পেঁয়াজের বিকল্প উদ্ভাবনে বারির বিজ্ঞানীর সফলতা

প্রকাশ : ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ০৯:২২

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

অস্বাভাবিক দাম বাড়ার কারণে পেঁয়াজের বিকল্প খুঁজে পেয়েছেন কৃষি বিজ্ঞানীরা। পেঁয়াজের বিকল্প হিসেবে ‘চিভ’ নামে এক মসলার জাত চাষে সাফল্য পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) মসলা গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

‘চিভ’-এর উৎপত্তিস্থল উত্তর চীন, সাইবেরিয়া ও মঙ্গোলিয়া অঞ্চলে। দীর্ঘদিন গবেষণা চালিয়ে এ মসলা জাতীয় ফসল চাষে সাফল্য পেয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির আঞ্চলিক মসলা গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. নূর আলম চৌধুরী। এ কাজে তার সহযোগী ছিলেন ড. মোস্তাক আহমেদ, ড. আলাউদ্দিন খান ও মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান। বছরজুড়েই চাষ ও ফলনের উপযোগী বারি চিভ-১ নামের ওই মসলাজাতীয় ফসলটি একই সঙ্গে পেঁয়াজ ও রসুনের স্বাদ বা গুণাগুণ থাকায় আপৎকালীন সময়ে পেঁয়াজের বিকল্প হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানিরা।

২০১৭ সালে গবেষণা শুরু করেন তারা। দীর্ঘ প্রচেষ্টায় তারা বারি চিভ-১ নামের একটি উচ্চফলনশীল জাত অবমুক্ত করেছেন। এই ফসলকে ঘিরে অনেকটা পেঁয়াজ-রসুনের বিকল্প তৈরিতে আশার সঞ্চার হয়েছে।

বারির ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. নূর আলম চৌধুরী জানান, পৃথিবীর অনেক দেশে চিভ সাধারণত স্যুপ, সালাদ ও চাইনিজ ডিশে ব্যবহৃত হয়। এর পাতা লিলিয়ান আকৃতির ফ্ল্যাট, কিনারা মসৃণ ও এর ভালভ লম্বা আকৃতির। চিভের স্বাদ অনেকটা পেঁয়াজ-রসুনের মতো। পণ্যটি হজমে সাহায্য ও রোগ নিয়ন্ত্রণ করে। এর মধ্যে ক্যানসার প্রতিরোধী গুণাগুণও বিদ্যমান রয়েছে। এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ভিটামিন বি-১, বি-২, নায়াসিন, ক্যারোটিন ও খনিজ উপাদান বিদ্যমান।

চিভ সাধারণত দেশের পাহাড়ি এলাকা সিলেট ও চট্টগ্রামে চাষ হয়ে থাকে। এছাড়াও এখন দেশের পেঁয়াজ উৎপাদনকারী এলাকা পাবনা, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, মাগুরা, বগুড়া ও লালমনিরহাট এলাকায় চিভ চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। চিভ গাছ একবার লাগালে দীর্ঘদিন ধরে ফল পাওয়া যায়। বাড়ির আঙিনায় বা টবে এই ফসলের চাষ করা যায়।

এই বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আরো জানান, বিবিএস ২০১৭ এর তথ্য অনুযায়ী আমাদের দেশে বর্তমানে বার্ষিক পেঁয়াজ উৎপাদন হয় ১৭ দশমিক ৩৫ লাখ মেট্রিক টন। চাহিদা রয়েছে ২২ লাখ মেট্রিক টন। বাকি পেঁয়াজ বিদেশ থেকে আনতে হয়। পেঁয়াজের বিকল্প হিসেবে চিভকে ব্যবহার করা গেলে আমদানি নির্ভরতা কমে আসবে। এছাড়াও চিভের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি সারা বছর ধরেই চাষ করা যায়।

বারি উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল জাতের চিভ-১ গাছের উচ্চতা ৩০ থেকে ৪০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। পাতার দৈর্ঘ্য হয় ২৩ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার। ভাল্ভ লম্বা আকৃতির, দৈর্ঘ্য এক থেকে দেড় সেন্টিমিটার। প্রতি হেক্টরে পাতাও গাছসহ উৎপাদন হয় ১০ থেকে ১২ টন। চারা লাগানোর সময় থেকে ৬৫ থেকে ৭০ দিনের মধ্যে ফসল সংগ্রহ শুরু হয়। বছরে চার থেকে পাঁচবার ফসল সংগ্রহ করা যায়।

গাজীপুর আঞ্চলিক মসলা গবেষণা কেন্দ্রের (বিএআরআই) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শৈলেন্দ্র নাথ মজুমদার জানান, পেঁয়াজ-রসুনের বিকল্প হিসেবে আদর্শ একটি মসলাজাতীয় ফসল চিভ। এর গুণাগুণ পেঁয়াজ-রসুনের চেয়েও বেশি। ব্যাপকভাবে চাষ করা গেলে দেশে পেঁয়াজ-রসুনের ঘাটতি চিভ দিয়েই মেটানো সম্ভব হবে।

পিডিএসও/তাজ