শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফটক বন্ধ করে জমজমাট ব্যবসা

প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২০:১০ | আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২০:২৫

জবি প্রতিনিধি

সারি সারি বাস, রিকশা ও লেগুনা রাস্তায় দাঁড়ানো। পাশেই মেরামতের দোকান। রাস্তা, ফুটপাথ দখল করে চলছে গাড়ী মেরামত। গাড়ীর ছোট ছোট সরঞ্জাম বিক্রির দোকান। আছে সেলুন ও খাবার হোটেলও। কয়েক গজ সামনে তাকালেই দেখা যাচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক (গেট)। শুধু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটই নয়; পুরান ঢাকার বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ঘুরে দেখা গিয়েছে একই চিত্র।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের রাস্তা দিয়ে একটু সামনে গেলেই দেখা যায়, দক্ষিণমুখী দ্বিতীয় ফটক বন্ধ করে সদরঘাট সড়কের ওপর অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে লেগুনাস্ট্যান্ড। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদরঘাটের দিকে যেতে লিয়াকত এভিনিউ ধরে একটু সামনে গেলেই হাতের বাঁয়ে একটি সরু গলিপথের শেষ মাথায় বাংলাবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এ স্কুলের পাশেই রয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল। শুধু এই একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়; জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে পুরান ঢাকার কবি নজরুল সরকারি কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, ঢাকা মহানগর মহিলা কলেজ, ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল, হিড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, ঢাকা গভর্নমেন্ট মুসলিম হাই স্কুল, সেন্ট গ্রেগরি স্কুল, সেন্ট ফ্রান্সিস স্কুল, কে এল জুবিলী স্কুল, হাজী মাজহারুল হক উচ্চ বিদ্যালয়, সুরিটোলা উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে দখলের এমন চিত্র এখন নিত্য দিনের। 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণমুখী দ্বিতীয় গেট বন্ধ করে দীর্ঘদিন ধরে লেগুনাস্ট্যান্ড গড়ে ওঠার অভিযোগ রয়েছে। লেগুনা মালিক সমিতির লোকজন স্থানীয় ছাত্রনেতা-প্রভাবশালী এবং পুলিশকে হাত করে দীর্ঘদিন ধরে এই স্ট্যান্ড টিকিয়ে রেখেছেন।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটক অবরোধ করে এবং ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলের দেয়াল ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই লেগুনাস্ট্যান্ড সদরঘাট সড়কের একাংশের অর্ধেকটাই দখল করে আছে। ফুটপাত দখল করে কাউন্টার, গ্যারেজ ইত্যাদি স্থাপনাও গড়ে তুলছে পরিবহন মালিক সমিতি। এলোপাতাড়িভাবে সড়কের ওপর লেগুনা রাখার কারণে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। সদরঘাট সড়কে যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে এই স্ট্যান্ডকে দায়ী করেন কয়েকজন পথচারী।

ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলের ফটকের সামনে রয়েছে খাবার হোটেল। এছাড়া কবি নজরুল সরকারি কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, ঢাকা মহানগর মহিলা কলেজ ও ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলের ফটকের সামনে ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকান, চা-সিগারেটের স্টল গড়ে উঠেছে।

ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. আবু সাঈদ ভূঁইয়া প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘একরকম ফটক বন্ধ করেই লেগুনাস্ট্যান্ড ও খাবারের দোকান বসিয়ে রাখা হয়েছে। এতে করে শিক্ষার্থীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। আমরা বারবার সিটি কর্পোরেশনকে জানিয়েছি। কিন্তু আমাদের আবেদন ফলপ্রসূ হচ্ছে না। শুনেছি এলাকার প্রভাবশালী নেতারা এখান থেকে চাঁদা আদায় করে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পরিবহন মালিক সমিতির এক সদস্য জানান- বাহাদুরশাহ, মহানগর ও রাজধানী পরিবহন নামে পাঁচটি যাত্রাপথে (রুটে) লেগুনা চললেও অনুমতি আছে মাত্র দুটি যাত্রা পথের। মালিক সমিতির লোকজন স্থানীয় ছাত্রনেতা-প্রভাবশালীদের ও পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করে দীর্ঘদিন ধরে এই স্ট্যান্ড টিকিয়ে রেখেছেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে বাহাদুরশাহ পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুস সালাম বলেন, ‘আমাদের এখানে কোনো প্রকার বাড়তি চাঁদা নেওয়া হয় না। তবে, এখানে লাইনম্যান ও দশজন সুপারভাইজার কাজ করে। তাদের বেতনের জন্য সামান্য পরিমাণ অর্থ মালিকদের সম্মতিক্রমে সবাই দিয়ে থাকে। স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।’


পিডিএসও/ এআই