পাহাড়ে বিপর্যয় কেন?

প্রকাশ : ১৬ জুন ২০১৭, ১৫:০১

সম্পাদকীয়

পাহাড়ে লাশের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গত ১০ বছরে প্রাণহানির সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়ে গেছে। রাঙামাটি, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও টেকনাফে গত কয়েকদিনের পাহাড়ধসে প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫৭। এখানকার ৩০ পাহাড়ের মৃত্যুফাঁদে এখনো বসবাস করছে পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ। এসব পাহাড়কে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে ২১ হাজার পরিবারকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার সুপারিশ করেছিল পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি। কাজ শুরু হতে না হতেই তা বাঁকা পথে হারিয়ে যেতে সাহায্য করেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা। নিজেদের স্বার্থকে সুসংহত করার লক্ষ্যেই তাদের এ আয়োজন।

তবে প্রশাসন ও মিডিয়া একযোগে বলেই চলেছে, স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত এ দুর্যোগ আর কাটছে না। পাশাপাশি এ কথাও সত্য, বিশেষ তহবিলের একটি টাকাও খরচ হয়নি ১০ বছরে। কিন্তু কেন? এ প্রশ্নের উত্তর জমা আছে প্রশাসনের এক দশকের খতিয়ানে। সে খবর সাধারণের জানা নেই। তারা শুধু এটুকুই জেনেছে, এবারে ঈদে নতুন জামার বদলে এসব হতভাগ্য মানুষের কপালে জুটেছে কাফনের কাপড়। ঘটনায় কোনো নতুনত্ব নেই। প্রতি বছরই ঘটছে। ঘটতে ঘটতে তা এখন এক নৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। যার কোনো সুরাহা এখনো পর্যন্ত হয়নি বলে ধরে নেয়া যায়। এ ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষেরও কোনো সদিচ্ছার প্রতিফলন নেই। ২০০৭ সালের ভয়াবহ পাহাড়ধসে ১২৭ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। সে সময় একটি কমিটির তত্ত্বাবধানে ২৮টি কারণ নির্ধারণ করে ৩৬টি সুপারিশ পেশ করা হয়। যার একটিও বাস্তবায়িত হয়নি, হওয়ার কথাও নয়। রক্ষক যখন ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে, তখন সেখানে বাতাস প্রাপ্তিতেও যে ঘাটতি দেখা দেবে, এটাই স্বাভাবিক। আর এখানেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি।

পাহাড়ের এই অপমৃত্যুকে রহিত করার জন্য যেসব ব্যবস্থাকে চিহ্নিত করা হয়েছে তার অন্যতম প্রধান কারণটিকে অত্যন্ত সুকৌশলে আড়াল করা হচ্ছে। আর প্রতিবারই অবৈধভাবে বসবাসকারী হতভাগ্য মানুষগুলোর কাঁধে রাইফেল রেখে আড়াল করার কৌশলকে মজবুত করা হচ্ছে। এ সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সর্বপ্রথম এবং সর্বাগ্রে পাহাড় কাটা ও বৃক্ষ নিধন বন্ধ করতে হবে। কিন্তু বন্ধ করবে কে? সরকারি সংস্থার বিরুদ্ধে যে পাহাড় কাটা ও বৃক্ষ নিধনের অভিযোগ কম নয়। প্রথমে সরকারি সংস্থাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তারা আর এ কাজ করবে না। বিকল্প পন্থা বের করে নেবে। তারপর সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে। কঠোর থেকে কঠোরতর সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে পাহাড়কে রক্ষার কাজে এগিয়ে আসতে হবে। সততায় ঘাটতি পড়লে প্রকৃতিও তার সততা হারিয়ে ফেলতে বাধ্য হবে। বিপর্যয়ের আকারও বড় থেকে বড় হতে থাকবে। এটাই বিজ্ঞান। নিউটনের তৃতীয় সূত্র।

পিডিএসও/হেলাল