‘হরিলুটের ফসল দ্রুত ঘরে তুলতেই তড়িঘড়ি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন’

প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০১৯, ১৮:৪২

জাবি প্রতিনিধি

‘হরিলুটের ফসল’ দ্রুত ঘরে তুলতেই তড়িঘড়ি করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। শনিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মলনে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ঐক্যমঞ্চের পক্ষ থেকে এমন দাবি করা হয়েছে। শুক্রবার গাছ কেটে হল নির্মাণ কাজ শুরু করা, একটি জাতীয় দৈনিকে উপাচার্য কর্তৃক ছাত্রলীগকে ২ কোটি টাকা প্রদানের খবর প্রকাশ ও সাংবাদিক হেনস্তার প্রেক্ষাপটে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, আপনারা জানেন কী ভয়ানক অস্বচ্ছতা ও লুটপাটের প্রক্রিয়াতে অগ্রসর হয়েছে এই অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ। শুরুতেই ই-টেন্ডার প্রক্রিয়ায় না গিয়ে সনাতন পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এসময় ছাত্রলীগ কর্তৃক টেন্ডারের দরপত্র ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। পূর্বনির্ধারিত প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেয়ার জন্যই টেন্ডারের দরপত্র ছিনতাই করা হয়েছে, এমন অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে জাতীয় দৈনিকে। শুধু তাই নয়, নিশ্চিতসূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে যে, উপাচার্য নিজে প্রকল্পের টাকা থেকে দুই কোটি টাকা তুলে দিয়েছেন ছাত্রলীগের হাতে। আমরা মনে করি, এই হরি লুটের ফসল দ্রুত ঘরে তুলতেই তড়িঘড়ি করে, সকল মতামত পায়ে ঠেলে স্বৈরতান্ত্রিক কায়দায় বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে এই ‘অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প’।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে “উন্নয়ন প্রকল্পের দুই কোটি টাকা ছাত্রলীগের পকেটে” শিরোনামে খবর প্রকাশিত হয়। দৈনিকটিতে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, “জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঁচটি নতুন আবাসিক হল নির্মাণের জন্য বরাদ্দ করা সাড়ে চারশ কোটি টাকা থেকে ‘বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগকে এক কোটি’ এবং ‘কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে এক কোটি’সহ মোট দুই কোটি টাকা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত ৯ আগস্ট ‘উপাচার্যের বাসভবনে’ এ টাকা দেওয়া হয়। এ সময় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানা সহ পাঁচজন নেতা ও উপাচার্যের পরিবারের একাধিক সদস্য সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এ টাকা সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাধারণ সম্পাদকের বিদ্রোহী গ্রুপের মধ্যে বণ্টন হয়। এর মধ্যে সভাপতি ৫০ লাখ, সাধারণ সম্পাদক ২৫ লাখ ও বিদ্রোহী গ্রুপ পায় ২৫ লাখ টাকা।”

সংবাদ সম্মেলনে মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, রফিক-জব্বার হল সংলগ্ন এলাকায় একটি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া লেকের জমি ও জেনারেটর মাঠের মত উপযুক্ত জায়গা থাকা স্বত্তেও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলকে ঘিরে গাদাগাদি ও প্রকৃতি ধ্বংস করে তিনটি হল নির্মাণ করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ ছাত্র সংগঠন, শিক্ষক সংগঠন সর্বোপরি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের শিক্ষার্থীদের ব্যাপক আপত্তি ও সর্বাত্মক প্রতিবাদ স্বত্বেও প্রশাসন অটল রয়েছে সিদ্ধান্তে।

তিনি আরো বলেন, অর্থ কেলেঙ্কারির সঙ্গে উপাচার্য ও তার পরিবারের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি কেবল তাদেরকে লাঞ্ছিতই করেননি উপরন্তু “ছাত্র শৃঙ্খলা বিধি”র কালা কানুন মোতাবেক শাস্তি প্রদানেরও হুমকি দিয়েছেন। এই আচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চরিত্রের প্রতিই হুমকি স্বরুপ। ফলে এটা স্পষ্ট যে, একটি সর্বাত্মক কঠোর আন্দোলনে যাওয়া ছাড়া আমাদের সামনে আর কোন পথ খোলা নেই এবং প্রশাসনই বিশ্ববিদ্যালয়কে আশু আন্দোলন পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে।

এসময় তিনি তিন দফা দাবি তুলে ধরেন। এগুলো হল- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের পাশের তিনটা হল স্থানান্তর করে নতুন জায়গায় দ্রুত কাজ শুরু করা, মেগাপ্রজেক্টের টাকার দূর্নীতির ব্যাপারে বিচার বিভাগীয় তদন্ত, টেন্ডারের শিডিউল ছিনতাইকারীদের শাস্তি, নির্মাণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত ও সকল ব্যয়ের হিসেব জনসম্মুখে প্রকাশ করা এবং মাস্টারপ্ল্যান পুনর্বিন্যাস করা। এছাড়া সেখান থেকে রোববার দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল, সোমবার গণসংযোগ, গণস্বাক্ষর সংগ্রহ ও পাবলিক টক এবং মঙ্গলবার মশাল মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেন তিনি। 

সংবাদ সম্মেলনে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক এ এস এম আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া, অধ্যাপক রায়হান রাইন, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শামীমা সুলতানা, অধ্যাপক মোহাম্মদ রেজাউল করিম তালুকদার, চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শামীম রেজা সহ সাংস্কৃতিক জোট, সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রফ্রন্টের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

পিডিএসও/রি.মা