জাবিতে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, প্রক্টরসহ আহত ৬

প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:৪৮

জাবি প্রতিনিধি
ama ami

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম আবু সুফিয়ান চঞ্চল ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহমেদ রাসেলের অনুসারীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরসহ ৬ জন আহত হয়েছেন।

বুধবার বিকেলে সংঘর্ষ শুরু হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এছাড়া সংঘর্ষের সময় গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেও বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দু গ্রুপের নেতা-কর্মীদেরকে স্ব স্ব হলে পাঠিয়ে দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। কিছুদিন আগে রাজিব আহমেদ রাসেল শহীদ সালাম-বরকত হলের সামনে আবু সুফিয়ান চঞ্চলকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, বুধবার শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি রাজিব আহমেদ রাসেল তার স্ত্রীকে নিয়ে ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসেন। রাজিব আহমেদ কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আছেন এমন খবর শুনে সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চল নিজের অনুসারীদের সাথে নিয়ে সেখানে যান। এরপর দুই নেতার মধ্যে বাক-বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। এ খবর জানার পর রাজিবের অনুসারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চঞ্চলের আবাসিক হল শহীদ সালাম-বরকত হলে হামলা চালানোর চেষ্টা করে। পরে চঞ্চলের অনুসারীরা হল থেকে বের হয়ে তাদের ধাওয়া দেয়। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় ইট পাটকেলের আঘাতে দু’পক্ষের অন্তত পাঁচজন কর্মী আহত হন। তারা হলেন- ছাত্রলীগ কর্মী সাজ্জাত, বাহার, মোস্তফা, উৎস ও রনি। এছাড়া সংঘর্ষের সময় ছোড়া ইটের আঘাতে আহত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান।

রাজিব আহমেদ রাসেল অভিযোগ করে বলেন, ‘চঞ্চলের নেতৃত্বে আমার উপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। এইসময় আমাকে ও আমার স্ত্রীকে লাঞ্ছিত করে।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চল বলেন, ‘আমার সাথে রাজিব ভাইয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে দেখা হয়। আমি ওনাকে দেখে বলি- আপনি আসলে ক্যাম্পাসে নেতাকর্মীদের মাঝে উত্তেজনা তৈরি হয়, তাই আপনি চলে যান। এই কথা বলার পর ওনি আমার ওপর হামলা করতে ওনার অনুসারীদেরকে ডেকে আনেন। এমন পরিস্থিতিতে আমি ওইখান থেকে চলে আসি। পরবর্তীতে তার অনুসারীরা আমার হলে এসে হামলা চালায়। পরে হলের শিক্ষার্থীরা তাদেরকে প্রতিরোধ করে।’

প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তাতে যে কোনও মুহূর্তে আবার সংঘর্ষ বাঁধতে পারে। তাই আমরা পুলিশ মোতায়ন করেছি।’

পিডিএসও/রি.মা