জাবি উপাচার্যের ‘আর্থিক কেলেঙ্কারি’ অভিযোগের বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি

প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০১৯, ২০:১১

জাবি প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্যের বিরুদ্ধে ওঠা অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের “দুই কোটি টাকা” ছাত্রলীগকে বণ্টনের অভিযোগের বিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তসহ তিন দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ঐক্যমঞ্চ।

রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ থেকে ‘দূর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে মিছিলটি শুরু হয়ে মুরাদ চত্বরে সমাবেশের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়। 

সমাবেশে বক্তারা উপাচার্য ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে ওঠা “আর্থিক কেলেঙ্কারির” অভিযোগের বিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত নিশ্চিত করা, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের পাশের তিনটা হল স্থানান্তর করে নতুন জায়গায় দ্রুত কাজ শুরু করা, টেন্ডার ছিনতাইকারীদের বিচারের আওতায় আনা, প্রকল্পের মাস্টারপ্ল্যান পুনর্বিন্যাস ও সকল ব্যয়ের হিসেব জনসম্মুখে প্রকাশ করার দাবি জানান।

জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আশিকুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের মাথা হলো উপাচার্য। আমরা লক্ষ্যে করছি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাথায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধানের বিরুদ্ধে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে। আমরা এটার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি করছি।’

নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস বলেন, ‘শুরু থেকে এই মাস্টারপ্ল্যান নামক জিনিসটা নিয়ে লুকোচুরি চলছে এবং নানা পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাধারণের মতকে উপেক্ষা করে অস্বচ্ছ ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে বিপুল পরিমান টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে আসা এবং খরচ করার পায়তারা করছে।’

প্রকল্পের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য নতুন করে ছাত্র শৃঙ্খলা বিধি যুক্ত করা হয়েছে অভিযোগ করে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শামীমা সুলতানা বলেন, আমরা উন্নয়নের বিরুদ্ধে নই। আমরা উন্নয়ন চাই তবে সেটা হোক পরিকল্পিত উন্নয়ন। কিন্তু আমরা দেখছি তড়িঘড়ি করে উন্নয়ন বাস্তবায়ন করতে যেয়ে লুটপাট শুরু করে দেওয়া হয়েছে।

এসময় দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন সহ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রফ্রন্টের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারা বক্তব্য রাখেন।

এর আগে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে রোববারের বিক্ষোভ মিছিল সহ তিন দিনব্যাপী আন্দোলনের ঘোষণা দেয় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ঐক্যমঞ্চ। সম্প্রতি বিরোধীতা স্বত্ত্বেও গাছ কেটে হল নির্মাণ কাজ শুরু করা, একটি জাতীয় দৈনিকে উপাচার্য কর্তৃক ছাত্রলীগকে টাকা প্রদানের খবর প্রকাশ ও সাংবাদিক হেনস্তার প্রেক্ষাপটে ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সংগঠনটি। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, তারা জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবর থেকে জেনেছেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঁচটি নতুন আবাসিক হল নির্মাণের জন্য বরাদ্দ করা সাড়ে চারশ কোটি টাকা থেকে ‘বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগকে এক কোটি’ এবং ‘কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে এক কোটি’সহ মোট দুই কোটি টাকা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত ৯ আগস্ট উপাচার্যের বাসভবনে এ টাকা দেওয়া হয়। এ সময় শাখা ছাত্রলীগের ৫ নেতা ও উপাচার্যের পরিবারের একাধিক সদস্য সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

পিডিএসও/রি.মা