জাবিতে তড়িঘড়ি পার্কিং স্পট তৈরি, শিক্ষার্থীদের স্বস্তি

প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৭:১৯

তহিদুল ইসলাম, জাবি

শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে অবশেষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) পার্কিং স্পট তৈরি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের প্রচেষ্টায় তড়িঘড়ি করে কেন্দ্রীয় মসজিদের পশ্চিম পাশে পার্কিং স্পট তৈরি করা হয়েছে। এখন থেকে প্রধান ফটক দিয়ে ‘প্রবেশ ফি’ পরিশোধ করে ভেতরে প্রবেশ করে বহিরাগতদেরকে নির্দিষ্ট পার্কিং স্পটে গাড়ি রাখতে হচ্ছে। গত শুক্রবার থেকে পার্কিং স্পটে গাড়ি রাখার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ‘প্রবেশ ফি’ দিয়ে গাড়ি নিয়ে প্রবেশ করে নির্দিষ্ট স্থানে পার্কিং করছেন বহিরাগত দর্শনার্থীরা। এ ক্ষেত্রে তাদেরকে সহযোগিতা করতে নিয়োজিত রয়েছে আনসার বাহিনীর সদস্যরা। এতে প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করে বহিরাগত প্রতিটি গাড়ি পার্কিং স্পটে পার্কিং করতে হচ্ছে। এছাড়া গেট দিয়ে বহিরাগত যেকোন যান প্রবেশেও বেশ কড়াকড়ি রয়েছে। অনেককেই ভেতরে প্রবেশ করতে না পেরে চলে যেতে দেখা যায়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের জয় বাংলা গেট দিয়ে প্রবেশ ফি আদায় করা হলেও সেখানে কোন পার্কিং স্পট না থাকায় অনেকে গাড়ি যত্রতত্র পার্কিং করছেন।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তড়িঘড়ি প্রচেষ্টায় পার্কিং স্পট তৈরি করতে সক্ষম হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিগত এক বছরে পার্কিং স্পট তৈরি করতে পারেনি। বিগত এক বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রধান ফটক ও জয় বাংলা গেট থেকে রশিদের মাধ্যমে ‘প্রবেশ ফি’র নামে পার্কিং ফি আদায় করেছে। তবে যে নির্দিষ্ট স্থানে পার্কিংয়ের কথা বলে প্রবেশ ফি আদায় করা হয় সেই পার্কিং স্পটই ছিল না বিশ্ববিদ্যালয়ে। গত বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগতদের গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণে পার্কিং ফি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গত বছরের ১ জানুয়ারি এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে বহিরাগত দর্শনার্থীরা যারা গাড়ি নিয়ে ক্যাম্পাসে অতিথি পাখি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে আসেন তাদেরকে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং না করে নির্দিষ্ট স্থানে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য অনুরোধ করা হলো। এছাড়া বিজ্ঞপ্তিতে, বাস ও মিনিবাস প্রতিটি ২০০ এবং প্রাইভেট কার, জিপ ও মাইক্রোবাস প্রতিটি ১০০ টাকা হারে পার্কিং ফি পরিশোধ করতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়। তখন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেইরি গেট ও জয় বাংলা গেট থেকে রশিদের মাধ্যমে ‘প্রবেশ ফি’র নামে পার্কিং ফি আদায় করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সমসাময়িক সময়ে প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়ে গাড়ি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের পূর্ব পাশে পার্কিং স্পট তৈরির উদ্যোগ নেয়। তবে এক বছরের বেশি সময় ধরে সে উদ্যোগ থেমে ছিল ছোট ছোট পিলার বসানোর মাধ্যমে। অবশেষে বৃহস্পতিবারে একদিনের প্রচেষ্টায় কেন্দ্রীয় মসজিদের পশ্চিম পাশে পার্কিং স্পট তৈরি করে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে শীতের মৌসুমে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় থাকে। অতিথি পাখি দেখতে ঢাকা কিংবা আশে পাশের এলাকার পর্যটকরা ভিড় জমান জাবিতে। এতে নানান সমস্যায় পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের। ক্যাম্পাসে চলাচল থেকে শুরু করে খাবার দোকানে খাবার না পাওয়া প্রভৃতি বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। তাছাড়া দর্শনার্থীদের যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও ক্যাম্পাসের শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যেখানে সেখানে পার্কিং করার কারণে সৃষ্টি হয় অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির। সম্প্রতি গাড়ি পার্কিংকে কেন্দ্র করে ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের এক শিক্ষিকার সাথে শিক্ষার্থীদের বাক-বিত-ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যকার সম্পর্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এছাড়া বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে এসে বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালান। এতে অনেক সময় ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে। গত সোমবার ও মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগতদের গাড়ির ধাক্কায় ৪জন গুরুতর আহত হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অহরহ এমন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় শিক্ষার্থীদের। এসব সমস্যা নিরসনের জন্য দীর্ঘদনধরে শিক্ষার্থীরা জাবিতে পার্কিং স্পট তৈরির দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

অবশেষে শুক্রবার থেকে পার্কিং স্পটে গাড়ি রাখার কার্যক্রম শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে স্বস্তি ফিরেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। পার্কিং স্পট তৈরি করায় স্বস্তি প্রকাশ করেছে অনেকেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তারা প্রশাসনের উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন। মাহফুজ রহমান নামের একজনের মন্তব্য, ‘প্রশাসনের প্রশংসনীয় সিদ্ধান্তকে সাদুবাদ জানাই।’

নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু সৈয়দ বলেন, বৃহস্পতিবার অফিস টাইমে রেজিস্ট্রার স্যার আমাদেরকে ডেকে পার্কিং স্পট তৈরির কথা বললেন। আমরা ওইদিনই পার্কিং স্পট তৈরি করে দিয়েছি। এটা করতে খুব বেশি সময় লাগেনি। নিয়ম অনুযায়ী এটা এস্টেট অফিসের করার কথা। তারা তৈরি করে দেবে, আর আমরা লোক দিয়ে কাজ করাবো। তবে এই পার্কিং স্পটটা খুবই নরমাল। আমাদের দুই গেট দিয়ে প্রবেশ ফি নেওয়া হয়। তবে আমরা সব গেটে বলে দিয়েছি, এখন থেকে স্টিকার লাগানো গাড়ি ছাড়া সব গাড়ি মেইন গেট দিয়ে প্রবেশ করবে। তবে জয় বাংলা গেট দিয়ে কিছু গাড়ি প্রবেশ করছে।

এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক বলেন, মেইন গেটের পাশে পার্কিং স্পট তৈরি করা হয়েছে। এটার দায়িত্বে সিকিউরিটির ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে জয় বাংলা গেট দিয়ে যারা প্রবেশ করেন তাদের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। জয় বাংলা গেটে আশে পাশে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় পার্কিং স্পট তৈরি করা যাচ্ছে না। পরবর্তীতে চিন্তা ভাবনা করা হবে।

পিডিএসও/রানা