২ ছাত্রলীগ নেতার সঙ্গে রাব্বানীর ফোনালাপ সাজানো : জাবি কতৃপক্ষ

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৮:৪৭

অনলাইন ডেস্ক

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের ‘টাকা ভাগাভাগি’ নিয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ হারানো গোলাম রাব্বানীর সঙ্গে জাহাঙ্গীরনগরের দুই নেতার ফোনালাপের যে অডিও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এসেছে, তাকে ‘অসত্য, উদ্দেশ্যমূলক ও সাজানো’ বলছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “উপাচার্য মহোদয়ের সঙ্গে টাকা ভাগের কোনো আলাপ হয়নি। তিনি কাউকে অর্থ প্রদান করেননি। জনাব গোলাম রাব্বানী উপাচার্য মহোদয়কে বিতর্কিত করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এই ফোনালাপের গল্প তৈরি করেছেন। এ ধরনের পরিকল্পিত মিথ্যা গল্পের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।”

জাহাঙ্গীরনগরে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ থেকে কয়েক শতাংশ চাঁদা দাবির অভিযোগ নিয়ে সমালোচনার মধ্যে ছাত্রলীগ সভাপতি পদ থেকে রেজাওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে গোলাম রাব্বানীকে গত শনিবার সরিয়ে দেওয়া হয়।

তবে ওই অভিযোগ অস্বীকার করে শোভন ও রাব্বানী বলে আসছেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি টেন্ডারের ভাগ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগকে আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে জানতে পেরে তারা উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। ওই চাঁদাবাজির সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা ছিল না।

অপসারিত হওয়ার আগে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে লেখা এক চিঠিতে রাব্বানী বলেন, “জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে অভিযোগ আপনার (প্রধানমন্ত্রী) কাছে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। উপাচার্য ম্যামের স্বামী ও ছেলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগকে ব্যবহার করে কাজের ডিলিংস করে মোটা অংকের কমিশন বাণিজ্য করেছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে ঈদুল আজহার পূর্বে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগকে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা দেওয়া হয়।

“এ খবর জানাজানি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি শুরু হয় এবং এরই পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্য ম্যাম আমাদের স্মরণ করেন। আমরা দেখা করে আমাদের অজ্ঞাতসারে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগকে টাকা দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তোলায় তিনি বিব্রতবোধ করেন। নেত্রী, ওই পরিস্থিতিতে আমরা কিছু কথা বলি, যা সমীচীন হয়নি। এজন্য আমরা ক্ষমাপ্রার্থী।”

অন্যদিকে অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম শনিবার সাংবাদিকদের বলেন, “তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল যে, তারা ঠিকাদারের কাছ থেকে কিছু শতাংশ (টাকা) নিবে। তারা এ বিষয়ে আমাকে ইঙ্গিতও দিয়েছে। কিন্তু আমার কাছে এসে তারা হতাশ হয়েছে। তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠিতে এ বিষয়ে যা লিখেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।”
ওইদিন রাতেই শোভন ও রাব্বানীকে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আসে। এরপর রোববার বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে একটি অডিও ফাঁস হওয়ার খবর আসে।

সেখানে বলা হয়, ওই ওডিও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাব্বানীর সঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি হামজা রহমান অন্তর ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইনের ফোনালাপের।

উপাচার্যের কাছ থেকে জাহাঙ্গীরনগর ছাত্রলীগের কে কত টাকা নিয়েছে, উপাচার্য কেন ওই টাকা দিয়েছেন, উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার কীভাবে হয়েছে, সেখানে উপাচার্যের স্বামী ও ছেলের ভূমিকা কি- এসব বিষয়ে কথা বলতে শোনা যায় তাদের।  

এর প্রতিবাদ জানিয়ে সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ওই ফোনালাপ ‘অসত্য ও উদ্দেশ্যমূলক’।

‘এই মিথ্যে গল্পের সত্যাসত্য প্রমাণ করার দায়িত্ব উপাচার্য মহোদয়ের নয়। প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ করা যায় যে, জনাব গোলাম রাব্বানী ও সাদ্দাম হোসাইনের কথোপকথনের শেষ পর্যায়ে ‘তিনি (রাব্বানী) সেন্ট্রাল ছাত্রলীগের সেক্রেটারি ছিলেন। আমি তার রাজনীতি করতাম। অনেক কথাই তার সাথে হয়েছে। সে যা বলতে বলেছে তাই বলেছি, যা করতে বলেছে তাই করেছি’- ইত্যাদি কথার মাধ্যমে তাদের মধ্যকার কথোপকথন যে পূর্ব পরিকল্পিত এবং সাজানো ছিল, তা স্পষ্ট হয়েছে।”    

‘মিথ্যা অপপ্রচারে’ বিভ্রান্ত না হয়ে সবাইকে ‘সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে’ অবস্থান নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।