বাম ছাত্রনেতাদের প্রতিক্রিয়া

জয়-পরাজয় পরে আগে চাই সুষ্ঠু ও ভয়হীন ভোট

প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | আপডেট : ১০ মার্চ ২০১৯, ১৫:৩৯

নিজস্ব প্রতিবেদক

বহু প্রত্যাশিত ডাকসু নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতারা বলছেন, জয় পরাজয় পরে তার আগে চাই সুষ্ঠু ও ভয়হীন পরিবেশের নির্বাচন। সে রকম নির্বাচনী পরিবেশ পেলেই শিক্ষার্থীরা তাদের পরীক্ষিত প্রার্থীদের পছন্দ করার সুযোগ পাবেন। অপরদিকে, ভোট সুষ্ঠু না হলে বা অন্য কোনো ধরনের অনিয়মের ঘটনা ঘটলে তার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার আভাস দিচ্ছেন বাম ছাত্র নেতারা। সুষ্ঠু ডাকসু নির্বাচনের সংশয়ের পেছনে কর্তৃপক্ষের কিছু বিধি নিষেধকে চিহ্নিত করছেন বাম ছাত্র সংগঠনের নেতারা। তারা বলছেন, হলগুলোতে মিডিয়ার কোনো লোকজনকে লাইভে আসা বা সরাসরি সম্প্রচারে বারণ করা হয়েছে। 

এছাড়া এক ছাত্র নেতা বলেন, নির্বাচন যদি সুষ্ঠু না হলে শিক্ষার্থীরা ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা এলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এর প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। বাম সংগঠনের নেতারা বলছেন, ছাত্রদের স্বার্থের আন্দোলনে একমাত্র পাশে ছিল বাম ছাত্র সংগঠনগুলো। ডাকসু নির্বাচনে সেই ঘটনার প্রভাব পড়তে বাধ্য। বাধাহীন পরিবেশে ভোট প্রয়োগ করতে পারলে বাম সংগঠনগুলো অনেক এগিয়ে থাকবে বলে আশা করেন তারা।

এ বিষয়ে ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসু নির্বাচনে ভিপি প্রার্থী লিটন নন্দী বলেন, ভোট কেন্দ্রে চারটার বেশি ক্যামেরা, মোবাইল ফোন বা কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে যাওয়া যাবে না। প্রশাসনের এ ধরনের পদক্ষেপ একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে অন্তরায়। সেটা আমাদের মনের মধ্যে যথেষ্ট পরিমাণে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার জন্ম দিয়েছে। তবে গ্রহণযোগ্য সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রশাসন কাজ করে যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

বাম ছাত্র সংগঠনগুলো জয়ের ব্যাপারে কেন আশাবাদী এ বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ডাকসু নির্বাচনের ইতিহাসে বলে সব সময় বাম সংগঠনগুলোর বিজয়ের পাল্লা ভারী ছিল। এবারও আমরা বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। শাসক সংগঠনের আধিপত্যমুক্ত ক্যাম্পাস সৃষ্টির আশ্বাসও দিচ্ছেন তারা।

বেশিরভাগ হলে কেন পূর্ণাঙ্গ প্যানেল দিতে পারেনি জানতে চাইলে লিটন নন্দী বলেন, বেশিরভাগ হলগুলোতে ক্ষমতাসীন সংগঠনের দখলদারিত্ব রয়েছে। তাদের তদারকিতে সেখানে চলে সিট বাণিজ্য। কোনো শিক্ষার্থী অনুমোদিত হলে উঠতে চাইলে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের নেতাদের আশীর্বাদ ছাড়া সম্ভব হয় না। সেখানে প্রশাসনের সুষ্ঠু তদারকি নেই। এমন পরিস্থিতি সুষ্ঠু হল-রাজনীতির ক্ষেত্রে অন্তরায়।

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে নির্বাচনে একাত্মতা প্রকাশ করা শিক্ষার্থীদের হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে। ফোন করে নির্বাচন থেকে সরে যেতে বলা হয়েছে। একটা ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি দখলদারিত্ব আধিপত্য রাজনীতি চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি দাওয়ার আন্দোলন করতে গিয়ে বহুবার ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের হামলার মুখে পড়তে হয়েছে।

কাকে আপনাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করছেন, জানতে চাইলে লিটন নন্দী বলেন, যোগ্য ও পরীক্ষিতদের নিয়ে আমরা প্যানেল দিয়েছি। শিক্ষার্থীরাই বেছে নেবে তাদের পছন্দের প্রার্থী ও প্যানেল। এ বিষয়ে আমরা কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তিনি যোগ্যতা ও দক্ষতার মানদ-ে আন্দোলনের পরীক্ষিত সাথীদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

পিডিএসও/রি.মা