ডাকসু নির্বাচনের গঠনতন্ত্র সংশোধন নিয়ে মতবিনিময় সভা

প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০১৯, ১৬:১২

ঢাবি প্রতিনিধি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের গঠনতন্ত্রে সংশোধন সম্পর্কে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় ডাকসুর সভাপতির ক্ষমতার ভারসাম্যের দাবি জানিয়েছে ছাত্র সংগঠনগুলো। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সভায় এ দাবি জানানো হয়। 

মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডাকসুর গঠনতন্ত্র সংশোধনের জন্য পাঁচ সদস্যের গঠিত কমিটির আহ্বায়ক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক মিজানুর রহমান। এছাড়াও ডাকসুতে নতুন সম্পাদক পদ সৃষ্টি, নারী নেতৃত্ব তৈরি করার দাবিও তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান তিনি।  

অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, আজকের মতবিনিময় সভায় ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে কয়েকটি প্রস্তাব এসেছে। তাদের প্রস্তাব গুলোর মধ্যে ‘ডাকসুর নতুন সম্পাদক পদ সৃষ্টি, ডাকসুর প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ভারসাম্য ও নারী নেতৃত্ব তৈরি করা।’ 

কারা প্রার্থী বা ভোটার হতে পারবেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে ছাত্র সংগঠনগুলো তাদের প্রস্তাব দিয়েছে। এটির বিষয়ে ছাত্র সংগঠনগুলো আরো সুচিন্তিত মতামত দিবে বলে জানিয়েছে। আপাতত এ বিষয়ে আমরা (প্রশাসন) একটা অবস্থানে এসেছি। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্র, তারাই প্রার্থী এবং ভোটার হতে পারবেন। তবে, নিয়মিত ছাত্র বলতে কি বুঝায়? এ সজ্ঞার বিষয়ে দুই-একটি সংগঠনের মধ্যে মত পার্থক্য রয়েছে। তারা বলেছে এ বিষয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা সাপেক্ষে তারা একমত হবেন। 

‘ডাকসুর গঠনতন্ত্র পরিমার্জন, সংশোধন সম্পর্কে কিছু করণীয় আছে কিনা, তা নিয়ে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের সাথে আমাদের মতবিনিময় সভা ছিলো। এ সভার উদ্দেশ্য ছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে তাদের মতামত গ্রহণ করা। বিদ্যমান গঠনতন্ত্র রয়েছে ডাকসুর। যা ১৯৯৮ সালে সংশোধন হয়েছিল। সেটি এর আগে আর সংশোধন করার প্রয়োজন হয়নি। 

তিনি বলেন, এখন যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে বদ্ধপরিকর সেহেতু কীভাবে একটি সুন্দর নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে পারি, সে লক্ষ্যে গঠিত কমিটি কাজ করছে। এ কমিটিকে দশ কর্ম দিবসের মধ্যেই মতবিনিময় সভার প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা হয়েছে। বিদ্যমান গঠনতন্ত্রের কোথায় কোথায় সংশোধন করা দরকার, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মতামত তারা দিয়েছে। তবে, তাদের মতামত গ্রহণের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। তাদের আগামী সোমবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যার মধ্যে লিখিত মতামত জমা দিতে বলা হয়েছে। তারই প্রেক্ষিতে গঠনতন্ত্রের কি কি সংশোধন দরকার সে সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষের কাছে দিতে পারবো বলে আশা করছি।

পিডিএসও/অপূর্ব