কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ শিক্ষিকার ক্লাস বর্জন শিক্ষার্থীদের!

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০:৫১ | আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১:০৬

মেহেদী জামান লিজন

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) ফোকলোর বিভাগের দুই শিক্ষিকার ক্লাস বর্জন করেছে ওই বিভাগের দুটি ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। পরীক্ষায় নম্বর কম দিয়ে রেজাল্টে ধস নামানোর অভিযোগ এনে ক্লাস বর্জন করেছে দুই ব্যাচের সকল শিক্ষার্থী।

২০১৪-১৫ সেশন থেকে চালু হওয়া ফোকলোর বিভাগটিতে বর্তমানে ৪টি ব্যাচ রয়েছে। সম্প্রতি ওই বিভাগের ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ সেশনে দুটি ব্যাচ বিভাগের দুই শিক্ষিকা নিগার সুলতানা ও আতিজা দীল আফরোজের ক্লাস বর্জন করেছে। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের সকল শিক্ষা গ্রহণে এই দুই শিক্ষিকার ক্লাস আর করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে তারা ।

দুই শিক্ষিকা ইনকোর্স পরীক্ষার খাতায় নম্বর কম দেয়া ক্লাসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাজে ব্যবহার করার অভিযোগ তুলেছে শিক্ষার্থীরা। ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থীরা দুই দফা দাবি জানিয়ে বিভাগীয় প্রধান বরাবর স্মারকলিপি জমা দেয়।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে আরো জানা যায়, এর আগেও ২০১৭ সালের ২১ মে বিভাগীয় প্রধান ড. মো. সাইফুল ইসলাম ও তৎকালীন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহীত উল আলমের কাছে অভিযোগ জানালেও তার কোনো ফলাফল পায়নি শিক্ষার্থীরা। বরং তার প্রভাবে শিক্ষার্থীদের ফলাফলে প্রকাশ পেয়েছে ফোকলোর বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের আস্থাভাজন দুই শিক্ষিকার ক্ষোভ এমনটায় জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা ।

বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের ২য় বর্ষ ১ম সেমিস্টারের ফলাফল বিবেচনা করলে দেখা যায়, অন্যান্য কোর্সে তাদের ফলাফল জিপিএ ৩.০০-৩.৭৫ পর্যন্ত। কিন্তু কোর্স নং ২০৩ ও ২০৫-এ অধিকাংশ শিক্ষার্থী জিপিএ ২.০০-২.৭৫ এর মধ্যে । যার প্রভাব পড়েছে সম্পূর্ণ ফলাফলে। যেখানে সর্বোচ্চ ফলাফল হলো ৩.৪৫ যা একজন পেয়েছেন। অকৃতকার্য হয়েছেন ১০ জন যার মধ্যে ২০৩ নং কোর্সে ৬ জন, ২০৩ ও ২০৫ উভয় কোর্সে ৩ জন এবং ২০২ নং কোর্সে ১ জন ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, দুই ম্যাম কি ক্লাস নেয় তা আমরা বুঝি না, ক্লাসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাজে ভাষায় কথা বলেন। নম্বর দিবে কি দিবে না তা তাদের বিষয়। নম্বর নিয়ে কথা বলা যাবে না। ক্লাসে ছেলে শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে বাজে ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বলেন যা সকল শিক্ষার্থীর জন্য মানসিকভাবে বিপর্যয়ের শামিল। দুজনে মিলে আমাদের নম্বর নিয়ে খেলছেন, আমরা শিক্ষার্থীরা নম্বর আতঙ্কে ভুগছি, আমরা মুক্তি চাই।

এ বিষয়ে ফোকলোর বিভাগের প্রভাষক নিগার সুলতানা বলেন, আমার নামে এগুলো মিথ্যাচার। আমরা কেন এমন করবো? তারা তো আমাদের শত্রু না। ওরা ওদের সমস্যা নিয়ে আমাদের কাছে আসে না। আমাদের কাছে আসুক বলুক কি চায় তারা। উপাচার্য স্যার বিষয়টি দেখছেন তাই আমি কিছু বলতে চাই না। সাংবাদিকদের প্রশ্নে একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন নিগার সুলতানা এবং পরিবারের পরিচয় প্রদান করে সাংবাদিকদের ভীত করার চেষ্টা করেন।

২০১৬-১৭  সেশনের শিক্ষার্থীরাও একই সমস্যায় অভিযোগ এনে ক্লাস বর্জন করেছে। যতক্ষণ পর্যন্ত সমস্যার সমাধান না হবে, তারা কোনো ক্লাসে যাবে না বলে জানিয়েছে। পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, ঘোষণা অনুযায়ী ক্লাস থাকলেও ক্লাসে যায়নি শিক্ষার্থীরা।

অন্যদিকে আতিজা দীল আফরোজ বলেন, এটা আমার বা আমাদের সমস্যা না। আর তারা (শিক্ষার্থী) চাইলেই তো সব হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম আছে সেভাবেই সব হবে। ক্লাস করবে না তারা বললেই তো হবে না। আর শিক্ষার্থীদের সবাই এটা চাচ্ছে না।

এ বিষয়ে উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। এটির সমাধান হবে। এদিকে অভিযোগের পরেও দৃশ্যমান কোনো সমাধানের পদক্ষেপ দেখা যায়নি ।

প্রসঙ্গত, নিগার সুলতানা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নৃবিজ্ঞান ও আতিজা দীল আফরোজ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষে প্রভাষক হিসেবে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। যোগদান করার ওই বছরেই একাধিকবার তাদের নামে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ উঠে।

পিডিএসও/হেলাল