মর্যাদা বাড়াবে ই-পাসপোর্ট

প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২০, ০৯:১৬

সম্পাদকীয়

ই-পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার শেষ সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে আছি আমরা। ইচ্ছা করলেই এখন থেকে আমরা এই পাসপোর্ট গ্রহণ করতে পারি। অর্থাৎ অনেক জল্পনা-কল্পনা শেষে বহুল প্রত্যাশিত ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল এ সেবার উদ্বোধন করেছেন। একই সঙ্গে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালু হচ্ছে ৯টি ই-গেট। এরপর দুটি স্থলবন্দর ও দুটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও বসবে। এই বিশেষ ধরনের পাসপোর্টে সর্বনিম্ন ফি চার হাজার আর সর্বোচ্চ ফি ধার্য করা হয়েছে ১৪ হাজার টাকা।

গ্রাহকরা আজ থেকেই ই-পাসপোর্টের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। একই সঙ্গে এমআরপি পাসপোর্টও ব্যবহার করা যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে না বললেই নয় যে, বিদেশের বিমানবন্দরে এই পাসপোর্ট বাংলাদেশিদের মর্যাদা বেশ কিছুটা উন্নত করবে। উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তালে তাল মিলিয়ে এ ক্ষেত্রে পাসপোর্টকে সমপর্যায়ে উন্নীত করার যোগ্যতা অর্জনে সক্ষম হয়েছি আমরা।

ই-পাসপোর্টধারীদের জন্য বাংলাদেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং বেনাপোল ও বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে বসছে ৫০টি ই-গেট। আর শাহজালালের ২৬টি গেটের মধ্যে চালু হচ্ছে ৯টি ই-গেট। সিলেট ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে এখনো ই-গেটের স্থাপনা তৈরি হয়নি। তবে আমাদের প্রত্যাশা, দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্থাপনার কাজ শেষ হবে। আশা করি, সংশ্লিষ্টরা আমাদের প্রত্যাশার প্রতি মনোযোগী হবেন।

সূত্র মতে, প্রাথমিকভাবে আগারগাঁও, উত্তরা ও কেরানীগঞ্জ থেকে দিনে ৫০০ ই-পাসপোর্ট ইস্যু করা হবে। আর এই ই-পাসপোর্টে থাকছে পলিমার তৈরি কার্ড ও একটি চিপ। এতে গ্রাহকের ১০ আঙুলের ছাপও আইরিশসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত সব তথ্য থাকবে। আর এই পাসপোর্ট পেতে কালক্ষেপণ করতে হবে না। গ্রাহকরা সর্বনিম্ন দুদিন এবং সর্বোচ্চ ২১ দিনের মধ্যে তা গ্রহণ করতে পারবেন। এর বাইরেও আছে একটি সুযোগ। গ্রাহকদের বিশেষ প্রয়োজনে ১০ দিনের মধ্যেও ছাড় করাতে পারবেন তাদের ই-পাসপোর্ট। এ ছাড়া ৪৮ ও ৬৪ পৃষ্ঠার এই ই-পাসপোর্ট পাওয়া যাবে ৫ ও ১০ বছর মেয়াদে। একজন গ্রাহক ই-পাসপোর্ট গ্রহণের সময় যত বাড়তি সুযোগ-সুবিধা নেবেন, ঠিক সেই অনুসারে তাকে বেশি ফি দিতে হবে। তবে প্রবাসী শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের জন্য ফি কিছুটা কম থাকবে।

তথ্য মতে, এরই মধ্যে জার্মানি থেকে ২০ লাখ বই বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। আরো ২ কোটি ৮০ লাখ বই আসার পাইপলাইনে রয়েছে। আর ই-পাসপোর্টের তথ্য পৃথিবীর অন্যান্য দেশের ডেটাবেইসেও সংরক্ষিত থাকবে। আমরা মনে করি, ই-পাসপোর্টের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়ন রেলে আরো একটি বগির সংযোজন ঘটাল। বিদেশে আমাদের বিদেশগামী সদস্যদের মর্যাদা বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখল। আমরাও সেই মর্যাদার অংশীদার হলাম।

পিডিএসও/হেলাল