মার্কিন রাজনীতির সেকাল-একাল

প্রকাশ : ২০ জুন ২০১৭, ১১:৩১

রায়হান আহমেদ তপাদার

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় প্রজাতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান। আইনসভা দ্বিকক্ষবিশিষ্ট। নিম্নকক্ষের নাম হাউস অব রি-প্রেজেন্টেটিভ্স এবং এর সদস্য সংখ্যা ৪৩৫। উচ্চকক্ষের নাম সিনেট এবং এর সদস্য সংখ্যা ১০০। ভোট দেওয়ার যোগ্যতা অর্জনের বয়স ১৮। ১৭৮৭ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণয়ন করা হয় এবং ১৭৮৯ সালের ৪ মার্চ থেকে এটি কার্যকর করা হয়। সুপ্রিম কোর্ট দেশের সর্বোচ্চ বিচারালয়। প্রায় চার শতাব্দী আগে প্রণীত মার্কিন সরকারব্যবস্থা বিশ্বের প্রশংসা লাভ করেছে। মার্কিন জীবনের সঙ্গে এটি ওতপ্রোতভাবে সম্পর্কিত। মার্কিন সরকারব্যবস্থা শুরু থেকেই গণতন্ত্রকে শাসনব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করেছে। মার্কিন সরকারব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রীয়, প্রাদেশিক ও স্থানীয় আইন এবং এগুলোকে নির্বাহকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত। ফেডারেল যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের কেন্দ্র ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত।

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের একটি মূলনীতি হলো প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র। এই ব্যবস্থায় লোকেরা তাদের নিজেদের নেতা নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেদের শাসন করে। মার্কিন গণতন্ত্র বেশ কিছু আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত। জনগণকে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত মেনে নিতে হবে। সংখ্যালঘুদের অধিকার সংরক্ষণ করতে হবে। নাগরিকদের আইনি শাসন ব্যবস্থায় বাস করার জন্য সম্মত হতে হবে। মতামত ও ধারণার উন্মুক্ত আদান প্রদানে কোনো বাধার সৃষ্টি করা যাবে না। আইনের চোখে সবাই সমান। সরকার জনগণের সেবায় নিয়োজিত হবে এবং এর ক্ষমতা জনগণের কাছ থেকেই আসবে। এই আদর্শগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারব্যবস্থা চারটি উপাদান দিয়ে গঠন করা হয়েছে। ১. জনগণের সার্বভৌমত্ব, ২. প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার, ৩. ক্ষমতার পরীক্ষা ও ভারসাম্য এবং ৪. ফেডারালবাদ, যেখানে সরকারের বিভিন্ন স্তরে বিভিন্ন ধরনের ক্ষমতা অংশীদারি করা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আধুনিক গণতন্ত্রের পাইনিওয়ার মনে করা হলেও এখানকার প্রেসিডেন্ট জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে সরাসরি নির্বাচিত হন না।

পশ্চিম ইউরোপ থেকে আসা ক্রীতদাস ব্যবসায়ীরা আমেরিকার আদিবাসীদের ব্যাপক নিধনযজ্ঞের মাধ্যমে পরাজিত করে স্থাপিত সেটেলার কলোনিকে রাষ্ট্রে রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টা হলো আজকের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ১৭৭৬ সালে তৎকালীন ১৩টি অঙ্গরাজ্য নিজেদের ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে বিছিন্ন করে স্বাধীন যুক্তরাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীতদাস ব্যবসানির্ভর যে পুঁজিবাদের সূচনা, সে সময়ের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এ ক্রীতদাস ব্যবসায়ীদের অধিকার মাথায় রেখে তৎকালীন আমেরিকার ‘ফান্ডিং ফাদারস’ যে সংবিধান প্রণয়ন করেন, সেখানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পদ্ধতিটি ইলেকটোরাল কলেজের মাধ্যমে পরোক্ষ ভোটে নির্ধারণের ব্যবস্থা রাখা হয়। সংবিধানে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার কথা বলা হলেও তা ছিল মূলত শ্বেতাঙ্গ ও সম্পদশালী শ্রেণির। ফলে মার্কিন সংবিধানে ভোটাধিকার শুধু সম্পদশালী শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীকে দেওয়া হয়েছিল; শ্বেতাঙ্গ নারী, কৃষ্ণাঙ্গ এবং আদিবাসীদের কোনো ভোটধিকার এ সংবিধানে ছিল না। এখানে উল্লেখযোগ্য যে, যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গদের ভোটের অধিকার পেতে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। মার্কিন জনগোষ্ঠী তখন আজকের মতো বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অভিবাসীতে বৈচিত্র্যপূর্ণ ছিল না। জনসংখ্যা মূলত পশ্চিম ইউরোপ থেকে আসা শ্বেতাঙ্গ, তাদের সঙ্গে আনা কৃষ্ণাঙ্গ ক্রীতদাস এবং আদিবাসী-এই তিন ভাগে বিভক্ত ছিল। পশ্চিম ইউরোপ থেকে আসা অধিবাসীরা আদিবাসীদের ওপর যে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ, নির্যাতন-নিপীড়ন চালায় তাতে তাদের সংখ্যা ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়। এর ফলে আজকে তারা সার্বিক জনসংখ্যার মাত্র এক শতাংশ।

আমেরিকা এখন পৃথিবীর একমাত্র পরাশক্তি, যদিও ইদানীং চীন ও রাশিয়া নতুন করে তাদের শক্তিমত্তার জানান দিচ্ছে। সে দেশের অর্থনীতি মানে কল্পনাতীত এক বিশাল কর্মযজ্ঞ! প্রতিবছর সেখানে সৃষ্টি হয় প্রায় ১৭ লাখ কোটি ডলারের সম্পদ, যা কিনা সারা দুনিয়ার প্রায় চার ভাগের এক ভাগ। তৃতীয়ত, দেশ ও সভ্যতা হিসেবে খুব প্রাচীন না হলেও আমেরিকার সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রচর্চার ইতিহাস প্রায় আড়াই শ’ বছরের। অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি ভারতবাসীরা যখন পরাধীন হয়, তার কাছাকাছি সময়ে আমেরিকা স্বাধীন হয়। এরপর থেকে মার্কিন জনগণ নিরবচ্ছিন্নভাবে তাদের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র চর্চা করে আসছে। তবে তাদের জাতীয় জীবনের এর চেয়েও শক্তিশালী দিক হলো ১৮৬০ সালের গৃহযুদ্ধের পর সে দেশে তেমন বড় ধরনের কোনো রাজনৈতিক সঙ্কট দেখা দেয়নি। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার দিক থেকে আমেরিকা পৃথিবীর বুকে একটা আদর্শ উদাহরণ বটে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চাশটা স্টেট আছে। ফেডারেল ডিসট্রিক্ট হলো গোটা আমেরিকার রাজধানী। এটা কোনো স্টেটের আন্ডারে নয়। ফেডারেল সরকার বলতে এই ওয়াশিংটন ডিসিভিক্তিক পলিটিক্যাল সিস্টেমকেই বোঝানো হয়। প্রশ্ন হলো, স্টেট কী? স্টেটের বাংলা হলো রাষ্ট্র। প্রতিটি স্টেটের আলাদা আলাদা পতাকা আছে। রাজধানী আছে। আইনসভা আছে। বিচার বিভাগ আছে। প্রতিটি স্টেটের আলাদা আলাদা আইন প্রনয়নের ক্ষমতা আছে, তবে সেটা কিছুতেই যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান বা ওয়াশিংটন ডিসির ফেডারেল সরকারের সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারবে না। যেমন ক্যালিফোর্নিয়া সাইজের দিক দিয়ে আমেরিকার তৃতীয়, এবং জনসংখ্যার দিক দিয়ে সবচেয়ে বড় স্টেট। ক্যালিফোর্নিয়ার রাজধানী স্যাকরামেন্টো। ক্যালিফোর্নিয়ার সবচেয়ে বড় শহর লস এঞ্জেলেস। মায়ামি ফ্লোরিডার নামকরা একটি শহর। প্রতিটি শহরের মেয়র থাকে। আবার প্রতিটি স্টেটের গভর্নর থাকে। এটর্নি জেনারেল থেকে শুরু করে স্টেট সরকারের নিযুক্ত পররাষ্ট্র সচিবও থাকে। যেমন জন কেরি হলো গোটা আমেরিকার ফেডারেল সরকারের সেক্রেটারি অব স্টেট। একএক স্টেটের নিয়মগুলো এভাবেই বদলে যায়। মার্কিন ফেডারেল সরকার গাঁজা রিলেটেড কোনো আইন পাস করেনি। কিন্তু যদি আগামীকালই করে, অর্থাৎ ফেডারেল সরকার যদি সমগ্র আমেরিকার জন্য গাঁজা বৈধ করে দেয়, তাহলে সমগ্র আমেরিকাতে তখন এই আইনটা বলবৎ হবে। অর্থাৎ কোনো স্টেট এটার বিরোধিতা করতে পারবে না।

এখন মার্কিন নির্বাচনের ব্যাপারে আসি। বেশকিছু রাজনৈতিক দল আছে, তবে আলোচনার সুবিধার জন্য মূল দুটি রাজনৈতিক দল নিয়েই হিসাবনিকাশটা তুলে ধরি। বড় দুটি রাজনৈতিক দল হলো রিপাবলিকান আর ডেমোক্র্যাট দল। অর্থাৎ পুঁজিপতিদের জন্য সুবিধাজনক। হাল আমলে রিপাবলিকান দলের কথা মনে হলেই চোখে ভেসে ওঠে মিট রমনি বা ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো কোটিপতি সুযোগসন্ধানী ব্যবসায়ী, অর্থাৎ বুশ, ডিক চেনি, লিন্ডসি গ্রাহাম, জন ম্যাকেইন বা টেড ক্রুজের মতো যুদ্ধবাজ লোকগুলোর মুখ। অনেক বেশি ইসরায়েল ঘেঁষা রিপাবলিকান পার্টি। অথচ অতীতে এই পার্টির ভালো অর্জন আছে। যা নিয়ে এরা গর্ব করে। আব্রাহাম লিঙ্কন ছিলেন প্রথম রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট। আমেরিকার দাসপ্রথা বিরোধী লড়াইয়ে এই পার্টির মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিল। রিপাবলিকান দলের প্রতীক হল হাতি। ৩০.৭ মিলিয়ন অর্থাৎ তিন কোটি সদস্য আছে রিপাবলিকান দলের। অপরদিকে ডেমোক্র্যাট দলের প্রতিক হল গাধা। চার কোটি সদস্য আছে ডেমোক্র্যাট দলের। বিল ক্লিনটন, হিলারি ক্লিনটন, বারাক ওবামা-এরা ডেমোক্র্যাট।

ঐতিহাসিকভাবে মার্কিন জনসমাজে বিশেষত শ্বেতাঙ্গ শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী এবং উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে পুঁজিবাদ এবং মুক্তবাজার অর্থনীতি সম্পর্কে একটি ইতবাচক ধারণা রয়েছে। কারণ এর ফলে বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উভয় প্রাধান্যই বজায় থাকবে এমনটা মনে করা হচ্ছিল। পুঁজিবাদী অর্থনীতির বিকাশের ফলে অনান্য রাষ্ট্রও যে অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিকভাবে প্রাধান্যশালী হয়ে উঠতে পারে এটি ছিল সাধারণের ধারণার বাইরে। মূলধারার মার্কিন সংস্কৃতির মূল বৈশিষ্ট্য হল পুঁজিবাদী অর্থনীতির সঙ্গে খ্রিস্টীয় রক্ষণশীলতা এবং পুরুষতান্ত্রিকতার অদ্ভুত সমন্বয়, যেটিকে অপরিবর্তনীয় এবং পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ আদর্শ হিসেবে আপামর জনমানসের প্রোথিত। এ রক্ষণশীলতার ফলেই মার্কিন প্রেসিডন্ট বাইবেলে হাত রেখে শপথ নেন; ডলারে লেখা হয়েছে ‘আমরা গডে বিশ্বাস করি’ এবং একমাত্র খ্রিস্টানদের ধর্মীয় উৎসব ছাড়া অন্য ধর্মাবলম্বী, এমনকি ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের উৎসবেও কোনো সরকারি ছুটি থাকে না। পুঁজিবাদের ক্রম বিকাশের ফলে পুঁজিবাদের কেন্দ্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরে যেতে থাকার ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শ্বেতাঙ্গ শ্রমজীবী শ্রেণি নামে যারা পরিচিত। এর পাশাপাশি বিশ্বের নানা দেশ থেকে ভিন্ন ধর্মের অভিবাসীদের ক্রমাগত আগমন শুধু খ্রিস্টীয় ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত এ শ্রমজীবী শ্রেণিকে করে তুলছে আতঙ্কিত। হিলারির পরাজয় দেখে যারা বিস্মিত হয়েছে, তারা হয়তো মিডিয়ার ক্রমাগত ট্রাম্পবিরোধী প্রচারণায় প্রভাবিত হয়েছিল,যার ফলে যারা আমেরিকার সবচেয়ে বড় জনগোষ্ঠী, তাদের মনোভাব হয় বুঝতে পারেনি বা বুঝতে চায়নি। আমেরিকার আজকের দক্ষিণপন্থার উত্থানে মূল ভূমিকা এই শ্রমিক শ্রেণি পালন করেছে, যাদের অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং মনস্তাত্ত্বিক আতঙ্কের বিষয়টি ‘এক্সপ্লয়েট’ করেই আজ ট্রাম্পের এ উত্থান। আধুনিক পুঁজিবাদের গতিপ্রকৃতি বুঝতে অক্ষম এ শ্বেতাঙ্গ শ্রমজীবী শ্রেণি মনে করছে, মার্কিন পুঁজিপতিরা দেশের স্বার্থ উপেক্ষা করে ব্যক্তিস্বার্থে নিজ দেশে বিনিয়োগ না করে বিদেশে বিনিয়োগ করছেন। ট্রাম্প নিজেই এ পুঁজিপতি শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করলেও এবং বিভিন্ন দেশে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করলেও নির্বাচনে তিনি তার নিজের শ্রেণির বিরুদ্ধে কথা বলেছেন এবং সব ধরনের মুক্ত বাণিজ্যের চুক্তি থেকে আমেরিকাকে প্রত্যাহার করে নিয়ে সংরক্ষণমূলক অর্থনৈতিক নীতি নেওয়ার কথা বলেছেন, যা তাকে শ্বেতাঙ্গ শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা দিয়েছে।

পাশাপাশি ট্রাম্প চাইছেন মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে আনতে। কারণ তিনি মনে করেন, এ সামরিক উপস্থিতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থনীতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং রাজনৈতিকভাবেও দেশের জন্য তা কোনো সুফল বয়ে আনছে না। শ্রমজীবী গোষ্ঠীর একটি বড় অংশও একইভাবে ভাবছে। যে বিষয়টি মার্কিন জনগোষ্ঠীকে অবাক করেছে তাহলো ‘নিওকন নীতি’র বিরোধিতা করে ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট ওবামা মধ্যপ্রাচ্যে দক্ষিণপন্থীদের এ নীতিই অনুসরণ করেছেন। তিনি এবং তার প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীকে মদদ দিয়েছেন বলেও এ জনগোষ্ঠী বিশ্বাস করতে শুরু করেছে। এর ফলে নির্বাচনে প্রচারণার সময় ট্রাম্প সরাসরি ওবামা এবং হিলারির বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদীদের মদদ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। পাশাপাশি খ্রিস্টীয় রক্ষণশীলতাকে ধরে রাখার জন্য তিনি যেমন অভিবাসনের বিরুদ্ধে কথা বলছেন, তেমনি অবস্থান নিয়েছেন গর্ভপাত, জন্মনিয়ন্ত্রণ এবং সমকামিতার বিরুদ্ধে। বস্তুত, আন্তর্জাতিক রাজনীতির ক্ষেত্রে ১৯২০ সালের পূর্বে যুক্তরাষ্ট্র যে বিচ্ছিনতাবাদী নীতি অনুসরণ করত সেই নীতি গ্রহণ করতে চাইছেন ট্রাম্প। অর্থাৎ বিশ্ব রাজনীতির বিভিন্ন গতিপ্রকৃতি থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে যথাসম্ভব দূরে সরিয়ে রাখবার নীতি; আর অর্থনীতির ক্ষেত্রে মুক্তবাজারের বিপরীতে সংরক্ষণবাদিতা এবং সামাজিক ক্ষেত্রে জোর দিচ্ছেন খ্রিস্টীয় রক্ষণশীলতার ওপর। অপরদিকে তার নিজ দলসহ যারা ট্রাম্পের নীতির বিরোধিতা করছে তারা মনে করছে এসব নীতির ফলে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার প্রভাব হারাবে এবং এতে চীন-রাশিয়াকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার উদ্ভব হতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ইতিহাসে নজিরবিহীনভাবে প্রায় সব ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার লাগাতার বিরোধী প্রচারণা এবং সব জনমত জরিপ ভুল প্রমাণিত করে ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

পিডিএসও/হেলাল