ছাত্র-ছাত্রী শৃঙ্খলা অধ্যাদেশ

জাবির নতুন ২ ধারার সমালোচনা

প্রকাশ | ২১ মে ২০১৯, ১২:২২

জাবি প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ছাত্র-ছাত্রী শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ হালনাগাদ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আর এই অধ্যাদেশে যুক্ত হওয়া নতুন দুইটি ধারা রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, সাংবাদিক সংগঠনসহ শিক্ষার্থীদের সমালোচনার মুখে পড়েছে। গত ৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বিশেষ সিন্ডিকেট সভায় হালনাগাদ করা ওই অধ্যাদেশের অনুমোদন দেওয়া হয়।

ছাত্র-ছাত্রী শৃঙ্খলা বিধি সংক্রান্ত অধ্যাদেশের ৫-এর (ঞ) নং ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোন ছাত্র/ছাত্রী অসত্য এবং তথ্য বিকৃত করে বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত কোনও সংবাদ বা প্রতিবেদন স্থানীয়/জাতীয়/আন্তর্জাতিক প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক সংবাদমাধ্যমে/ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ/প্রচার করা বা উক্ত কাজে সহযোগিতা করতে পারবে না।’

৫-এর (থ) ধারায় বলা হয়েছে, কোনও ছাত্র-ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীর উদ্দেশে টেলিফোন, মোবাইল ফোন, ই-মেইল, ইন্টারনেটের মাধ্যমে কোন অশ্লীল বা অসৌজন্যমূলক বার্তা প্রেরণ অথবা উত্যক্ত করবে না।’

এই ধারা দুইটির ব্যত্যয় ঘটলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের চোখে ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হবে। এজন্য লঘু শাস্তি হিসেবে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা, সতর্কীকরণ এবং গুরু শাস্তি হিসেবে আজীবন বহিষ্কার, বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার, সাময়িক বহিষ্কার ও পাঁচ হাজার টাকার উর্ধ্বে যেকোন পরিমাণ জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। অবিলম্বে এটা বাতিল করা হোক।

জানা যায়, ২০১৬ সালে উচ্চ আদালতের এক রায়ের পর্যবেক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শৃঙ্খলা বিধিকে ‘দুর্বল ও সেকেলে’ উল্লেখ করে তা হালনাগাদের পরামর্শ দেন। এরপর সে বছরই তৎকালীন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মো. আবুল হোসেনকে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়। সেই কমিটির হালনাগাদ করা শৃঙ্খলা বিধি অধ্যাদেশ হিসেবে সিন্ডিকেট সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে সেই কমিটির সভাপতি সাবেক উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মো. আবুল হোসেন বলেন,  আমরা যখন করেছিলাম, তখন তো কয়েকজন মিলে এটা করেছিলাম। সংসদে পাশ করা যে শাসনতন্ত্র আছে সেখানেও তো অ্যামেন্ডমেন্ট হয়। আমি মনে করি না যে, সবকিছু সঠিকভাবে আসবে, শতভাগ শুদ্ধ হবে। এখন এটা পাশ হয়েছে। এর মধ্যে তর্ক বিতর্ক হবে। কিছু অসংগতি থাকলে পরিবর্তন হবে। তবে যদি কোন বাধ না থাকে, একজন মানুষকে হেয় করার জন্য অসত্য তথ্য দিয়ে বা বানোয়াট কিছু লিখলো তখন এটা রিকোভার করা কঠিন হয়ে যায়।

এদিকে নতুন এ দুই ধারার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও সাংবাদিক সংগঠন নিন্দা জানিয়েছে। পাশাপাশি ফেসবুকেও চলছে ব্যাপক সমালোচনা।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আশিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম পাপ্পু বলেছেন, গণতন্ত্র চর্চার একটি মৌলিক প্লাটফর্ম হলো দেশের বিশ্ববিদ্যালয়। অথচ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শ্রেণির গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করা হলেও যুগের পর যুগ হনন করা হয়েছে শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার। আর এই অধিকার আদায়ের জন্য কেউ যেন কথানবলতে না পারে সেই বন্দোবস্তটি করা হয়ে গেছে। 

এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সভাপতি নজির আমির চৌধুরী জয় ও সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম অনিক বলেছেন, তথ্য অধিকার সুরক্ষায় রাষ্ট্রীয় আইন থকার পরও এই রকম আইন প্রণয়ন অত্যন্ত দূরভীসন্ধীমূলক। এই কালা কানুন প্রণয়নের মাধ্যমে তথ্যের অসততা বা বিকৃতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কতৃক নির্ধারণ করে দেওয়ার ফলে ক্ষমতার বিরুদ্ধে পর্যালোচনামূলক সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্থ হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি প্লাবন তারিক বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতার চর্চাকে বাধাগ্রস্থ করতে ছাত্র-ছাত্রীদের শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশে এই দুইটি ধারা যুক্ত করা হয়েছে। অবিলম্বে এই দুই ধারা বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. আমির হোসেন বলেন, যে ধারা আছে তা তো খুব খারাপ না। এটা একটু নির্দিষ্ট করে দিলে সমস্যা হবে না। কারণ মিথ্যা সংবাদ দিবে কেন। আর প্রবেশিকা অনুষ্ঠানের কারণে আমরা তাড়াহুড়ো করে এটা করেছিলাম। ভিসি ম্যাডাম আসুক, তারপর বসে আলোচনা করে ঠিক করে নেব।

পিডিএসও/হেলাল