ডাকসু নির্বাচনে নতুন শক্তি কোটা আন্দোলনকারীরা!

প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৮:৪৭ | আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৮:৫৫

নিজস্ব প্রতিবেদক
ama ami

দেশের মিনি সংসদ খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন দীর্ঘ ২৮ বছর পরে আগামী ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দুই দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল ডাকসু নির্বাচনের প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও এবার নতুন শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে চলেছে কোটা সংস্কার আন্দোলনে গড়ে ওঠা সংগঠন ‘সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।’ এই নতুন শক্তি নির্বাচনে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইতোমধ্যেই কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতারা ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসান আল মামুনসহ একাধিক নেতা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সমান সুযোগ পেলে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতারাই বিজয়ী হবেন বলে দাবি তাদের। অন্যদিকে তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের খবর আলোচনায় এসেছে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে।

প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের বাইরে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতারা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করলে তারা কেমন প্রভাব বিস্তার করবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের অন্তত অর্ধশতাদিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। এ প্রশ্নের জবাবে শিক্ষার্থীরা মিশ্র মন্তব্য প্রদান করেছেন। কেউ বলেছেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতারা নির্বাচনে একটি বড় প্রভাব রাখবে আবার কেউ কেউ বলেছেন কোটা সংস্কার আন্দোলন আর ডাকসু নির্বাচন দুটি ভিন্ন বিষয়।

কিছু শিক্ষর্থীরা বলেন, ‘কোটার নেতারা যদি নির্বাচনে অংশ নেয় তবে সেটি অবশ্যই একটি বড় বিষয়। তারা কোটার মতো বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে। আর সেই আন্দোলন ছিল সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। সুতরাং সাধারণ শিক্ষার্থীরা চাইবে ডাকসুতে তাদের প্রতিনিধি থাকুক।’ তবে ছাত্রলীগ বলছে ভিন্ন কথা। তাদের মতে কোটা সংস্কার আন্দোলন ছিল একটি ইস্যুভিত্তিক আন্দোলন। সেটা শেষ হয়েছে। কোটার নেতা বলে এখন আর কিছু নেই। যদিও কোটার নেতাদের নির্বাচনে আসার ঘোষণায় তারা নড়েচড়ে বসেছে।

ছাত্রলীগ দাবি করেন, ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগের কোনো প্রতিপক্ষ নেই। তাদের যোগ্যতা, দক্ষতা গ্রহণযোগ্যতা অন্য সংগঠনের চেয়ে বেশি।

কোটার নেতাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘প্রশ্নই আসে না। যারা কোটার আন্দোলনকারী তারা এখন চাকরির প্রস্তুতিতে ব্যস্ত আছেন। আর তথাকথিত নেতা বলে গণমাধ্যম যাদের সায় দিয়ে যাচ্ছে তারা তাদের নিজেদের পলিটিক্যাল ক্যারিয়ার গড়ার কাজে ব্যস্ত আছে।’ এ সময় তিনি কোটার নেতাদের পেছনে মৌলবাদীদের ফান্ডিং আছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, ‘সাধারণ ছাত্রদের দাবি নিয়ে আমাদের প্লাটফর্ম গঠিত হয়েছিল। আমরা কেউ নেতা হওয়ার জন্য আসিনি। তবে যেহেতু সাধারণ ছাত্রদের পক্ষ থেকে দাবি এসেছে। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ডাকসু নির্বাচন করার।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। অনেক ছাত্রদের সঙ্গে আমার সংযোগ আছে। আমাদের আত্মবিশ্বাস, মেজরিটি ছাত্র আমাদের সমর্থন দেবেন। তারা কোনো রাজনৈতিক নেতাদের সমর্থন দেবেন না। কারণ তারা সাধারণ ছাত্রদের পক্ষে দাঁড়ান না। ওপর থেকে যেভাবে আসে সেভাবে করে। আমরা পেরেছি যদি নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি হয়, ভোটাররা অবাধে ভোট দিতে পারেন তাহলে আমরা জয়ী হব।’

কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নূর বলেন, ‘ক্যাম্পাসে ছাত্রদের সাধারণ ছাত্র পরিষদ একটি জনপ্রিয় সংগঠন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। কোটা বৈষম্য ও প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে আমরা আন্দোলন করেছি। এসব আমাদের প্রতি সাধারণ ছাত্রদের আস্থা রয়েছে। অনেকে হলে থাকার কারণে আমাদের পক্ষে প্রকাশ্যে নামতে পারছেন না। সাধারণ ছাত্ররা ব্যাপকভাবে আমাদের সঙ্গে থাকবে। যদি প্রশাসন সুষ্ঠু নির্বাচনে ব্যর্থ হয় তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি কলঙ্কিত ইতিহাস হয়ে থাকবে।’

ঢাবির এক সূত্র জানায়, ছাত্রদলের সঙ্গে কোটা আন্দোলনকারীদের ডাকসু নির্বাচন নিয়ে সমাজটা চলতেছে। ছাত্রদল এবং কোটা আন্দোলনকারীরা এক হয়ে ছাত্রলীগের প্রতিপক্ষ হয়ে লড়ার কথা চলতেছে।

পিডিএসও/হেলাল