কারাগারে ভর্তি পরীক্ষা দিলেন ২ শিক্ষার্থী

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০১৮, ১৬:১৮

ইবি প্রতিনিধি

কারাগারে বসেই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথমবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছে ২ ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী। ওই ২ শিক্ষার্থীর নাম জয়নুল ইসলাম ও আল আমিন।

গতকাল রোববার ভর্তি পরীক্ষার প্রথমদিন কুষ্টিয়া কারাগারে বসে বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা দেয় তারা। ঢাকা সিএমএম আদালতের নির্দেশেই তারা কুষ্টিয়া কারাগারে বসে পরীক্ষা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

জানা যায়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয় গতকাল রোববার। ভর্তি পরীক্ষার প্রথম দিনে ধর্মতত্ব অনুষদভূক্ত ‘এ’ এবং মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভূক্ত ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ‘বি’ ইউনিটে প্রথম ও দ্বিতীয় শিফটে কুষ্টিয়া কারাগারে বসে ভর্তি পরীক্ষা দেয় জয়নুল ইসলাম ও আল আমিন নাদের ২ ভর্তিচ্ছু। ইউনিটের প্রথম শিফটে সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত পরীক্ষা দেয় জয়নুল ইসলাম। তার ভর্তি পরীক্ষার রোল নম্বর ৭৭৪০। পরবর্তী শিফটে দুপুর ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত পরীক্ষা দেয় আল আমিন। তার ভর্তি পরীক্ষার রোল নম্বর ৫৪৩। 

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেল সুপার মোস্তফা কামাল জানান, সংঘর্ষের দায়ে ভিন্ন ভিন্ন স্থান থেকে জয়নুল ইসলাম ও আল আমিনকে আটক করে পুলিশ। এরপর তাদেরকে ঢাকার একটি কারাগারে রাখা হয়। পরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ঢাকা সিএমএম আদালতের নির্দেশে তাদেরকে কুষ্টিয়া কারাগারে নিয়ে আসা হয়। এরপর আদালতের নির্দেশেই গতকাল কুষ্টিয়া কারাগারে পরিদর্শক, প্রশ্নপত্র এবং ওএমআর শিট পাঠায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট ভবনে বসে ভর্তিচ্ছুরা যে প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়েছে কারাগারে বসেও ওই শিক্ষার্থীরা একই প্রশ্নে পরীক্ষা দেয়। তবে ভর্তি পরিক্ষার এক ঘণ্টা আগেই কারাগারের উদ্দেশে সিলগালা করা প্রশ্ন এবং ওএমআর শিট নিয়ে যায় পরিদর্শকরা। কারাগারে প্রথম শিফটে পরিদর্শক হিসেবে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আহসানুল আম্বিয়া এবং দ্বিতীয় শিফটে পরিদর্শক ছিলেন আল-ফিকহ্ অ্যান্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নাসির উদ্দিন।
 
এ বিষয়ে ‘বি’ ইউনিটের সমন্বয়কারী বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান জানান, ‘কারাগারে গিয়ে পরীক্ষা নেওয়া আমাদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ ছিল। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বস্ত শিক্ষকদের মাধ্যমে পরীক্ষা নিয়েছি। প্রশ্ন এবং উত্তরপত্র আনা নেওয়ায় পুলিশের ঊর্ধতন একজন কর্মকর্তা নিরাপত্তায় ছিল।’

পিডিএসও/তাজ