র‌্যাগিংয়ে বাধা দেওয়ায় চবিতে সাংবাদিককে মারধর

প্রকাশ | ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১:০৪

চবি প্রতিনিধি
আহত সাংবাদিক তুহিন (ফাইল ছবি)

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) র‌্যাগিংয়ে বাধা দেওয়ায় এক সাংবাদিককে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। 
সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় রেলস্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিক মিনহাজ তুহিন একটি জাতীয় দৈনিকের চবি প্রতিনিধি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্য। 

মিনহাজ তুহিন জানান, দুপুর দেড়টার শাটল ট্রেনে সাধারণ এক শিক্ষার্থীকে সিট থেকে তুলে দিয়ে র‌্যাগ দিচ্ছিলেন ইংরেজী বিভাগের ১৩-১৪ সেশনের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান রুপক। এসময় হেনস্তার কারন জানতে চাইলে রুপক আমাকে মারধর করতে থাকে। 

আহত সাংবাদিক আরও জানান, সাংবাদিক পরিচয় দেয়ার পরও রুপকের নেতৃত্বে কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী আমাকে এলোপাতাড়ি কিলঘুষি ও লাথি মারে। এরা হলো ইংরেজী বিভাগের ১৬-১৭ সেশনের আলী তানভীর, মার্কেটিং বিভাগের ১৭-১৮ সেশনের মাহিম হোসাইন , ইতিহাস বিভাগের ১৬-১৭ সেশনের রাজিবুল হাসান পলাশসহ আরও কয়েকজন। এরা চবি ছাত্রলীগের বিজয় গ্রুপের আবু সাঈদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তাৎক্ষণিকভাবে আমি সহকারী প্রক্টর লিটন মিত্রকে বিষয়টি অবহিত করি। 

এ বিষয়ে চবি ছাত্রলীগের সাবেক কমিটির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আবু সাঈদ বলেন, সামান্য ভুল বোঝাবুঝি থেকে ঘটনাটি ঘটেছে। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে। 

চবি মেডিকেল সেন্টারের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শুভাশীষ চৌধুরী বলেন, আঘাতের ফলে তার থুতনী ও কানের ভিতরের অংশে রক্তপাত হয়েছে। উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, কতিপয় নামধারী ছাত্র ক্যাম্পাসে অরাজকতা সৃষ্টি করছে। ট্রেনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও সাংবাদিককে মারধরে জড়িতদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই একাডেমিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও মারামারির ঘটনায় রুপককে ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার করেছে চবি প্রশাসন। এছাড়াও রুপকের বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। 

বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ ও প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি। 


পিডিএসও/এআই