জাবিতে নাট্য সংগঠনের নেতাকে মারধরের অভিযোগ

প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:৫১

জাবি প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) খাবারের হোটেলে মোবাইল ফোনে কথা বলাকে কেন্দ্র করে শাখা ছাত্রলীগের এক নেতার বিরুদ্ধে নাট্য সংগঠনের এক নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত অভিষেক মন্ডল সরকার ও রাজনীতি বিভাগ ৪১ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। অপরদিকে অভিযোগকারী মোঃ নুরুল ইসলাম সাইমুম পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ ৪৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটারের (টিএসসি) সাধারণ সম্পাদক।

শনিবার তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর অভিযুক্তের বিচার চেয়ে লিখিত অভিযোগপত্র দিয়েছেন। এদিন সকাল ১০টার দিকে শহীদ রফিক-জব্বার হল সংলগ্ন একটি খাবারের হোটেলে এ ঘটনা ঘটে বলে তিনি জানিয়েছেন।

নুরুল ইসলাম সাইমুম অভিযোগ করে বলেন, আমি সকালে খাওয়ার জন্য দোকানে বসি। সেখানে অভিষেক মন্ডলও বসেন। খাওয়ার প্রায় শেষ পর্যায়ে আমার মুঠোফোনে কল আসে। এরপর আমি ১৪ সেকেন্ড কথা বলেছি। তখনই তিনি হঠাৎ ধমক দিয়ে বলেন, এই তুই এখানে বসে জোরে জোরে কথা বলিস কেন? যা ওইখানে যা। তখন আমি তাকে এরকম আচরণের কারণ জিজ্ঞাসা করি। তিনি বলেন, তোকে যা বলেছি তাই কর। এরপর তিনি আমার পরিচয় জিজ্ঞাসা করেন। আমি পরিচয় দিলে তা শুনে তিনি আরো ক্ষেপে যান। এরপর তিনি জুনিয়রদেরকে ফোন দেন। পরে খাওয়া শেষ করে হাত ধোয়ার সময় তিনি পেছন থেকে আমার মাথায়, কানে আঘাত করেন। তার সঙ্গে যে লোকটি ছিল, সে আমাকে ধরে রাখে। এরপর তিনি আমার গেঞ্জি ধরে টেনে হেঁচড়ে বাইরে নিয়ে যান। পরে তিনি আশপাশ থেকে কাঠের লাঠি এনে আমাকে আঘাতের চেষ্টা করেন। আমি হাত দিয়ে কোনওক্রমে নিজেকে রক্ষা করি। আমার হাতে এখনো ব্যথা রয়েছে। এরপর তিনি ৪-৫ বার আমার পায়ে আঘাত করেন। পরে ঘটনাটি শুনে জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আশিকুর রহমান সহ কয়েকজন ঘটনাস্থলে আসলে তাদের সাথেও তিনি খারাপ আচরণ করেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে অভিষেক মন্ডল বলেন, দোকানে অনেক জায়গা থাকতেও সে আমরা যেখানে খেতে বসি সেখানে এসে বসে। এরপর মোবাইলে উচ্চস্বরে কথা বলে, সংগঠন নিয়ে খারাপ কথা বলে। খাবার প্লেট, টেবিল এসব শব্দ করে। একারণে আমি তাকে বলি অন্য টেবিল খালি আছে, সেখানে যাও। তখন সে বলে আপনি আমাকে চেনেন? আমি থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক। এরপর আমাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। কোনও মারধরের ঘটনা ঘটেনি। তবে মারামারি হয়েছে বলা যায়।

শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানা বলেন, এটা ব্যক্তি পর্যায়ের একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এর সাথে সংগঠনের কোনও সম্পর্ক নেই।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, অভিযুক্ত যেহেতু সাবেক শিক্ষার্থী তাই প্রশাসন মামলার প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রক্টরিয়াল টিম রিপোর্ট দিয়ে দিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহিন জানান, বিকেলে তিনি আশুলিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এদিকে নুরুল ইসলাম সাইমুমকে ‘মারধরের’ জেরে উন্নয়ন প্রকল্পে দূর্নীতি ও অপরিকল্পনার অভিযোগ তুলে আন্দোলন করা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে উপাচার্যের পূর্ব নির্ধারিত আলোচনা স্থগিত হয়েছে। এছাড়া এ ঘটনার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে আন্দোলনকারীরা।

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম অনিক বলেন, শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনে আলোচনার জন্য ভিসি ম্যাডাম আসেন। আমরাও সেখানে ছিলাম। পরে আমরা তাকে বলি আলোচনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা পরিবেশ দরকার। আন্দোলনকারীদের মারধর করা হবে এটা তো চলতে পারে না। আমরা সাইমুমকে মারধরের বিচার দাবি করি। পরে ভিসি ম্যাডাম প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের নিয়ে বসেন। তারপর আমাদেরকে তাদের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানান। আমরা সাধুবাদ জানাই। তবে এ ঘটনার কারণে আজ (শনিবার) আর আলোচনা হয়নি। তবে আলোচনার দার খোলা আছে। ভিসি ম্যাডাম যখন বলবেন তখন আমাদের আলোচনা হবে।

পিডিএসও/রি.মা