জাবিতে ছাত্রলীগকর্মীকে পেটালো জুনিয়ররা

প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৫:৩২ | আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৬:১৪

জাবি প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের ৪৫ ব্যাচের এক ছাত্রলীগ কর্মীকে পিটিয়েছে একই হলের ৪৬ ব্যাচের কতিপয় ছাত্রলীগকর্মী। মারধরের শিকার সৌরভ দর্শন বিভাগের ৪৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী। সে ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানার অনুসারি। গত বুধবার রাত ৩টার দিকে হলটির সামনে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্তরা হলেন—মঞ্জু (গণিত), প্রান্ত (মাইক্রোবায়োলোজি), আহসান (বাংলা), নাসিম (ম্যানেজমেন্ট), মাহমুদ (দর্শন), জুনায়েদ (নাটক ও নাট্যতত্ত্ব), নাহিদ সৌরভ (সরকার ও রাজনীতি), ইমতিয়াজ (সরকার ও রাজনীতি), প্রাচুর্য (আইআইটি) প্রমুখ। অভিযুক্তরা সবাই শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম আবু সুফিয়ান চঞ্চলের অনুসারি।

জানা যায়, বুধবার রাত তিনটার দিকে বটতলা থেকে বাইক যোগে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলে ফিলছিলেন ৪৫ ব্যাচের সৌরভ, সাকিব ও ফুয়াদ। তারা সবাই শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানার অনুসারি। তারা হলের পাশের দোকানের সামনে পৌছালে অভিযুক্তরা অতর্কিতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের আক্রমণ করে। পরে সাকিব ও ফুয়াদ পালিয়ে যেতে পারে পারলেও সৌরভ যেতে পারেনি। এ সময় অভিযুক্তরা সৌরভকে বেধড়ক পেটায়। পরে হলটির শিক্ষার্থীরা তাকে উদ্ধার করে মেডক্যাল সেন্টারে নিয়ে যায়।

সৌরভ বলেন, গত বুধবার রাতে ছাত্রলীগের সেক্রেটারি গ্রুপের ৪৪ ও ৪৫ ব্যাচের ছাত্রলীগকর্মীরা গণরুমে ঢুকে ৪৭ ব্যাচের শিক্ষার্থীদেরকে ফাপর দিচ্ছিল। তারপর আমরা তাদেরকে বের করে দেই। ৪৭ ব্যাচের রুমে শুধু ৪৬ ঢুকবে, অন্য ব্যাচের ঢোকার নিয়ম নেই। ওইদিন গেস্ট রুমে এটা নিয়ে আমরা বসি। কিন্তু তারা রাগারাগি করে চলে যায়। পরে বড় ভাইয়েরা আমাদের নিয়ে বসে মিটমাট করে দেয়। আমরা মনে করি মিটমাট হয়ে গেছে। তবে তাদের মনে ক্ষোভ থেকে গেছে। ওই দিন রাতে বটতলা তেখে ফেরার পথে হলের পাশের দোকানের সামনে ৪৬ ব্যাচের ওই ছেলেরা অতর্কিত আমাদের উপর আক্রমণ করে। তারা আমাকে বেধড়ক মারধর করে। পরে বায়জিদ ভাইয়ের বাইকে করে আমাকে মেডিক্যাল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়।

অভিযুক্ত ইমতিয়াজ বলেন, আমরা দোকানে সিগারেট খাচ্ছিলাম। সৌরভ ভাই আমাদেরকে চলে যেতে বলে। এ নিয়ে এক পর্যায়ে কথা কাটাকাটি হয়। তারপর হাতাহাতি হয়। অভিযোগে যাদের নাম এসেছে সে সময় তারা ছিল।  তবে বাকি অভিযুক্তদের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানা বলেন, যদি এমন কোন ঘটনা ঘটে থাকে তবে আমরা অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেব। 

এদিকে বৃহস্পতিবার এ ঘটনায় প্রক্টর বরাবর অভিযুক্ত ৪৬ ব্যাচের ৯ ছাত্রলীগ কর্মীর নামে অভিযোগ দিয়েছে সৌরভ। প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহা বলেন, আমরা গতকাল এ ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। এটা তো হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঘটেছে। আমরা গতকালকের মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিষয়টি দেখার জন্য হল প্রভোস্টের কাছে অভিযোগ হস্তান্তর করেছি। তিনি বিষয়টি দেখবেন। অভিযোগ এখনো হাতে পাননি বলে জানান বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক অসিত বরণ পাল। তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দেখবো।

পিডিএসও/হেলাল