ঢাবি’র ৫১তম সমাবর্তন : বঞ্চিত হচ্ছেন অধিভুক্ত ৭ কলেজের ১০ হাজার শিক্ষার্থী?

প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:৩৭

অনলাইন ডেস্ক

ঢাবি’র ৫১তম সমাবর্তনে এবারই প্রথম অংশ নিতে যাচ্ছেন গত বছর রাজধানীর সাত সরকারি কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভূক্ত হওয়া কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরা । অধিভুক্ত হওয়ার পর এই কলেজগুলোর স্নাতক-২০১৫ এবং স্নাতকোত্তর-২০১৪ সালের পরীক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ হয়েছে। অথচ সমাবর্তনে স্নাতক-২০১৫ সালের পরীক্ষার্থীদের অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলেও অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই স্নাতকোত্তর-২০১৪ সালের পরীক্ষার্থীদের। কিন্তু কেনও সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না? এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া নোটিশেও এ বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। আর এ কারণে দ্বিধায় রয়েছেন তারা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ– এই ব্যাচটিকে যদি সমাবর্তনে ডাকা না হয় তাহলে তাদেরকে সমাবর্তন থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এদিকে ঢাবি প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তারা জানিয়েছেন, কেউ বঞ্চিত হবে না। তাদেরকে আগামী সমাবর্তনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অধিভুক্ত কলেজের অন্তত দশ হাজার শিক্ষার্থী। মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের অংশ নেয়ার সুযোগ দেয়া হয়নি। সুযোগ দেয়া হয়েছে অনার্সের শিক্ষার্থীদের। এছাড়া যাদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়েছে তাদের ঢাবির খেলার মাঠে নয় নিজ নিজ ক্যাম্পাসে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সমাবর্তনে অংশ নেয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছে। অথচ ঢাবির অধিভুক্ত অন্য সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীকে ওই খেলার মাঠে সমাবর্তনে অংশ নেয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছে। এমন আজব নিয়ম নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গত ১২ আগস্ট প্রকাশিত সমাবর্তন বিষয়ে একটি নোটিশে বলা হয়েছে, ঢাবি অধিভুক্ত সাত কলেজের স্নাতক শ্রেণির ২০১৫ সালের পরীক্ষার্থীরা এই সমাবর্তনে অংশ নিতে পারবেন। অথচ ২০১৪ সালের মাসটার্সের পরীক্ষার্থীদের বিষয়ে কিছু বলা নেই। অথচ এই ব্যাচটিও ঢাবি অধিভুক্ত হওয়ার পর মাসটার্স পাস করেছেন। এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসহায়ত্ব বিরাজ করছে।

ঢাকা কলেজ ও ইডেন কলেজের স্নাতকোত্তর ২০১৪ সালের ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গত মাসের ১২ তারিখে সমাবর্তনের জন্য একটি নোটিশ দিয়েছে। ওই নোটিশে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র স্নাতক ২০১৫ সালের শিক্ষার্থীরা সমাবর্তনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। কিন্তু আমরা কী দোষ করলাম?’

ইডেন কলেজের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ২০১৪ সালের মাসটার্স পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে গত মার্চ মাসে। অথচ আমাদেরকে সমাবর্তনের জন্য ডাকা হয়নি। নোটিশে তাদের অংশ গ্রহণের বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। এ নিয়ে তারা দ্বিধায় রয়েছেন। তারা আদৌ সমাবর্তনে অংশ নিতে পারবেন কিনা সংশয়ে রয়েছে। তারা বলেন, যারা স্নাতক পাস করেছেন তারা অংশ নিতে পারলেও আমরা কেন পারবো না? তাছাড়া, স্নাতক পাস করা শিক্ষার্থীদের তো আগামীবার অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আমরা তো স্নাতকোত্তর পার করেছি। সে হিসেবে অগ্রাধিকারতো আমাদের।


 
শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, ঢাবি প্রশাসন সমাবর্তনের নোটিশ দিয়েছে গত মাসের ১২ তারিখ। ওই নোটিশে বলা হয়েছে, আগামী ১২ আগস্ট রোববার সকাল ৯টা থেকে আগামী ২ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত সমাবর্তনে অংশ নেওয়ার জন্য অনলাইনে আবেদন করা যাবে। অথচ এই সময়ের প্রায় পুরোটা জুড়ে কলেজগুলো বন্ধ ছিল। আমরা আমাদের কলেজগুলো থেকে পৃথক নোটিশ পেয়েছি অনেক পরে। পরে কলেজে ফিরে আবেদন করতে করতে আবেদনের সময় পার হয়ে গেছে।

তিতুমীর কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, ঢাবির অধিভুক্ত প্রায় ২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাবির খেলার মাঠেই সরাসরি অংশ নেবে সমাবর্তনে। আর সাত কলেজের শিক্ষার্থীদেরকে তাদের নিজ নিজ কলেজ ক্যাম্পাসেই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশ নেওয়ার জন্য নোটিশে বলা হয়েছে। কিন্তু কেন এমন বৈষম্য? আমরা কী এভাবে সব সময় বৈষম্যের শিকার হবো?

কবি নজরুল কলেজের অধ্যক্ষ আইকে সেলিমুল্লাহ খোন্দকার বলেন, ঢাবি অধিভুক্ত হওয়ার পর অনার্সের একটি ব্যাচ ও মাসটার্সের একটি ব্যাচ পাস করেছে। অথচ শুধুমাত্র অনার্সের একটি ব্যাচকেই সমাবর্তনে ডাকা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে বিষয়টি নিয়ে জানার জন্য চেষ্টা করেও স্পষ্ট করে কিছু জানতে পারিনি।

তিনি আরও বলেন, কেন, কী কারণে মাসটার্সের এই ব্যাচটিকে বাদ রাখা হলো বুঝতে পারছি না। সাত কলেজে এই ব্যাচে ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী হবে বলেও আনুমানিক ধারণা দেন এই অধ্যক্ষ।

ঢাবির বাণিজ্য অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম বলেন, মূলত সাত কলেজ এবার ঢাবির অধিভুক্ত হওয়ার কারণে বিশাল একটি অংশ সমাবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছেন। এছাড়া প্রায় দেড় বছর পরে এই সমাবর্তনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফলে প্রায় ২২ হাজার শিক্ষার্থী এই সমাবর্তনে অংশ নিচ্ছে। হয়ত এ কারণেই এবার কোনও একটি ব্যাচকে সমাবর্তনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি।