বাঙালি সংস্কৃতি ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব

প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১০:০৩

নিতাই চন্দ্র রায়

সংস্কৃতি হলো আত্মা বা মনের কর্ষণ। বিভিন্ন সমাজের প্রাপ্ত সামাজিক আচরণ ও নিয়মকানুনের সামষ্টিক বহিঃপ্রকাশ। পকানো স্থানের মানুষের আচার-ব্যবহার, জীবিকার উপায়, সংগীত, নৃত্য, সাহিত্য, নাট্যশালা, সামাজিক সম্পর্ক, ধর্মীয় রীতিনীতি, শিক্ষাদীক্ষা ইত্যাদির মাধ্যমে যে অভিব্যক্তি প্রকাশ হয় তাই সংস্কৃতি। সংস্কৃতি হচ্ছে টিকে থাকার কৌশল। নৃবিজ্ঞানী টেইলরের মতে, সমাজের সদস্য হিসেবে অর্জিত নানা আচরণ, যোগ্যতা, বিশ্বাস, শিল্পকলা, নীতি, আদর্শ, আইন, প্রথা ইত্যাদির এক যৌগিক সমন্বয়ের নামই সংস্কৃতি।

বাংলা, বাঙালি ও বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে যার জীবন, সংগ্রাম ও রাজনীতি ওতপ্রোতভাবে জড়িত তিনি হলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার সম্পর্কে বিদেশি সাংবাদিক সিরিল ডান যথার্থই বলেন, ‘বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে শেখ মুজিবই একমাত্র নেতা যিনি রক্তে, বর্ণে, ভাষায়, কৃষ্টিতে এবং জন্মসূত্রেও ছিলেন খাঁটি বাঙালি। তার দীর্ঘ শালপ্রাংশু দেহ, বজ্রকণ্ঠ, মানুষকে মন্ত্রমুগ্ধ করার বাগ্মিতা এবং জনগণকে নেতৃত্বদানের আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব ও সাহস তাকে এ যুগের এক বিরল মহানায়কে রূপান্তর করেছে।’

ফরিদপুরের মধুমতি নদীতীরে একটি ক্ষুদ্র গ্রাম টুঙ্গিপাড়ায় ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ শেখ মুজিবের জন্ম। গ্রামবাংলার আলো-বাতাসে তার বেড়ে ওঠা। তার শৈশর ও কৈশোর কাটে স্থানীয় এমই স্কুল, গোপালগঞ্জ পাবলিক স্কুল, মাদারীপুর হাইস্কুল ও গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলে। গ্রামের আর ১০টি কিশোরের মতো শেখ মুজিব খেলাধুলা খুব ভালোবাসতেন। ভালোবাসতেন গান গাইতেও। তিনি ফুটবল, ভলিবল ও হকি খেলতেন। ছোটকাল থেকেই পত্রিকা পড়তে ভালোবাসতেন। তার পিতা শেখ লুৎফর রহমান আনন্দবাজার, বসুমতি, আজাদ, মাসিক মোহম্মদী ও সওগাত পত্রিকা রাখতেন। কিশোর মুজিব মনোযোগসহকারে সবগুলো পত্রিকাই পড়তেন। জানতেন দেশের কথা। জাতির কথা। সমাজের কথা। সংস্কৃতির কথা। মানুষ ও মাটির কথা। এভাবে শৈশব থেকেই তার মধ্যে দেশ, মাটি ও মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার উন্মেষ ঘটে। বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে তিনি বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনসহ সব আন্দোলনের অগ্রনায়ক ছিলেন। বাংলার মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য সারাটা জীবন জেল খেটেছেন। ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণে সাড়ে সাত কোটি বাঙালিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার উদাত্ত আহ্বান জানান এবং বলিষ্ঠ কণ্ঠে উচ্চারণ করেন ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’

১৯৫২ সালে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে সালাম, বরকত, জব্বার, রফিক ও শফিকের আত্মত্যাগের মাধ্যমে বাঙালি জাতিসত্তার জাগরণের যে বীজ বপন করা হয়, তাই ৫৪-এর যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন, ৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬-এর ছয় দফা আন্দোলন, ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ৭০-এর নির্বাচন এবং ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পূর্ণতা লাভ করে। ভাষার দাবিকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে যে অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক চেতনার উন্মেষ ঘটে তাকে বেগবান করতে যেসব রাজনীতিবিদ উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন তাদের মধ্যে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাষানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, কমরেড মণি সিংহের নাম উল্লেখযোগ্য। বঙ্গবন্ধু ভালোভাবে জানতেন বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে হলে অসাম্প্রদায়িক চেতনার কোনো বিকল্প নেই। অসাম্প্রদায়িক বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেতনাই বাংলার হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান, বৌদ্ধসহ সব ধর্মের মানুষকে একতাবদ্ধ করে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তীব্র গণ-আন্দোলন গড়ে তুলতে পারে। এজন্য তিনি ১৯৫৫ সালের ২১ অক্টোবর আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে দলের নাম থেকে ‘ মুসলিম’ শব্দটি প্রত্যাহার করেন এবং পুনরায় দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তাই গোলাম মুরশিদ রচিত ‘হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি’ গ্রন্থ সমালোচনায় মাসুদা ভাট্টি উল্লেখ করেন, বাঙালির চরিত্রের এই অসাম্প্রদায়িকতা ও দেশপ্রেম দৃঢ়তর হয়েছিল যে মহান ব্যক্তিত্বের কারণে তিনি হলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙালি মানসে তিনি হাজার বছরের দাসত্ব মুক্তির একটি অমিত সম্ভাবনার স্বপ্ন বুনতে সক্ষম হয়েছিলেন।

বাঙালির সুদীর্ঘ সংগ্রামে ছয় দফার গুরুত্ব অপরিসীম। ১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর এক সম্মেলনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘ছয় দফা’ দাবি পেশ করেন। আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয় লাহোর প্রস্তাবের সঙ্গে মিল রেখে ২৩ মার্চ। ছয় দফা দাবির মূল উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তান হবে একটি ফেডারেল রাষ্ট্র। ছয় দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে এই ফেডারেল রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গরাজ্যকে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন দিতে হবে। পরবর্তীকালে এই ছয় দফা দাবিকে কেন্দ্র করে বাঙালি জাতির স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন জোরদার করা হয়। এজন্য ছয় দফা আন্দোলনকে বলা হয় বাঙালির মুক্তি সনদ।

বঙ্গবন্ধু নজরুল গীতি, রবীন্দ্রসংগীত, পল্লীগীতি ও ভাটিয়ালি গান খুব ভালোবাসতেন। বাংলার প্রখ্যাত শিল্পীদের গানের অনুষ্ঠানে দাওয়াত পেলে তিনি তাতে অংশগ্রহণ করতেন। গান শুনতেন। শিল্পীদের উৎসাহ দিতেন। তদানীন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহকুমার নবীনগর থানার কৃষ্ণনগর হাইস্কুলের দ্বারোদ্ঘাটন উপলক্ষে আয়োজিত সভায় বিখ্যাত গায়ক আব্বাসউদ্দিন আহম্মদ, সোহরাব হোসেন ও বেদারউদ্দিন আহম্মদ গান পরিবেশন করবেন। ওই অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুকেও নিমন্ত্রণ করা হয়েছিল। গ্রামবাংলায় কণ্ঠশিল্পী আব্বাসউদ্দিন অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। মানুষ তার সুরেলা কণ্ঠে গান শোনার জন্য পাগল হয়ে যেত। তার গান ছিল বাংলা জনগণের প্রাণের গান। বাংলার মাটি, মানুষ ও নদীর সঙ্গে ছিল তার নাড়ির সম্পর্ক। তিন কণ্ঠশিল্পী আব্বাসউদ্দিন, সোহরাব হোসেন ও বেদারউদ্দিন আহমদ অধিক রাত পর্যন্ত গান গাইলেন। পরদিন নৌকায় শিল্পীদের সঙ্গে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হলেন বঙ্গবন্ধু। পথে গান চলল। বঙ্গবন্ধুর ভাষায়—নদীতে বসে আব্বাসউদ্দিন সাহেবের ভাটিয়ালি গান তার নিজের গলায় না শুনলে জীবনের একটা দিক অপূর্ণ থেকে যেত। তিনি যখন ধীরে ধীরে গান গাইছিলেন, তখন মনে হচ্ছিল নদীর ঢেউগুলো যেন তার গান শুনছে। বঙ্গবন্ধু আব্বাসউদ্দিন সাহেবের একজন ভক্ত হয়ে পড়েছিলেন। কণ্ঠশিল্পী আব্বাসউদ্দিন আহম্মদ বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলেন, ‘মুজিব বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে বিরাট ষড়যন্ত্র চলছে। বাংলা রাষ্ট্রভাষা না হলে বাংলার কৃষ্টি, সভ্যতা সব শেষ হয়ে যাবে। আজ যে গান তুমি ভালোবাস এর মাধুর্য ও মর্যাদা নষ্ট হয়ে যাবে। যা কিছু হোক বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করতে হবে।’ বঙ্গবন্ধু কথা দিয়েছিলেন এবং সেই কথা রক্ষাও করেছিলেন বাংলার মাটি, মানুষ, শিল্প ও সংস্কৃতিকে ভালোবেসে। পাকিস্তানের কারাগারে তার ফাঁসির হুকুম হলে তিনি উচ্চারণ করেন, ‘ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার সময় আমি বলব, আমি বাঙালি, বাংলা আমার দেশ, বাংলা আমার ভাষা। জয় বাংলা।’

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা ও গান স্বাধীনতাযুদ্ধে আমাদের অশেষ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। বঙ্গবন্ধু তাই বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালাবাসি।’ গানটিকে জাতীয় সংগীত এবং বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘চল্ চল্ ঊর্ধ্বে গগনে বাজে মাদল।’ গানটিকে রণসংগীতের মর্যাদা প্রদান করে বাংলা ভাষার এই বিখ্যাত কবিগণের প্রতি যে সম্মান প্রদর্শন করেন, তার কোনো তুলনা হয় না। শুধু তাই নয়, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিদ্রোহী কবিকে ভারত থেকে স্বাধীন দেশে নিয়ে আসেন, তাকে জাতীয় কবির মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেন এবং তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

১৯৭২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণের বটতলায় এক টুকরো চটের ওপর স্বাধীন বাংলা সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশিত ৩২টি বই বিছিয়ে মুক্তধারার স্বত্বাধিকারী চিত্তরঞ্জন সাহা একুশের গ্রন্থমেলার সূচনা করেন। বইমেলা উপলক্ষে ১৯৭৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমি যে জাতীয় সাহিত্য সম্মেলনের আয়োজন করে তা উদ্বোধন করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দেশের সাধারণ মানুষ, যারা আজও দুঃখী, যারা আজও নিরন্তর সংগ্রাম করে বেঁচে আছে, তাদের হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখকে, শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির উপজীব্য করার জন্য বঙ্গবন্ধু শিল্পী, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিসেবীদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ছাড়া রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন। তাই মাটি ও মানুষকে কেন্দ্র করে গণমানুষের সুখ, শান্তি ও স্বপ্ন এবং আশা-আকাঙ্ক্ষাকে অবলম্বন করে গড়ে উঠবে বাংলার নিজস্ব সাহিত্য-সংস্কৃতি।’

 
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে বাংলা কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক ও চলচ্চিত্রে গণমানুষের জীবন, সংগ্রাম ও দ্রোহ নিয়ে যে নতুনধারার সৃষ্টি হয়, তার অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। শেখ মুজিবের নেতৃত্বে স্বাধীনতা সংগ্রাম না হলে বাংলা চলচ্চিত্রে বাঘা বাঙালি, রক্তাক্ত বাংলা, আবার তোরা মানুষ হ, আমার জন্মভূমি, আলোর মিছিল, সংগ্রাম, মেঘের অনেক রং, কলমী লতা, আমরা তোমাদের ভুলব না, একাত্তরের যিশু, আগুনের পরশ মনি, নদীর নাম মধুমতি, এখনো অনেক রাত, হাঙর নদীর গ্রেনেড, মাটির ময়না, হুলিয়া, ছাড়পত্র একজন মুক্তিযোদ্ধা, ধূসর যাত্রার মতো চলচ্চিত্র ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মিত হতো না। কবি শামসুর রাহমান কর্তৃক রচিত হতো না ‘বন্দি শিবির থেকে’ ‘স্বাধীনতা তুমি’ ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা’-এর মতো কালজয়ী কবিতা। কবি নির্মলেন্দু গুণ কি লিখতে পারতেন ‘হুলিয়া’, ‘আগ্নেয়াস্ত্র’, ‘স্বাধীনতা উলঙ্গ কিশোর’, ‘স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো’-এর মতো কবিতা? মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের প্রেরণা। জেগে ওঠার জয়গান। বেঁচে থাকার ভরসা। আত্ম-অহংকারের নাম। তাই বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্রে মুক্তিযুদ্ধ এসেছে বারবার বাঙালি বীরত্বগাথার অনুষঙ্গ হিসেবে। রাবেয়া খাতুনের ‘ফেরারী সূর্য’ আহমদ ছফার ‘ওঙ্কার’ আমজাদ হোসেনের ‘ অবেলায় অসম’ রিজিয়া রহমানের ‘রক্তের অক্ষরে’ সুকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের ‘জীবন তরু’, মঈনুল আহসান সাবেরের ‘কবেজ লেঠের’, ওয়াসী আহমেদের ‘রৌদ্র ও ছায়ার নকশা’, আনিসুল হকের ‘মা’ ও মোস্তফা কামালের ‘জনক ও জননীর গল্প’—এসব উপন্যাসে এসেছে বাঙালির আত্মপরিচয়ের কথা, স্বাধীনতা সংগ্রামের কথা, দৃঢ়প্রত্যয়ের কথা, যুদ্ধজয়ের কথা, যার কেন্দ্রবিন্দু জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

বঙ্গবন্ধু কোনো খ্যাতিমান লেখক ছিলেন না সত্যি কিন্তু তার লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ‘কারাগারের রোজনামচা’ ও ‘আমার দেখা নয়া চীন’ গ্রন্থগুলো আগামী দিনের কবি, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদ এবং সমাজ সংস্কারকদের জোগাবে দেশ ও জাতির প্রতি গভীর ভালোবাসা। দৃঢ় দায়িত্ববোধ। মাটি ও মানুষের প্রতি অসীম মমতা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে অটল অঙ্গীকার এবং বজ্রকঠিন শপথ।

লেখক : সাবেক মহাব্যবস্থাপক (কৃষি)
নর্থবেঙ্গল সুগার মিলস্ লিমিটেড, নাটোর
[email protected]

পিডিএসও/হেলাল