গভীর রাতে ক্লাস বন্ধের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৭:৩৪ | আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৭:৪১

বেরোবি প্রতিনিধি

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ক্লাস নেন। রোববার তিনি রাত বারোটার দিকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের ক্লাস শেষ করেন। গভীর রাতে ক্লাসশেষে মেসে ফেরার পথে ছিনতাইকারীর হামলায় এক শিক্ষার্থী আহত হন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। তবে ছিনতাইকারীর হামলায় আহত শিক্ষার্থীর কোন তথ্য জানা যায়নি।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানাজানি হলে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে করে। পরে গভীর রাতে ক্লাস বন্ধের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও করে শিক্ষার্থীরা।
 
জানা যায়, রোববার রাত বারোটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের ক্লাস শেষ করেন উপাচার্য ড. নাজমুল আহসান। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই হল থেকে শিক্ষার্থীরা নেমে এসে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। 

মিছিলটি ক্যাম্পাসের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এসময় শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও করে। পরে বেরোবি ছাত্রলীগের সভাপতি তুষার কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক নোবেল শেখ সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। 

রাত দেড়টার দিকে প্রক্টরিয়াল বডি উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হিসেবে ৬ শিক্ষার্থী উপাচার্যের সাথে দেখা করেন। উপাচার্য ক্যাম্পাসে অবস্থান না করে মাঝেমধ্যে ক্যাম্পাসে এসে গভীর রাত পর্যন্ত ক্লাস নেওয়ার অভিযোগ তোলেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পোমেল বড়ুয়া বলেন, উপাচার্য স্যার দীর্ঘদিন ধরে গভীর রাতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিয়ে যাচ্ছেন। এতে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখিন হচ্ছে। বিশেষ করে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে মেয়েদের ঝুকিটা বেশি। যদি কোন শিক্ষার্থীর কোন দূর্ঘটনা ঘটে তবে এর দায়ভার নেবে কে? তাই আমরা চাই শিক্ষার্থীদের এধরনের হয়রানি থেকে মুক্তি দেয়া হোক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জুয়েল আহমেদ বলেন, উপাচার্য স্যার যদি সময় পান তাহলে তিনি দিনে ক্লাস নিলে শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো হতো। রাতে শিক্ষার্থীদের হয়রানি করে গভীর রাত পযর্ন্ত ক্লাস নেয়ার কোন দরকার আছে বলে মনে হয়না। 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি তুষার কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক নোবেল শেখ বলেন, ‘উপাচার্য স্যার প্রায় সময়ই গভীর রাতে ক্লাস নেন। এমন অবস্থায় শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। বিভিন্ন সময় নানান দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে তারা। এটা মানা যায়না। তার প্রতিবাদে আমরা বিক্ষোভ করছি।’ শিক্ষার্থীর আহত হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে তারা বলেন, এরকম কোন ঘটনা আমাদের জানা নেই।

আহত শিক্ষার্থীর বিষয়টি অস্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আবু কালাম ফরিদ উল ইসলাম বলেন, এরকম কোন ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা উপাচার্য স্যারের সাথে কথা বলেছে। 

উপাচার্য জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীরা না চাইলে রাতে ক্লাস নেওয়া হবেনা। পরে রাত আড়াইটার দিকে অবরোধ তুলে নেন শিক্ষার্থীরা। 

পিডিএসও/এআই