কমে আসছে করোনার ক্ষমতা!

প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২০, ১২:৩৫ | আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২০, ১২:৪৪

অনলাইন ডেস্ক

দেশে করোনাভাইরাসে শনাক্ত রোগীর হার ২০ থেকে ২৩ শতাংশে উঠানামা করছে। এই অবস্থাকে স্থিতিশীল হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যদিকে দেশে করোনা ভাইরাসের রিপ্রোডাকশন রেট (আর-নট) কমে শূন্য দশমিক ৯৯ শতাংশ নেমে এসেছে। আর-নট হার হ্রাস পাওয়াকে পজিটিভ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

জানা গেছে, আর-নট রেট দিয়ে একজন করোনা সংক্রামিত রোগী কতজন মানুষকে সংক্রমিত করার ক্ষমতা রাখে তা নির্ধারণ করে থাকেন বিজ্ঞানীরা। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) রোববারের হিসাবে আর-নট রেট একের নিচে শূন্য দশমিক ৯৯ শতাংশ নেমে এসেছে। এটি এপ্রিলে ছিল ২ শতাংশ।

আইইডিসিআরের তথ্যমতে, দেশে করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষা শুরু হয় চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে। পরীক্ষা শুরুর ১৮ দিনের মাথায় গত ৮ মার্চ প্রথম তিনজন করোনা শনাক্তের কথা জানায় আইইডিসিআর। ওইদিন থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে এক লাখ ৬৫ হাজার ৬১৮ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ২ হাজার ৯৬ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৭৬ হাজার ১৪৯ জন। ২৪ ঘণ্টার পরীক্ষায় শনাক্তের হার ২২ দশমিক ৪৭ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ২৭ শতাংশ।

আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এএসএম আলমগীর হোসেন বলেন, গত তিন সপ্তাহ ধরে দেশে প্রতিদিন যে পরিমাণ সন্দেহভাজন মানুষের করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে তাদের মধ্যে ২০-২৩ শতাংশ শনাক্ত হচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সংক্রমণ অনেকটা স্থিতিশীল রয়েছে। তবে আগের তুলনায় ঢাকায় সংক্রমণ কিছুটা কমেছে। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামসহ কিছু কিছু জেলায় সংক্রমণ অবশ্য কিছুটা বেড়েছে।

ড. এএসএম আলমগীর হোসেন বলেন, বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের রিপ্রোডাকশন রেট গত দুই সপ্তাহে ধরে কমছে। রোববার আমরা আর-নট হিসাব করে দেখেছি একের নিচে, শূন্য দশমিক ৯৯ শতাংশ। গত সপ্তাহে আর-নট রেট ছিল ১ দশমিক শূন্য ৪। ঈদের পর এটি বেড়ে ১ দশমিক ৯৯ হয়েছিল।

এপ্রিলে করোনার আর-নট রেট ছিল ২ শতাংশ। এই রেট একের নিচে থাকা একটা পজিটিভ সাইন। কারণ আর-নট রেট হ্রাস পাওয়ায় একজন আক্রান্ত ব্যক্তি যেহেতু একজনের কম মানুষকে সংক্রমিত করবে। এটি আমাদের জন্য ভালো দিক। ফলে আস্তে আস্তে সংক্রমণ কমতে শুরু করবে। আশা করছি জুলাইয়ের শেষ নাগাদ দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব কমতে শুরু করবে। তবে একে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে কোরবানির ঈদ। ঈদ উপলক্ষে মানুষ হাটবাজারে যাবে আবার বাড়ি যাবে ঢাকায় আসবে এতে সংক্রমণ বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। স্বাস্থ্যবিধিগুলো মানা হলে ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর রাখলে জুলাইয়ের শেষ নাগাদ সংক্রমণ কমতে শুরু করবে।

এদিকে, দেশের করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলায় গৃহীত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পর্যালোচনা ও সমন্বয়ের লক্ষ্য সরকার গত ২৮ মার্চ দেশের আটজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে যে কমিটি গঠন করেছে সেই কমিটি এপিডেমিওলজিক্যাল ফর্মুলার ভিত্তিতে সামনের দিনগুলোয় করোনা পরিস্থিতি কী হতে পারে তার প্রক্ষেপণ তৈরি করে ২৩ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দাখিল করেছেন। সেই প্রক্ষেপণ অনুযায়ী করোনার সংক্রমণ পিকের কাছাকাছি আছে। দেশের করোনা পরিস্থিতি স্থিতিশীল অবস্থায় আছে। চলতি মাসের তৃতীয়-চতুর্থ সপ্তাহ থেকে করোনার সংক্রমণ কমতে শুরু করতে পারে। তবে এটি নির্ভর করবে যেসব স্বাস্থ্যবিধির মানার কথা বলা হচ্ছে মানুষ সেটা কতটা পালন করছে তার ওপর। আবার আসন্ন ঈদে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ করা না হলে সংক্রমণ উল্টো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।