জাবিতে গ্রন্থাগারের ফ্যান মেরামত করালেন শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২০:২২

জাবি প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের বিভিন্ন স্থানের বেশ কয়েকটি ফ্যান দীর্ঘদিন ধরে প্রায় অকেজো হয়ে আছে। এতে প্রচণ্ড গরমে পড়াশোনায় মনযোগ দিতে পারছেন না শিক্ষার্থীরা। আর তাই শিক্ষার্থীরা গ্রন্থাগারের কর্মকর্তাদের বারবার ফ্যান মেরামতের অনুরোধ জানিয়েছেন। এমনকি লিখিত আবেদনও করেছেন। তবে কাজ হয়নি।

শেষমেষ নিজেরাই অর্থ ব্যয় করে ফ্যান মেরামত করালেন গ্রন্থাগারে অধ্যয়ন করতে আসা কয়েক শিক্ষার্থী। সোমবার ও মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের দ্বিতীয় তলায় এমন ঘটনা ঘটে।

শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে অপর্যাপ্ত ফ্যান রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ফ্যান নেই। এমনকি যেসব পুরনো ফ্যান আছে তার অনেকগুলোই প্রায় অকেজো। কোন মতে ধীরে ধীরে ঘুরছে। সাধারণত যারা ভোরের দিকে আসেন তারা ভালো আসনগুলোতে বসতে পারেন। আর বিপাকে পড়তে হয় একটু দেরিতে আসা শিক্ষার্থীদেরকে।

যেসব জায়গায় ফ্যানের ব্যবস্থা নেই কিংবা যেসব জায়গায় অকেজো ফ্যান রয়েছে তাদের কপালে সেসব জায়গা জোটে। এতে প্রচণ্ড গরমে ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাদের। এজন্য দীর্ঘদিনধরে শিক্ষার্থীরা গ্রন্থাগারের কর্মকর্তাদের কাছে যেসব জায়গায় ফ্যান নেই; সেসব স্থানে নতুন ফ্যান সংযোজন ও নষ্ট ফ্যান মেরামতের দাবি জানিয়ে আসছেন। কর্মকর্তারা লিখিত আবেদন করতে বললে তারা লিখিত আবেদন জমা দেন। তবে গ্রন্থাগারের কর্মকর্তারা ফ্যান মেরামতে দীর্ঘসূত্রীতার কথা জানান। উপায়ন্তর না দেখে কয়েকজন শিক্ষার্থী উদ্যোগ নিয়ে নিজেদের অর্থ দিয়ে নষ্ট ফ্যানে নতুন ক্যাপাসিটর সংযোজন করেছেন।

সরেজমিনে মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে গেলে দ্বিতীয় তলায় একজনকে টেবিলের উপর চেয়ার উঠিয়ে ফ্যান মেরামত করতে দেখা যায়। তাকে সাহায্য করছেন আরো কয়েকজন। পাশেই আরো কয়েকটি ফ্যান ধীরে ধীরে ঘুরছে। জানতে চাইলে অর্থনীতি বিভাগ ৪১ ব্যাচের মিজান বলেন, লাইব্রেরি প্রশাসনকে জানিয়েছেন বহুদিন হলো। কিন্তু কোন কাজ হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই তারা এই ব্যবস্থা নিয়েছেন। আর এটা শুরু করেছেন অর্থনীতি বিভাগ ৪১ ব্যাচের শিক্ষার্থী ওবায়দুল।

ওবায়দুল বলেন, ‘আমি গতকাল ফ্যান মেরামতের জন্য লাইব্রেরির এক কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন নিয়ে গিয়েছি। তিনি বলেছেন, এটা উপরে পাঠাবেন, তারপর কি হয় সেটা বলা যাবে। এতে দীর্ঘদিন সময় লাগবে বলে ওই কর্মকর্তা আমাকে জানিয়েছেন। প্রচণ্ড গরমে ফ্যান ছাড়া পড়াশোনায় মনযোগ দেয়া কঠিন। এর আগেও আমি বেশ কয়েকজনকে নিয়ে বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে গিয়েছি, কাজ হয়নি। তাই নিজেই বাইরের লোক দিয়ে ফ্যান ঠিক করে দিয়েছি।’

এদিকে সোমবার শিক্ষার্থীদের স্ব-উদ্যোগে ফ্যান মেরামত করার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এমন উদ্যোগের প্রশংসা করে গ্রন্থাগারের প্রতি প্রশাসনের ‘অবহেলায়’ ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে গ্রন্থাগারের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার বলেন, ‘ফ্যান তো সব জায়গায় লাগানো যায় না। ফ্যান যদি খুলে পড়ে তাহলে তো সর্বনাশ হয়ে যাবে। আগে একবার একটা ফ্যান খুলে পড়েছিল। তারা যদি বাইরের লোক দিয়ে মেরামত করায় তবে তো আমার সাথে আলোচনা করে করতে পারে। অনেক ফ্যান আমার নিজের টাকায় কেনা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সহযোগিতা করে না। আমারও তো সীমাবদ্ধতা আছে।’

তিনি বলেন, আমাদের কোনো নিজস্ব ইলেকট্রিশিয়ান নেই।ইলেকট্রিশিয়ান থাকলে আমরা এসব কাজগুলো করে দিতে পারি। বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ইলেকট্রিশিয়ান আছে তাদের ডাকলে অনেক সময় পাওয়া যায় না। আমি ইলেকট্রিশিয়ান নেওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেটা বন্ধ করে দিয়েছে।

পিডিএসও/তাজ