‘অভিনয়কলা মানুষের কল্পনাকে উদ্দীপ্ত করে’

প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:১৩

ঢাবি প্রতিনিধি

জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেছেন, নাটক আমাদের কল্পনাশক্তিকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে। নাটকে দেখা যায়- যিনি রাজার চরিত্রে অভিনয় করেন তারও পাড়ার দোকানে বকেয়া থাকে। অথচ তিনি যখন নাটকে রাজার চরিত্রে অভিনয় করেন তখন মানুষ তাকে কিছু সময়ের জন্যে রাজা বলে মেনে নেয়। রবীন্দ্রনাথ যখন নাটক লেখা শুরু করলেন তখন তিনি নাটকের পেছনের দৃশ্যগুলো উঠিয়ে নিলেন। বললেন, ‘লোকে যদি অভিনেতাকে ওই চরিত্র বলে কল্পনা করে নিতে পারে তাহলে কোথায় নদী, কোথায় প্রান্তর, কোথায় বাড়ি-ঘর এটাও কল্পনা করে নিতে পারে।’ বস্তুত অভিনয়কলা মানুষের কল্পনাকে উদ্দীপ্ত করে।

সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে ১৩তম কেন্দ্রীয় বার্ষিক নাট্যোৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এর উদ্বোধন করেন। ছয় দিন্যাব্যাপী এ নাট্যোৎসবের আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার এন্ড পারফর্ম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ।

ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের নাটক দেখা নিয়ে একটি ঘটনা উল্লেখ করে জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, তখন ‘নীল দর্পন’ নাটকের মঞ্চায়ন হচ্ছিলো। বিদ্যাসাগর গিয়েছেন নাটক দেখতে। নাটকের এক দৃশ্যে ‘পি পি রোগ’ চরিত্রে অভিনয়কারী কৃষক কন্যা ‘ক্ষেত্রমণি’র উপর অত্যাচার করছিলো। তখন বিদ্যাসাগর তার চটি জুতার একটি রোগের দিকে ছুঁড়ে মারলেন। নাটকের শেষে রোগ চরিত্রে অভিনয়কারী সেই চটি জুতা মাথায় নিয়ে বলেছিলেন, ‘এটা আমার অভিনয় জীবনের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার’। নাটক তখন বিদ্যাসাগরের মতো লোককেও ভুলিয়ে দিয়েছিলো। তিনি সত্যি সত্যি এটা অত্যাচারের দৃশ্য মনে করেছিলেন। এইযে, নাটকের একটা ক্ষমতা- যা অলীককে সত্য বলে গ্রহণ করতে সাহায্য করে। দর্শকও অল্প সময়ের জন্য হলেও সম্পূর্ণ নাটকের সঙ্গে একাত্ম হয়ে যাচ্ছেন- এটাই সবচেয়ে বড় ব্যাপার।

নাট্যোৎসবে বিশ্বের কিছু শ্রেষ্ঠ নাটকের অভিনয়ের মঞ্চায়নের ব্যবস্থা দেখে তার ভালো লাগছে বলে জানান জাতীয় অধ্যাপক। তিনি বলেন, ‘ম্যাকবেথ’, ‘ড. ফ্রসটেস’, ‘লোয়ার ডেপথ্স’ এবং আমাদের দেশের নাটক ও নবীন শিক্ষার্থীদের প্রযোজনা- এসব মিলিয়ে এটি সত্যি সত্যিই একটা উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হতে যাচ্ছে।

থিয়েটার এন্ড পারফরমেন্স স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আহমেদুল কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবু মো. দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে অমিত চৌধুরীর নির্দেশনায় আবাহনী পরিবেশনার ‘রায়বেঁশে’ পরিবেশন করেন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা। এরপর প্রদীপ জালিয়ে নাট্যোৎসবের উদ্বোধন করেন অতিথিরা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর থিয়েটার এন্ড পারফরমেন্স স্টাডিজ বিভাগের প্রযোজনায় ও ইসরাফিল শাহিনের নির্দেশনায় উইলিয়াম শেক্সপীয়রের ‘ম্যাকবেথ’ নাটকটি মঞ্চস্থ করা হয়। 
প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে নাটক শুরু হবে। এটি চলবে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ছয় দিনে মোট ২৫টি নাটক মঞ্চস্থ হবে। এর মধ্যে ১৮টি নাটক মঞ্চস্থ হবে টিএসসির উন্মুক্ত প্রাঙ্গনে।

পিডিএসও/অপূর্ব