুর্নীতির বিষয়টি অনেকটাই স্পষ্ট বলে দাবি করছেন আন্দোলনকারীরা। তাই এ আলোচনা থেকে প্রশাসনের ইতিবাচক সিদ্ধান্তের আশা করছেন তারা।

আলোচনায় অংশ নেয়ার আগে আন্দোলনকারী নেতা জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আশিকুর রহমান বলেন, ‘উপাচার্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রায় সত্যের দ্বারপ্রান্তে। অনেকেই প্রকাশ্যে স্বীকার করছেন তারা টাকার ভাগ পেয়েছেন। আমরা চাই এ বিষয়ে রাষ্ট্র তদন্ত করুক। আর তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি বিধিতে বিচার হোক। আর তদন্ত চলাকালীন সময়ে উপাচার্যকে পদ থেকে অব্যাহতি নিতে হবে।’ এছাড়া বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানানো হবে বলেও জানান তিনি।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির ও অপরিকল্পনার অভিযোগে তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশ। এরইমধ্যে আন্দোলনের মুখে তাদের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আলোচনায় বসতে বাধ্য হন। গত ১২ সেপ্টেম্বরের আলোচনায় দুর্নীতির তদন্তের বিষয়টিতে সিদ্ধান্তে সময় নিয়ে বাকী দুটি দাবি মেনে নেয় প্রশাসন। দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বুধবার পর্যন্ত সময় নেয় প্রশাসন।

আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নুরুল আলম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হক, প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) রহিমা কানিজ, প্রকল্প পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন এবং নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) আহসান হাবিব অংশ নিয়েছেন।

অপরদিকে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নিয়েছেন পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জামাল উদ্দিন রুনু, অধ্যাপক মো. খবির উদ্দিন, দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান, অধ্যাপক রায়হান রাইন, অধ্যাপক এ এস এম আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শামীমা সুলতানা, মোহাম্মদ রেজাউল করিম তালুকদার প্রমুখ। এছাড়া আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আশিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম পাপ্পু, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মারুফ মোজাম্মেল, ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সভাপতি নজির আমিন চৌধুরী জয়, কার্যকরী সদস্য রাকিবুল রনি, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রনেটর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ দিদার, সাংগঠনিক সম্পাদক শোভন রহমান, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (মার্ক্সবাদী) সভাপতি মাহাথির মোহাম্মদ, সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত দে এবং বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ জাবি শাখার আহ্বায়ক শাকিল উজ্জামান, মুখপাত্র খান মুনতাসির আরমান, যুগ্ম আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন শিশির ও আরিফুল ইসলাম আলোচনায় অংশ নিয়েছেন।

এদিকে মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিরোধী প্রায় সাত জন শিক্ষকের মোবাইল ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আমির হোসেনের মোবাইল ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল প্রায় সাড়ে চার ঘন্টা। এ ঘটনার প্রতিবাদে আজকের বৈঠক বর্জন করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আমির হোসেন বলেন, ‘আমি একটা দায়িত্বশীল পদে রয়েছি। কিন্তু গতকাল রাতে প্রায় সাড়ে চার ঘন্টা আমার ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। এতে আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে মনে করছি। তাই এর প্রতিবাদে আমি আজকের বৈঠকে যাই নি, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে অবহিত করেছি।’

পিডিএসও/রি.মা