প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সমর্থন, জোরালো হচ্ছে ছাত্র আন্দোলন

এসআইইউতে শিক্ষার্থী মারধরের ঘটনায় ক্ষোভ

প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৫:২৬

সিলেট ব্যুরো

ভিসি, প্রক্টর, ট্রেজারার ও কনভেকেশনসহ সকল প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন এবং অবিলম্বে ২ শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার ও বহিরাগত হামলাকারিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দেয়া ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম শেষ হচ্ছে শনিবার। 

এদিকে বেধেঁ দেয়া সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোন সাড়া না দেয়ায় কঠোর কর্মসূচী পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের ‘যৌক্তিক’ দাবিগুলোর সাথে একাত্মতা পোষন করে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছেন সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (এসআইইউ) প্রাক্তণ শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের সামনে বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

কর্মসূচীর মধ্যে শনিবার সন্ধ্যায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গন থেকে মশাল মিছিল বের করা হবে। এর আগে গত বুধবার বিকেল ৩টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক অবস্থা তুলে ধরে প্রেস বিফ্রিংয়ের মাধ্যমে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেন।

শিক্ষার্থীদের দাবি ঘটনার প্রায় চার দিন পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার ও বহিরাগত হামলাকারিদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো আহত দুই শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে সিলেট কতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে।

এদিকে শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে কথা বলতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সাথে দফায় দফায় যোগাযোগের চেষ্টা করলেও প্রশাসন তাদের সাথে কথা বলতে রাজি হচ্ছেন না। এমতবস্থায় চলমান সংকট নিরসনের পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা যতদিন নিশ্চিত করা না হবে ততদিন পর্যন্ত তারা তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। 

গত মঙ্গলবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চলমান ছাত্র আন্দোলন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ভিসি প্রফেসর মনির উদ্দিনের সাথে দেখা করতে যান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল। পরে সেখান থেকে বেরিয়ে আসার আসার সময় ২০/২৫ জনের বহিরাগত একদল ‘সন্ত্রাসীদল’ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর চড়াও হয়। এ সময় তাদের হামলায় ৭ জন শিক্ষার্থী আহত হয়।

দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রো-ভিসির পদ শুন্য রয়েছে। প্রায় সবকটি প্রশাসনিক পদের কার্যক্রম চলছে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিয়ে। স্থায়ী ক্যাম্পাসের জায়গা নিয়েও ঝামেলা চলছিলো বেশ কিছুদিন ধরে। তবে কিছুদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে ২ একর জায়গা লিখে দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়েরে ট্রাস্টিবোর্ডের চেয়ারম্যান শামীম আহমদ। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়টির ট্রাস্টিবোর্ড নিয়েও রয়েছে পাল্টাপাল্টি মামলা। যা আদালতে বিচারাধীন।

এদিকে এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ছাত্র ভর্তিতে সতর্কতা জারি করলে ছাত্র ছাত্রীরা আন্দোলনে নামে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের দাবি মানার আশ্বাস দিলে তারা ক্লাসে ফিরে যায়। কিন্তু দাবি পূরণ না হওয়ায় গত মঙ্গলবার সকাল থেকেই সাধারণ শিক্ষার্থীরা ফের আন্দোলনে নামে।

পিডিএসও/এআই