ছাত্রলীগ নেতার খোলা চিঠি

‘জাবির ৩৮ থেকে ৪৫ এর জুনিয়ররাও টাকার ভাগ পেয়েছে’

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৫:৪১

জাবি প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ৩৮ ব্যাচ থেকে ৪৫ ব্যাচের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা উন্নয়ন প্রকল্প থেকে টাকার ভাগ পেয়েছেন বলে এক খোলা চিঠিতে উল্লেখ করেছেন শাখা ছাত্রলীগের এক নেতা। রোববার রাতে শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হামজা রহমান অন্তর সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে লেখা ওই খোলা চিঠিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেন। এদিন বিশ্ববিদ্যালয় “শাখা ছাত্রলীগকে উপাচার্যের টাকা দেয়ার” বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ও শাখা ছাত্রলীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের মধ্যকার কথপোকথন ফাঁসের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর তাকে হুমকি দিয়েছেন- এমন অভিযোগ তুলে তিনি চিঠিটি প্রকাশ করেন। এছাড়া প্রক্টরের হুমকির পর তিনি তার শিক্ষা জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে সংশয়ে আছেন বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেন।

খোলা চিঠিটিতে তিনি লিখেছেন, “আমি হামজা রহমান অন্তর, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে স্নাতোকত্তর শ্রেণির বৈধ ছাত্র এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি। গত ১৩ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকট সম্পর্কে জানার জন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ভাই হঠাৎ আমাকে ফোন দেন। এক পর্যায়ে ক্যাম্পাস ও শাখা ছাত্রলীগের অর্থ কেলেঙ্কারীর অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে, আমি উক্ত ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শাখা ছাত্রলীগের ১ নং যৃগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ভাইয়ের সাথে কথা বলিয়ে দেই।” তিনি লিখেছেন, “উক্ত ফোন কলের অডিও রেকর্ড আজ (রোববার) প্রকাশিত ও ভাইরাল হলে আজ (রোববার) সন্ধ্যায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ফিরোজ উল হাসান স্যার আমাকে ফোন দিয়ে ওই ভাইরাল অডিও নিয়ে প্রচ্ছন্ন হুমকির সুরে উনি বলেন, আমি কেন অডিও ভাইরাল করেছি এবং এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মান-সম্মান নষ্ট করছে দাবি করে কাজটি ঠিক হয়নি বলেন ও আমাকে দুর্নীতির প্রমাণ দেখাতে হুমকি প্রদান করলে আমি বলি, এটি জাহাঙ্গীরনগর ও দেশব্যাপী ওপেন সিক্রেট এবং আমাকেও টাকার ভাগ দেবার চেষ্টা করলে আমি প্রত্যাখান করি। জাবির ৩৮ থেকে ৪৫ ব্যাচের জুনিয়রেরাও টাকার ভাগ পেয়েছে। উপরোক্ত তথা বলার পরে উনি আমতা-আমতা করে বিষয়টি স্বীকার করলেও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন।”  

হামজা রহমান অন্তরের সাথে প্রক্টরের ফোনালাপটি এরই মধ্যে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই কথপোকথনের অডিওতে অন্তরের উদ্দেশ্যে প্রক্টরকে বলতে শোনা যায়, “ফোনটা যেহেতু তোমার, তোমাকেই কিন্তু দায়টা নিতে হবে। তোমার ফোনে কথপোকথন তুমি কিন্তু দায়টা এড়াতে পার না।” কথপোকথনের এক পর্যায়ে হামজা রহমান রহমান অন্তরকে বলতে শোনা যায়, “ক্যাম্পাসের ৪৪-৪৫ ব্যাচ পর্যন্ত টাকা পাইছে, আমি এটা গোপন রাখার কী আছে স্যার?....স্যার আপনি যদি চান, আমি আপনাকে প্রমাণ দেখাতে পারবো, ৪৪-৪৫ ব্যাচও টাকা পাইছে।”

এবিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, অন্তরের সাথে আমার ইনফরমাল সম্পর্ক। ও আমার অনেক কাছের স্টুডেন্ট। সে হিসেবে তার সাথে অনেক কথাই হয়। তবে তাকে কোনও হুমকি দেয়া হয়নি।

এদিকে রোববার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় “শাখা ছাত্রলীগকে উপাচার্যের টাকা দেয়ার” বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ও শাখা ছাত্রলীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের মধ্যকার একটি ফোনকল কথপোকথন ছড়িয়ে পড়ে। ফোন আলাপে সাদ্দাম হোসেনকে বলতে শোনা যায়, উপাচার্য তার বাসভবনে শাখা ছাত্রলীগের তিনটি গ্রুপের মধ্যে ১ কোটি টাকা ভাগ করে দিয়েছেন। এর মধ্যে সভাপতি জুয়েল ৫০, সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল ২৫ ও তারা (সাদ্দাম) ২৫ লাখ টাকা পেয়েছেন।

তবে ছাত্রলীগকে টাকা প্রদানের অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম। সম্প্রতি সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “টাকা লেনদেনের বিষয়টি মিথ্যা গল্প।”

পিডিএওস/রি.মা