সাতক্ষীরায় রোগীদের জরুরি সেবায় ভ্যান অ্যাম্বুলেন্স

প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২০:৪৩

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

চারপাশে ফুলের বাগান, সবজি বাগান ও ভেষজ বাগান। দেখতে অনেকটা মিনি পার্কের মত। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার দেবীপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের চিত্র এমনই। নিজেদের উদ্যোগে ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় কমিউনিটি ক্লিনিকের চিত্র বদলে ফেলেছেন কমিউনিটি ক্লিনিকের সদস্যরা।

দেবীপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রভাইডার (সিএইচসিপি) অনিরুদ্ধ কর্মকার জানান, দেড় বছর আগে ক্লিনিকের চত্বরে ফাঁকা জায়গায় সবজি ও ভেষজ বাগান শুরু করি। ফুলের বাগানটি করেছি ৬ মাস আগে। স্থানীয়রা ক্লিনিকটি পরিচালনার জন্য সার্বিক সহযোগিতা করেন। এছাড়া ক্লিনিকের স্বাস্থ্য সহকারি সিজ্জাতুন নেছা, মর্জিনা খাতুন ও পরিবার কল্যাণ সহকারি নাজমা পারভিন আন্তরিক হয়ে সেবা প্রদান ও দায়িত্বপালন করেন।

তিনি বলেন, রোগীদের সেবা গ্রহণ ও প্রদানের জন্য উপজেলা পরিষদ একটি ছাউনিযুক্ত ভ্যানগাড়ি দিয়েছেন। সেটিকে আমরা ভ্যান অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে বানিয়েছি। ভ্যান অ্যাম্বুলেন্সটি জরুরি সময় রোগীদের পরিবহন করবে, সেবা দিবে। অনেক সময় অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যায় না এতে রোগীরা কষ্ট পায়।

সোমবার দুপুরে দেবীপুর কমিউনিটি ক্লিনিক পরিদর্শন করে ভ্যান অ্যাম্বুলেন্সটি উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহিন।

এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ অজয় কুমার সাহা, সেভ দা চিলড্রেনের চিকিৎসক জেরিন, জেলা সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা পুলক কুমার চক্রবর্তী, ক্লিনিকের ভূমিদাতা ও ক্লিনিক পরিচালনকা কমিটির সহ সভাপতি রাজেন্দ্র মন্ডল, ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মীসহ আগত রোগীরা উপস্থিত ছিলেন।

দেবীপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম কামরুজ্জামান বলেন, ক্লিনিকের পরিবেশ ও ব্যবস্থা অনুপ্রাণিত করার মত। ক্লিনিকের সামনের ফুলের বাগান, সবজি বাগান, ভেষজ গাছ গাছালি ক্লিনিকের পরিবেশকে আরও সুন্দর করে তুলেছে। উপজেলা প্রশাসন থেকেও এই ক্লিনিকে সহযোগিতা করা হবে।

এদিকে, সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহিন বলেন, ক্লিনিকটির উদ্ভাবনী কার্যক্রম আমাকে মুগ্ধ করেছে। জরুরী মুহূর্তে রোগীদের ভ্যান অ্যাম্বুলেন্স সেবাটি আকর্ষনীয়। জরুরী মুহূর্তে রোগীদের সেবা দিবে ভ্যান অ্যাম্বুলেন্স। এলাকাবাসী ক্লিনিকটিকে নিজেদের মনে করে সব ধরণের সহযোগিতা করেন। স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারীগণও আন্তরিক হয়ে সেবা প্রদান অব্যাহত রেখেছেন।

তিনি বলেন, প্রতি মাসে এ ক্লিনিকে এক হাজারেরও বেশি রোগী চিকিৎসা গ্রহণ করছে। নিজেদের উদ্যোগে ক্লিনিক চত্বরে সবজি, ফুল ও ভেষজ বাগান করেছে যা পরিবেশকে সুন্দর করে তুলেছে। এছাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রমের বিষয়গুলো পোষ্টারের মাধ্যমে প্রচারজনগণকে ক্লিনিকের সেবা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করেছে। ক্লিনিকটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠাণগুলোর জন্য অনুকরণীয় হতে পারে। সরকার স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দৌড়গোড়ায় পৌঁছে দিতে যে কার্যক্রম গ্রহণ করেছে— সকল ক্লিনিকগুলোকে যদি এমনভাবে উপস্থাপন ও সাজানো যায় তবে সেটি বাস্তবায়ন খুব সহজ হবে।

পিডিএসও/তাজ