ঢাবির গ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন

‘কোথাও কোন অনিয়মের ঘটনা ঘটেনি’

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:৩৩

ঢাবি প্রতিনিধি

কোন ধরনের জালিয়াতি ও অনিয়মের খবর ছাড়াই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের অন্তর্ভূক্ত গ-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। গতবছর সিআইডির মাধ্যমে ডিজিটাল জালিয়াতির একটি চক্রকে আইনের আওতায় আনার কারনে এবার কোন ধরনের জালিয়াতির খবর পাওয়া যায়নি বলে উপাচার্য সাংবাদিকদের জানান।

উপাচার্য বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আমাদের প্রক্টরিয়াল টিম সর্বোচ্চ সতর্ক ছিলো। এবছর আমাদের ঝুঁকি অনেক কম হয়েছে কেননা, ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে একটি ডিজিটাল জালিয়াতি চক্রকে আইনের আওতায় এনেছি। ফলে এটা একটা বড় প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করেছে। আমি কয়েকটি হল ঘুরে পরীক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেছি, প্রশ্নপত্রের মান, পরীক্ষার ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ নিয়ে তারা সন্তুষ্ট বলে আমাকে জানিয়েছে। এখন পর্যন্ত কোথাও কোন অনিয়মের ঘটনা ঘটেনি।

উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে এসে এমবিএ ভবনের ১০ তলায় দুটি কক্ষ পরিদর্শন করেন। এসময় তার সাথে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন ও গ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার সমন্বয়ক অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন। কক্ষ পরিদর্শন শেষে ডিন কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

নির্বিঘ্নভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় উপাচার্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, যে ৫৪ টি কেন্দ্রে পরীক্ষা হচ্ছে সেখানে অত্যন্ত কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে। সে নজরদারি শুধু পরীক্ষার হলে আমাদের সহকর্মীদের পর্যবেক্ষণের নজরদারি তা-ই না সেই পর্যবেক্ষণের বাইরেও আমাদের কঠিন নজরদারি রয়েছে।

পরীক্ষা শেষে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন ভর্তি পরীক্ষার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানী। সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, পরীক্ষা আমাদের যে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য সেভাবে নিতে পেরেছি। অত্যন্ত আনন্দমুখর পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোন ধরনের অঘটন বা অনিয়মের খবর নেই। সফলভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ায় আমরা আনন্দিত। যেকোন অনিয়ম ঠেকাতে আমরা তো আছিই, তার পাশাপাশি আমরা সবসময়ই পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সহায়তা কামনা করি।

পরীক্ষার হলে দায়িত্বে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক দেব প্রসাদ দাঁ প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, পরীক্ষার হলে ঢোকার আগে যখন আমরা ক্যাম্পাসে ঢুকেছি, তখন থেকেই নিরাপত্তার বিষয়টি আমাদের চোখে পড়েছে। শুধু নিরাপত্তা ব্যবস্থাই নয়, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার্থীদের যেভাবে সহযোগীতা করেছে, তা অসাধারণ।

সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এইরকম পরিচ্ছন্ন ভর্তি পরীক্ষা আর হয়না। নিরাপত্তা ব্যবস্থা এত ভালো ছিলো যে, জালিয়াতির কোনো প্রশ্নই ওঠেনা।’

অন্যদিকে, পরীক্ষার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আগত পরীক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের সাথে কথা হয় প্রতিদিনের সংবাদের। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সাথে তাদের বিভিন্ন বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সহযোগিতা করায় তাদের প্রশংসা করেন।

পরীক্ষা সুষ্ঠভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে ঢাবি শাখা ছাত্রলীগ, টিএসসি কেন্দ্র্রীক সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বিভিন্ন এলাকার স্বেচ্ছাসেবক কর্মীদের পরীক্ষার্থীদের সহযোগিতা করতে দেখা যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ‘জয় বাংলা বাইক সার্ভিস’ দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ। নীলক্ষেত মোড়, পলাশী মোড়, শাহবাগ মোড় এবং দোয়েল চত্বর এলাকায় এই সেবা দেয়া হয়। 

এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে ‘তথ্যপ্রদান ও শিক্ষার্থী সহায়তা কেন্দ্র’, ‘সুপেয় পানির ব্যবস্থা’ এবং ‘ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম’ বসানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন এসব তথ্য জানান। 

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও ক্যাম্পাসের বাইরে ৫৪টি কেন্দ্রে শুক্রবার সকাল ১০টায় এই পরীক্ষা শুরু হয়। এক ঘণ্টার এই পরীক্ষায় ১২০ নম্বরের এমসিকিউ প্রশ্নের উত্তর দিতে হয় পরীক্ষার্থীদের। বরাবরের মতই মোবাইল ফোনসহ টেলিযোগাযোগ করা যায় এমন যে কোনো ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয় এবার।

প্রতিটি কেন্দ্রের প্রবেশপথে মেটাল ডিটেক্টরে তল্লাশি করে পরীক্ষার্থীদের হলে ঢুকতে দেওয়া হয়েছে। যে কোনো ধরনের অনিয়ম ও জালিয়াতি ঠেকাতে পরীক্ষার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালত দায়িত্ব পালন করে।

গ’ ইউনিটের ১ হাজার ২৫০টি আসনের বিপরীতে এবার ভর্তিচ্ছুর সংখ্যা ২৬ হাজার ৯৬০ জন। অর্থাৎ প্রতি আসনের বিপরীতে ভর্তি লড়াইয়ে অংশ নেন ২১ জন। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও ক্যাম্পাসের লাগোয়া কেন্দ্র্রগুলোর বাইরে এবার লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল ও কলেজে পরীক্ষা নেওয়ার আয়োজন করা হয়।

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি ইউনিটে ৭ হাজার ১২৮টি আসনের বিপরীতে এবার মোট ২ লাখ ৭২ হাজার ৫১২জন আবেদন করেছে। এই হিসাবে প্রতি আসনের বিপরীতে পরীক্ষার্থী থাকছেন ৩৮ জন।

২১ সেপ্টেম্বর খ-ইউনিট, ২৮ সেপ্টেম্বর ক-ইউনিট, ১২ অক্টোবর ঘ-ইউনিট, ১৫ সেপ্টেম্বর চ- ইউনিটের সাধারণ জ্ঞান অংশের এবং ২২ সেপ্টেম্বর চ-ইউনিটের অঙ্কন অংশের ভর্তি পরীক্ষা হবে। ভর্তি পরীক্ষার আসন বিন্যাস ও ফলাফল  বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট (admission.eis.du.ac.bd) থেকে জানা যাবে।

পিডিএসও/এআই