রোজায় দূর হোক মিথ্যাচার

প্রকাশ : ১৩ মে ২০২০, ০৯:৫২

মাওলানা মাসউদুল কাদির

আজ সিয়াম সাধনার ঊনিশতম রমজান। আর একদিন পরই মাগফেরাতের দশক শেষ হয়ে যাবে। আদতে আমরা মাগফেরাত লাভ কী করতে পেরেছি? মাগফেরাত ছাড়া এ জীবনের কোনো দাম নেই। কারণ জীবন তো মিথ্যা ও পরনিন্দায় পরিপূর্ণ হয়ে আছে। আমরা যে সমাজে বসবাস করছি, এখানে মিথ্যার বেশাতি ছড়িয়ে আছে। এ থেকে পরিত্রাণের উপায় কী? মূলত রমজানের মাগফেরাতের এই প্রাণবন্ত সময়ে নিজেকে যদি ক্ষমার জায়গায় নিয়ে আসতে না পারি, তাহলে জীবন সাজবে না। জান্নাতের জন্য প্রস্তুত হবে না। রঙিন হয়ে উঠবে না নতুন কারিশমায়।

মহান আল্লাহতাআলা মিথ্যাচারদের বিষয়ে বলেন, ‘আর মানুষের মধ্যে কিছু লোক এমন রয়েছে যারা বলে, আমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান এনেছি, অথচ আদৌ তারা ঈমানদার নয়। তারা আল্লাহ এবং ঈমানদারগণকে ধোঁকা দেয়। অথচ এতে তারা নিজেদেরকে ছাড়া অন্য কাউকে ধোঁকা দেয় না, অথচ তারা তা অনুভব করতে পারে না। তাদের অন্তঃকরণ ব্যাধিগ্রস্ত আর আল্লাহ তাদের ব্যাধি আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন। বস্তুত, তাদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে ভয়াবহ আজাব, তাদের মিথ্যাচারের দরুন।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ৮-১০)

আমরা অনেক বিষয়ে জানি না। তবু কথা বলতে চাই। জ্ঞান দিতে চাই। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা কুরআনকে মানতে পারলেই নিজেদের পথচলাটা সহজ হবে। এ বিষয়ে মহান আল্লাহ বলেন, ‘যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই তার অনুসরণ করো না।’ (সুরা বনি ইসরাইল : আয়াত ৩৬)

মানুষ মূলত মিথ্যা বলে নিজেকে বাঁচাতে চায়। কিন্তু মিথ্যা যে কাউকে বাঁচাতে পারে না তা আমরা উপলব্ধি করতে পারি না।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘নিশ্চয় সত্যবাদিতা পুণ্যের পথ দেখায়। আর পুণ্য জান্নাতের দিকে পথনির্দেশনা করে। আর মানুষ সত্য কথা বলতে থাকে, শেষ পর্যন্ত আল্লাহর কাছে তাকে মহা সত্যবাদীরূপে লিপিবদ্ধ করা হয়। আর নিঃসন্দেহে মিথ্যাবাদিতা নির্লজ্জতা ও পাপাচারের দিকে নিয়ে যায়। আর পাপাচার জাহান্নামের দিক নিয়ে যায়। আর মানুষ মিথ্যা বলতে থাকে, শেষ পর্যন্ত আল্লাহর কাছে তাকে ‘মহা মিথ্যাবাদী’ রূপে লিপিবদ্ধ করা হয়।’ (বুখারি ও মুসলিম)

আমরা রমজানুল মোবারক পেয়েছি, আল হামদুলিল্লাহ। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে অনেক বড় রহমত। কেবল না খেয়ে থাকার নাম রোজা নয়। রোজায় কম কথা কথা বলা, মিথ্যা থেকে বেঁচে থাকার নামও রোজা। জবানের হেফাজত করতে না পারলে প্রকৃত মোমিন হওয়া অসম্ভব। আল্লাহতায়ালা বলেন, মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করুক না কেন, তা লিপিবদ্ধ করার জন্য তৎপর প্রহরী (ফেরেশতা) তার কাছেই রয়েছে।’ (সুরা কাফ : আয়াত ১৮)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে আমাকে তার দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী (জিহ্বা) এবং দুই পায়ের মধ্যবর্তী (লজ্জা) স্থানের জামানত দেবে, আমি তার জন্য জান্নাতের জামিন হব।’ (বুখারি)

নবীজি বলেন, ‘তোমরা কি জানো গীবত কী?’ সাহাবিরা বললেন, ‘আল্লাহ ও রাসুলই অধিক অবগত।’ তিনি বললেন, ‘তোমার ভাইয়ের অসাক্ষাতে এমন কিছু বলা, যা সে অপছন্দ করে।’ আরজ হলো, ‘আমার ভাইয়ের মধ্যে যদি সেই দোষ থাকে যা আমি বলি?’ হুজুর (সা.) বললেন, ‘তুমি যা বর্ণনা কর তা যদি সত্যিই তার মধ্যে থাকে, তবে এটাই গিবত। আর তার মধ্যে যদি সেই দোষ না থাকে তাহলে তো তুমি তাকে অপবাদ দিলে।’ (মুসলিম)। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি চুপ থাকে সে নাজাত পায়।’ (তিরমিজি)।

মিথ্যা থেকে বাঁচতে পারলে, রমজানের এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে— জীবনে শান্তির ছোঁয়া লাগবে, তা নিশ্চিত করেই বলা যায়। আল্লাহতাআলা পবিত্র রমজানে সহনশীলতার সঙ্গে মিথ্যা, গিবত ও পরনিন্দামুক্ত জীবন গঠনের তওফিক দিন। আমিন।

লেখক : সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক

Email : [email protected]

পিডিএসও/তাজ