আন্দোলনকারীদের মনোভাব জঙ্গি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে মিল : ঢাবি উপাচার্য

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০১৮, ১৯:২৬ | আপডেট : ০৮ জুলাই ২০১৮, ১৯:৩৯

ঢাবি প্রতিনিধি

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের মনোভাবের সাথে জঙ্গি কর্মকান্ডের মিল আছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান।
তিনি বলেন, কোটা আন্দোলনকারীরা ফেসবুক লাইভে এসে জঙ্গিদের মতো করে ভিডিও বার্তা দিয়ে কর্মসূচি বা কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করে। তাদের এমন মনোভাবের সঙ্গে জঙ্গি কর্মকান্ডের মিল আছে। রবিবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

উপাচার্য বলেন, অনেক সুস্পষ্ট ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয় যে একটি বড় অপশক্তি ক্রিয়াশীল আছে। উদাহরণ হিসেবে বলবো ফেসবুক লাইভে তাদের ভিডিও বার্তার কথা। আমার কয়েকজন সহকর্মীর কাছ থেকে একটি লাইভ ভিডিও দেখলাম। দেখার পর মনে হলো জঙ্গিগোষ্ঠী তালেবান ও বোকোহারাম যেমন ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বিভিন্ন উসকানি ও নাশকতার অপপ্রয়াস নেয়, কোটা আন্দোলনকারীদের ভিডিওতে ঠিক তেমন একটি প্রতিচ্ছবি দেখতে পেয়েছি। 

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করতে এবং পরীক্ষা দিতে চায়  বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এমন একটি অশুভ তৎপরতা শুরু হয়েছে যে তারা পরীক্ষা দিতে দেবে না, বাঁধা দেয়। এগুলো বড় মাপের একটি অশুভ তৎপরতা। স্বৈরাচারী শাসনের আন্দোলনের সময় আমাদের এমন দৃষ্টিভঙ্গি ছিল।

তিনি বলেন, ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন মানে সাধারণ ছাত্রদের মৌলিক অধিকারের বিপক্ষে দাঁড়ানো। কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বাইরে থেকে অপশক্তি ঢুকে যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন,  এর একটি বড় প্রমাণ হলো লন্ডন থেকে ফোন দিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ। সবকিছু মিলে রাজনৈতিকভাবে উস্কে দিয়ে বিভিন্নভাবে ফায়দা লুটবার তথ্যও আমাদের কাছে আছে। সবকিছু মিলে অশুভ শক্তির ভালো তৎপরতা এবং মহড়া আছে। 

তিনি বলেন, ছয় মাসের মধ্যে এই পরিবর্তনটা লক্ষ্য করি। মেয়েদের হলগুলোতে হঠাৎ করে গভীর রাতে ২০-৩০ জন সংক্ষুব্ধ হয়ে স্লোগান দেওয়ার পরিবেশ আমরা লক্ষ্য করি। এটা স্বাভাবিকতার পরিপন্থি। এসব কিছু শুভ কিছুর ইঙ্গিত দেয়না। 
ছাত্রদের বিরুদ্ধে মামলার প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে অশান্ত করে এমন কর্মকান্ড কোনোক্রমেই বরদাস্ত করব না। ১৮ বছর বয়স হলে আইনের বিধান প্রযোজ্য হয়। কেউ ফৌজদারি অপরাধ করলে ইনডেমনিটি দেওয়ার কালচার থেকে বেরিয়ে এসে আইনের শাসন কার্যকর করতে হবে। অপরাধীর সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব। 
এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি চমৎকার গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিরাজ করছে বলে মন্তব্য করেন উপাচার্য। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে চমৎকারভাবে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিরাজ করছে। তার একটি বড় প্রমাণ হল সরকারি দলের বাইরে বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা স্মারকলিপি দিতে পেরেছেন।
সাম্প্রতিক ঘটনার বিষয়ে ইতোমধ্যে প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন)অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদকে প্রধান করে একটি কমিটি করা হয়েছে বলে জানান উপাচার্য।

পিডিএসও/রানা