নাগরিক সমাবেশে সড়ক নিরাপত্তায় ২১ দফা দাবি

প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০১৮, ১৯:৩০

অনলাইন ডেস্ক

সড়কে নিরাপত্তার দাবিতে নাগরিক সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)সহ ৩২ টি সংগঠনের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত জাতীয় জাদুঘরের সামনে তারা এই সমাবেশ ও মানববন্ধন করেন। সমাবেশ থেকে তারা ২১ দফা দাবি উত্থাপন করেন। এছাড়াও সেখানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের  ৯ দফা দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানানো হয়।

নাগরিক সমাবেশ থেকে উত্থাপিত ২১ দফা দাবিগুলো হলো : ১. নিহতদের পরিবার এবং আহতদের চিকিৎসাসহ ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে, ২. দূর্ঘটনার জন্য দায়ীদের কঠোর শাস্তি প্রদান করতে হবে, ৩. সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্তদের দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদানকারী ও আচরণকারীদের সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করতে হবে, ৪. শিক্ষার্থীদের নিরাপদে যাতায়াতের জন্য প্রতিটি কমিউনিটিতে সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিশ্চিত করতে হবে যাতে প্রতিদিনই তাদের প্রধান সড়ক পার হতে না হয়, ৫. চলমান আন্দোলনে প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের উপর নির্যাতন বন্ধ করতে হব, ৬. মোটরযান অধ্যাদেশ ১৯৮৩ এর যুগোপযোগী সংশোধন ও বাস্তবায়ন করতে হবে, ৭. পথচারী ও অযান্ত্রিক যানে নিরাপদ চলাচলের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে হবে,  ৮. উল্টোপথে গাড়ি চালানো বন্ধ করতে হবে, ৯. যথাযথভাবে ও দুর্নীতিমুক্ত প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান সড়ক পরিচালনা ও মেরামত করতে হবে, ১০. ভূয়া লাইসেন্সধারী চালকদের নিষিদ্ধ ও শাস্তি প্রদান এবং হেলপার দিয়ে গাড়ি চালালে কঠোর সাজার ব্যবস্থা করতে হবে, ১১. পরিবহন মালিকদের জবাবদিহিতার আওতায় আনয়ন এবং অপরাধের ভিত্তিতে শাস্তির বিধান চালু করতে হবে, ১২. ত্রুটিযুক্ত ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় চলাচল বন্ধ করতে হবে, ১৩. গাড়ি চালকদের ট্রিপ এর পরিবর্তে মাসিক বেতনে নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে, ১৪. সড়ক ব্যবহারকারী সকলের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে, ১৫. যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, ১৬. বিআরটিএ কে দালাল ও দুর্নীতিমুক্ত এবং কার্যকর করতে হবে, ১৭. রেল ও নৌ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণ এবং সড়ক নির্ভরতা কমাতে হবে, ১৮. প্রশিক্ষিত, দক্ষ ড্রাইভার তৈরি করতে প্রতিটি জেলায় প্রশিক্ষণ একাডেমি চালু করতে হবে, ১৯. যাত্রী, যানবাহনের মালিক, চালক, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ সকলের সহযোগিতায় সড়ক দূর্ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, ২০, পেশাদার চালকের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে মালিক পক্ষ থেকে নিয়োগপত্র প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে এবং ২১. পরিবহণ ব্যবস্থা মনিটরিং করার জন্য নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি সমন্বয়ে স্থানীয় ভিত্তিক তদারকি কমিটি গঠন করতে  হবে।

মানববন্ধনে লেখক ও কলামিস্ট আবুল মকসুদ বলেন, এটা সরকার বিরোধী আন্দোলন নয়। শিক্ষার্থীরা চায় মানুষ নিরাপদে সড়কে চলাচল করুক। নিরাপদ সড়কের দাবিতে শত টক শোতেও সরকারের টনক নড়েনি। কিন্তু ছাত্ররা রাস্তায় নেমে আসলে সরকারের টনক নড়ে। এই আন্দোলনে শুধু ছাত্ররা জড়িত নয়। তাদের স্বজনরাও এই আন্দোলনকে সমর্থন করছেন।
তিনি বলেন, ধর্ম, বর্ণ ও দল নির্বিশেষে সকল নাগরিকের এই আন্দোলনে যেন কোমলমতিরা কোন নিপীড়নের স্বীকার না হয়। তারা যাতে শান্তিতে ক্লাসে ফিরে যেতে পারে সেজন্য সরকারের কাছে আহ্বান রইলো।

মানববন্ধনে ডক্টরস পর হেলথ এন্ড এনভায়রনমেন্ট, গ্রীনওয়েভস, ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট, ব্লু প্ল্যানেট ইনিশিয়েটিভ, নাগরিক উদ্যোগ, তরুপল্লব, নিরাপদ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ-স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি, ফ্যামিলিজ ইউনাইটেড এগেউনস্ট রোড অ্যাকসিডেন্টস, সুন্দর জীবন, ঢাকা যুব ফাউন্ডেশন, পুরান ঢাকা পরিবেশ উন্নয়ন ফোরম, পুরান ঢাকা নাগরিক উদ্যোগ, আদি ঢাকাবাসী ফোরাম, বিসিএইচআরডি, নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম, ওয়ার্ক ফর গ্রীন বাংলাদেশ, এইচডিডিএফ, সিডিপি, ষোলো আনা ফাউন্ডেশন, প্রভাতী সমাজ উন্নয়ন সংস্থা, যাত্রী কল্যাণ সমিতি, বাংলাদেশ ঘুড়ি ফেডারেশন, এইড ফাউন্ডেশন, ইকো সোসাইটি, হামিম সাজদাহ্, সাইকেলারস অব বাংলাদেশ, মাস্তুল ফাউন্ডেশন, প্রত্যাশা মাদকবিরোধী সংগঠন, স্কেটিং ৭১ এবং নারীগ্রন্থ প্রবর্তনা সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

পিডিএসও/রানা