একটি বোধের অপমৃত্যু

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০১৭, ১৩:০০ | আপডেট : ১০ আগস্ট ২০১৭, ১৩:১৫

সম্পাদকীয়

৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিপরীতে ৪৫ বছর পর আমরা আজ যেখানে এসে দাঁড়িয়েছি, তার নাম মৃতের নগর। এখানে যারা বাস করেন, সম্ভবত তারা সবাই বোধবিবর্জিত ফসিল মানব। এদের চোখে পাতা নেই। নাক আছে ছিদ্র নেই। ঠোঁট নেই, জিব নেই। থাকার মধ্যে আছে বীভৎস কিছু দাঁত। দাঁত থাকতেও এরা চিবিয়ে আহার গ্রহণ করে না। যা কিছু সামনে পায়, চটপট গিলে ফেলা এদের অভ্যাস। এদের গায়ে রাজনীতির পোশাক। সব রাজনীতিক একই চরিত্রের না হলেও এদের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। এরা অনেকটা সর্বভুক প্রাণীর মতো। সম্ভবত এদের কারণেই এ দেশে আজ বোধের অপমৃত্যু ঘটেছে। দেশটাই হয়ে উঠেছে বোধহীন এক মৃতের নগর।

সম্প্রতি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ দিতে এক ভিক্ষুকের কাছ থেকে ছাগল উৎকোচ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আলী হোসেন নামে এক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের বিরুদ্ধে। ঘটনাস্থল-কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়ন। ঘটনাটি সমগ্র বাংলাদেশকে নাড়া দিতে না পারলেও এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়াতে কার্পণ্য করেনি।

প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প ২-এর আওতায় হতদরিদ্র পরিবারের মধ্যে ঘর বরাদ্দের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে আজহার আলী নামে এক ভিক্ষুকের কাছে পাঁচ হাজার টাকা উৎকোচ দাবি করেন আলী হোসেন। ভিক্ষুকের কাছে এত টাকা না থাকায় তার একমাত্র পোষা ছাগলটি তিনি দিয়ে দেন ইউপি সদস্যকে। সর্বভুক প্রাণীর মতো ইউপি সদস্য আলী হোসেন তা গলাধঃকরণ করতে কার্পণ্য করেননি। কিন্তু ১০ দিন পর আজহার আলী ঘর বরাদ্দ না পাওয়ায় বিষয়টি চেয়ারম্যানের কাছে উত্থাপন করলে ঘটনা ফাঁস হয়ে যায়।


ভিক্ষুক আজহার আলী বলেছেন, কষ্ট করি দুইডা ছাগল পুষি। তার একডা ঘর দেওনের নাম করে 
আলী হোসেন মেম্বর (ইউপি সদস্য) নিয়া গেছে। ১০ দিন পর দেহি ঘরও নাই, ছাগলও নাই


এদিকে ছাগল নেওয়ার কথা স্বীকার করলেও ঘুষ গ্রহণের কথা অস্বীকার করেছেন ইউপি সদস্য আলী হোসেন। তিনি বলেছেন, কোরবানি ঈদের জন্য তিনি ছাগলটি কিনে নিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন, ছাগল কখনো ঘুষ হতে পারে না। কিন্তু ভিক্ষুক আজহার আলী বলেছেন, ‘কষ্ট করি দুইডা ছাগল পুষি। তার একডা ঘর দেওনের নাম করে আলী হোসেন মেম্বর (ইউপি সদস্য) নিয়া গেছে। ১০ দিন পর দেহি ঘরও নাই, ছাগলও নাই।’ তবে, নালিশ শোনার পর ইউপি চেয়ারম্যান বলেছেন, তিনি বিষয়টি দেখবেন। পাশাপাশি ফুলবাড়ী উপজেলা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

বিষয়টি কতটা গুরুত্ব পাবে তা আমাদের জানা নেই। তবে আমরা আশা করব, আজহার আলী যেন তার ছাগলটি ফেরত পান এবং ইউপি মেম্বার আলী হোসেনকে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আদালতের সামনে হাজিরের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। নতুবা আমরা বিশ্বাস করতে বাধ্য হব, রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত সব ব্যক্তিবর্গ আলী হোসেনের মতো বোধহীন মানব ফসিলে পরিণত হয়েছেন, যা কখনোই আমাদের কাম্য নয়।

পিডিএসও/হেলাল