বিদ্যাপীঠ ও লেখাপড়া

শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বাড়াতে সরকারের ১৭ পদক্ষেপ

প্রকাশ : ১৬ জুন ২০১৯, ০৮:১৬

গাজী শাহনেওয়াজ

সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যৌন হয়রানি বৃদ্ধি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতি শিক্ষার্থীদের আসক্তি শিক্ষার পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সুরক্ষায় সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। কারণ অনিরাপদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে অভিভাবকদের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্তদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সরকার চাইছে, যেকোনো মূল্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ঝুঁকিমুক্ত রাখতে। শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় মনোযোগী করে তোলার জন্যই আসছে এই ১৭ পদক্ষেপ।

এদিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক পর্যায়ে আনতে করণীয় কী—এ-সংক্রান্ত বেশ কিছু সুপারিশ এসেছে। সেখানে ১৭টি সুপারিশ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, এসব সুপারিশ ও প্রস্তাবনা বাস্তবায়িত হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত হবে।

সূত্র মতে, ভবিষ্যৎ নাগরিকদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে সরকার নানামুখী ইতিবাচক কর্মকা- হাতে নিচ্ছে। লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। তবে, সাম্প্রতিক মাদরাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কারিগরিসহ অন্যান্য পর্যায়ে শিক্ষাব্যবস্থার পরিবেশ অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। এমনকি নিরাপদ হওয়ার বদলে কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ নিয়ে বিচলিত হয়ে পড়েছে সরকারও। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে আলোচনা হয়। কমিটির তৃতীয় বৈঠকের কার্যপত্রেও সেটা উল্লেখ রয়েছে। সেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুরক্ষায় সরকার ১৭ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার কথা আছে, যা কারিগরি শিক্ষা অধিদফতর থেকে সুপারিশ ও প্রস্তাবনাগুলো এসেছে। এ পদক্ষেপগুলো সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যকর করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঝুঁকিমুক্ত ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতে যেসব সুপারিশ করা হয়েছে, সেগুলো হচ্ছে—শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, ইউটিউব ও টুইটার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা, জঙ্গিবাদ নিরোধে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গঠিত কমিটির কার্যক্রম জোরদার করা এবং শিক্ষকদের মধ্য থেকে কাউন্সিলর নিয়োগ করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার ব্যবস্থা করা, নিয়মিত জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শ্রেণিশিক্ষকদের মুক্তিযোদ্ধাদের চেতনা এবং দেশপ্রেমের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেওয়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের জন্য উদ্বুদ্ধ করা, পর্যাপ্ত নিরাপদ সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা রাখা এবং নির্দিষ্ট সময় অন্তর (জানুয়ারি-মার্চ) অগ্নিনির্বাপণের মহড়া দেওয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক স্থাপনা, ওভারহেড লাইন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিদ্যুতের তার ওয়ারিং যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করা, ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত এবং নতুন ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) অনুযায়ী ভূমিকম্প সহনীয় ভবন নির্মাণ করতে হবে, প্রতিষ্ঠানে ছাত্র, শিক্ষক ও কর্মচারীদের ভূমিকম্পের সময় করণীয় সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রদান করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বহুতল ভবনসমূহে বজ্রপাত নিরোধের জন্য লাইটিং অ্যারেস্টার স্থাপন করা, বন্যাপ্রবণ এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ বহুতল ভবন নির্মাণ করা, পাহাড়ি অঞ্চলে অবস্থিত যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভূমিধসের সম্ভাবনা রয়েছে সেগুলোকে বর্ষা আসার আগে ভূমিধস প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা, স্কাউটিং কার্যক্রম জোরদার করা এবং অধিকসংখ্যক শিক্ষার্থীকে এ কাজে সম্পৃক্ত করা ও স্কাউট ও গার্লস গাইডদের প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তামূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা।

শিক্ষা-বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যে পরিবেশ বিরাজ করছে, সেখান থেকে যে ১৭ ধরনের সুপারিশ এসেছে, এগুলো কার্যকর করা সম্ভব হলে ঝুঁকিমুক্ত ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব। এর জন্য সরকারকে কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে। অপরাধ সংঘটিত হলেই প্রকৃত অপরাধীকে খুঁজে এনে শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে, তাহলেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো জবাবদিহির জায়গা আসবে।

পিডিএসও/হেলাল