বরাবর কেন্দ্রীয় সভাপতি-সম্পাদক

জাবি ছাত্রলীগ নেতাদের খোলা চিঠি

প্রকাশ : ১৭ মে ২০১৯, ০৯:৩৬

জাবি প্রতিনিধি

ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বরাবর খোলা চিঠি দিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার শাখা ছাত্রলীগের অন্তত ২৪ নেতাকর্মী নিজেদের ফেসবুক আইডি থেকে খোলা চিঠিটি পোস্ট করেন। চিঠিতে তারা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদ না পাওয়া সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতাকে পদ দিতে সংগঠনটির শীর্ষ দুই নেতার কাছে আকুতি জানিয়েছেন।

এই পোস্ট দাতাদের মধ্যে জাবি শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ইমরান হোসেন, জহিরুল হক জয়, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ফিরোজুর রহমান সবুজ, সাংগঠনিক সম্পাদক তারেক হাসান প্রমুখ উল্লেখযোগ্য। 

যোগাযোগ করা হলে শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ইমরান হোসেন খোলা চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে শাহরিয়ার মুরসালিন দ্বীপ নামের অন্য এক ফেসবুক ব্যবহারকারী ওই খোলা চিঠি প্রথমে ফেসবুকে পোস্ট করেন বলে তিনি জানান। পদবঞ্চিত ওই নেতা হলেন মুরশিদুর রহমান আকন্দ। ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার আগে তিনি পদ পেতে পারেন বলে গুঞ্জন থাকলেও কমিটিতে তার স্থান হয়নি। খোলা চিঠিটি হুবহু তুলে ধরা হলো—

‘একজন মুরশিদুর রহমান আকন্দ। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং শেরপুর জেলা শাখার সাবেক সদস্য।

আদর্শ হারিয়ে যাওয়া এই যুগে একজন আদর্শবান ছাত্রনেতা ও রণাঙ্গনে লড়া মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মুরশিদুর রহমান আকন্দ। রক্তে যার রাজনীতি, রক্তে যার আদর্শ তিনি মুরশিদুর রহমান আকন্দ। পিতার কাছ থেকে রাজনীতি, আর সেই থেকে তার হাতেখড়ি রাজনীতিতে। সেই থেকে চলছে অবিরাম এবং চলবেই অবিরাম।

পিতা মোখলেছুর রহমান আকন্দ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে রণাঙ্গনে লড়া এক বীর মুক্তিযোদ্ধা, শেরপুর সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের কমান্ডার, শেরপুর জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ শেরপুর জেলা শাখার সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদ এবং শেরপুর বারের দুই বার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক।

পারিবারিকভাবে আওয়ামী রাজনীতির সম্পৃক্ত মুরশিদুর রহমান আকন্দ বাংলাদেশ ছাত্রলীগে পরিশ্রম ও পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড দেখে ২০ জনের কোনো র‌্যাংকিং করা হলেও সেই র‌্যাংকিংয়ে মুরশিদুর রহমান আকন্দ থাকবেন।  

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সম্মানিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে আকুল আবেদন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কর্মফলে যিনি আমাদের ছাত্রলীগের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের একজন তাকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কিংবা সাংগঠনিক সম্পাদক পদে পদায়িত করা হোক। তবেই বাস্তবায়িত হবে আমাদের বঙ্গবন্ধুর ছাত্রলীগ, মমতাময়ী জননী দেশরত্ন শেখ হাসিনা আপার ছাত্রলীগ। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। আশা রাখি, আপনারা আমাদের হতাশ কিংবা নিরাশ করবেন না, মুরশিদ ভাইকে তার কর্মের পুরস্কার দিয়ে।’

এ বিষয়ে মুরশিদুর রহমান আকন্দ বলেন, ‘আমি জাতির পিতার আদর্শে দেশরত্ন শেখ হাসিনার জন্য শখ আহ্লাদ, পরিবারের চাওয়া পাওয়া বিসর্জন দিয়ে জীবন ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছি। কি আর বলার। মমতাময়ী মা শেখ হাসিনা ছাড়া আমাদের দেখার কেউ নেই। এরপরও আমি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ভাইয়ের প্রতি আস্থা রাখছি উনারা নেত্রীর দেয়া ক্রাইটেরিয়া বিবেচনায় আমাকে বিবেচনা করবেন।’ খোলা চিঠি পোস্টকারী নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমরা আজও আমার জন্য যা করেছ সেজন্য আমি পূর্বের ন্যায় আবারও তোমাদের কাছে ঋণী।’

পিডিএসও/হেলাল