‘শিক্ষকরা রাজনীতি করে পদে যাওয়ার জন্য’

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০১৮, ১৭:৪১

জাবি প্রতিনিধি

শিক্ষকরা পদে যাওয়ার জন্য রাজনীতি করেন বলে মন্তব্য করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান।

তিনি বলেছেন, ‘আমি কোন রাজনৈতিক দল করি সেটা নিয়ে মাথা ব্যথা নেই। সেটা আমার ব্যক্তি স্বার্থের পর্যায়ে চলে আসে। বাংলাদেশে তাই ই হয়। মাস্টাররা রাজনীতি করে একটি বিশেষ পদে যাওয়ার জন্য। এতে আর কোন সন্দেহ নেই। আপনারা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে তাকালেই দেখবেন, বিশ্ববিদ্যালয় যারা পরিচালনা করে; অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা রাখে কিনা সে প্রশ্ন আসে।

অধ্যাপক জাফর ইকবালকে সমালোচনা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য পরিষদ। আমি সে সমালোচনাকে ধিক্কার জানাই। যিনি উপযুক্ত তার গায়ে কেন লাগে? যিনি উপযুক্ত নন তার ক্ষেত্রে কথাটি প্রযোজ্য।’

বুধবার সকালে নিরাপদ সড়কের দাবি বাস্তবায়ন এবং আন্দোলন চলাকালে সহিংসতার ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার সংলগ্ন প্রধান সড়কে এ মানববন্ধন শুরু হয়।

এ সময় তিনি আরো বলেন, ‘গণতন্ত্র যদি রক্ষা করতে হয় তবে শক্তিশালী বিরোধী দল দরকার। আজকে প্রমাণ হয়েছে- এই সরকারের আচরণ শুধুমাত্র বিরোধী দলের জন্য ক্ষতিকর নয়, এদেশের জন্য ক্ষতিকর এবং আওয়ামীলীগের জন্য ক্ষতিকর। এই দলটি কী বুঝতে পারছে এই দেশটি স্বাধীন হওয়ার সময় তাদের ভূমিকা?

এক সময় পাকিস্থানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে তাদের যে ভূমিকা ছিল তারা কি সেটা ভুলে গেছে? তাদের সেই ভূমিকা আজকে কোথায়? যারা এই দলটিকে ভালোবাসেন, যারা কোন সুবিধা নেওয়ার জন্য এই দল করেন না তাদেরকে আঘাত করছে গুটি কয়েক মানুষ যারা এই দলকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় টিকে আছেন।’

মানববন্ধনে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, জাবি শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি অধ্যাপক রাশেদা আখতার, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক বশির আহমেদ, অর্থনীতি প্রক্টর সিকদার মো. জুলকারনাইন, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শামীমা সুলতানা, ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক এটিএম আতিকুর রহমান, নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক মো. শামছুল আলম (সেলিম), পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমগীর কবীর, লোক প্রশাসন বিভাগের সভাপতি জেবউননেছা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

পিডিএসও/তাজ