শহীদ বুদ্ধিজীবীদের উদীচীর স্মরণ

প্রকাশ : ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৯:২৪

ঢাবি প্রতিনিধি

১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনী তাদের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এদেশের বুদ্ধিজীবীদের নির্মমভাবে হত্যা করে। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া সকল বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ করে সংগীত পরিবেশন ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী। 

‘বধ্যভূমির অন্ধকার এখনো কাটেনি, এখনো আসেনি সকাল’ স্লোগানকে সামনে রেখে শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে এই আয়োজন করে তারা। বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন ও সংগীত পরিবেশনের পর স্মৃতিচারণ, কবিতা আবৃত্তি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন উদীচীর শিল্পীরা। কবিতা আবৃত্তি করেন রূপা চক্রবর্তী, ইকবাল খোরশেদ ও বেলায়েত হোসেন।

বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সভাপতি ড. সফিউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সাবেক সভাপতি সাংবাদিক কামাল লোহানী, সাধারণ সম্পাদক  জামশেদ আনোয়ার তপন, সহ-সভাপতি অধ্যাপক বদিউর রহমান প্রমুখ। 

১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বরে স্বজন হারানোর স্মৃতিচারণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক শহীদ বুদ্ধিজীবী রাশীদুল হাসানের মেয়ে রোকাইয়া হাসিনা এবং শহীদ সাংবাদিক সিরাজুদ্দিন হোসেনের ছেলে তৌহিদ রেজা নূর। 

সভায় কামাল লোহানী বলেন, যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে দাঁড়িয়ে আমরা কথা বলছি, সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ছিলেন পাক বাহিনীদের মূল টার্গেট। কারণ তারা জানত, যে নতুন রাষ্ট্র দাঁড়াবে সেই নতুন রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য যে মানুষগুলো দরকার হবে তারা হলেন এই শিক্ষকরা। সেদিন (১৪ ডিসেম্বর) যাদেরকে হত্যা করা হয়েছিল তার বিবরণ দিলে ৪৮ বছর পরেও সবাইকে শিউরে উঠতে হবে।

তিনি বলেন, দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের আদর্শের প্রতি আমরা কতটুকু শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে পেরেছি বা পারছি? আমাদের উচিত তাদের আদর্শ বাস্তবায়ন করা। আসুন আমরা শহীদ বুদ্ধিজীবী এবং ৩০ লক্ষ শহীদদের স্মরণ করে আজকে এই শপথ নিই যে বাংলাদেশে যেন কোনো ধর্মান্ধ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে।

জামশেদ আনোয়ার তপন বলেন, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্ম নিরপেক্ষতা, সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িকতার যে স্বপ্ন নিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিল তা আজ অবরুদ্ধ। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর আবার আমরা বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের দিকে ফেরাতে চাই।

পিডিএসও/অপূর্ব