চতুর্দশ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ বছর

প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০১৯, ১২:১২

সাধন সরকার

আজ ২০ অক্টোবর ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’। একে একে সাফল্য ও গৌরবের ১৪টি বছর পার করল উচ্চশিক্ষা বিস্তারে সময়ের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি)। ২০০৫ সালের ২০ অক্টোবর একরাশ স্বপ্ন ও প্রত্যাশা নিয়ে এ প্রতিষ্ঠানটিকে কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়। পথচলার শুরুতে নানাবিধ সংকট থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একটি পরিপূর্ণ, আধুনিক ও বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব শর্তাবলি আবশ্যক, সে পথেই রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

মানসম্মত উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা, যুগোপযোগী জ্ঞান বিতরণ, অগ্রসরমান বিশ্বের সঙ্গে সংগতি রক্ষা ও সমতা অর্জন, আধুনিক জ্ঞান ও সংস্কৃতির চর্চা, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব প্রদানে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম লক্ষ্য। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ছয়টি অনুষদের অধীনে ৩৬টি বিভাগ ও দুটি ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে চলছে শিক্ষাকার্যক্রম। বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১৯ হাজার ছাত্রছাত্রী, প্রায় ৬৫০ জন শিক্ষক ও প্রায় ৬৪০ কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কৃতিচর্চার ১১টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং সুকুমারবৃত্তির চর্চা অব্যাহত রয়েছে।

এবার আসা যাক শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধার কথায়। যাতায়াত ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের পরিবহন সুবিধা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল! বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ক্যানটিনও নানা সমস্যায় নিয়মিতভাবে খোলা থাকে না। ক্যানটিনে খাবারের দাম খুবই চড়া! ফলে শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যায় পড়তে হয়। অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, দেশসেরা অন্যতম এ বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থীরা শুরু থেকেই আবাসন সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের প্রধান সমস্যা এ আবাসন সমস্যা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আবাসন সংকটের সমাধানে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে আসছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ব্যাপারে বরাবরই উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছে!

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আন্তরিকতার অভাবে পুরোনো হলগুলো নানাভাবে হাতছাড়া হয়েছে অনেক আগেই। প্রশ্ন হলো, অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আবাসন সুবিধা পেলে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হবে কেন? নানা সমস্যা মোকাবিলা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৯ হাজার শিক্ষার্থীকে থাকতে হচ্ছে বিভিন্ন ভাড়া বাসায় মেস করে। গত বছর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসকে সম্প্রসারণ ও উন্নত করতে ঢাকার কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়ায় প্রায় ২০০ একর ভূমি অধিগ্রহণের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবিত জমির ওপর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসসহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন সমস্যার সমাধান ও নানা সুবিধার কথা বলা হচ্ছে। এই প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা দরকার। যত দ্রুত আবাসন সংকটের সমাধান করা যাবে, তত দ্রুত শিক্ষার্থীদের জন্য স্বস্তিদায়ক হবে।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে নির্মাণাধীন একমাত্র মহিলা হলের (বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল) নির্মাণকাজও নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করা যায়নি (২০১১ সালের প্রকল্প)। কয়েক দফায় নির্মাণকাজের সময় বাড়ানো হলেও দুঃখের বিষয় এখনো শেষ হয়নি হলের কাজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র মাঠও খেলার জন্য অনুপযোগী। মাঠটিতে প্রায় সময় ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মাঠটির বেহাল দশা। মাঠটি সংস্কার করা জরুরি হয়ে পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি ব্যবস্থাপনা আরো আধুনিক করা দরকার বলে মনে করি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন থাকে সমাবর্তনে অংশ নেওয়া। শিক্ষাজীবন শেষে একজন শিক্ষার্থী গায়ে কালো গাউন, মাথায় সমাবর্তন ক্যাপ (হ্যাট) পরে আচার্যের হাত থেকে সনদ গ্রহণ করবেন— এটাই স্বাভাবিক। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সমাবর্তনের গুরুত্ব অপরিসীম। একজন শিক্ষার্র্থীর বুকে লালিত স্বপ্ন হলো কনভোকেশন সেরিমনি। এ স্বপ্ন শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় শক্তি জোগায়, উজ্জীবিত করে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অশেষ ধন্যবাদ। এবার সেই আকাঙ্ক্ষিত প্রথম সমাবর্তন হতে যাচ্ছে ২০২০ সালের ১১ জানুয়ারি।

মোটকথা, সদিচ্ছা, ইচ্ছা ও আন্তরিকতা থাকলে সমাবর্তন আয়োজন করা খুব কঠিন কাজ নয়! জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উচিত হবে প্রতি বছর নিয়মিতভাবে যথাসময়ে সমাবর্তনের আয়োজন করা। সবশেষে বলতে হয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনেরও উচিত শিক্ষার্থীদের দ্রুত আবাসন সংকট সমাধানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া। আবাসন সমস্যার সমাধান হলে শিক্ষার্থীদের অনেক দিনের স্বপ্ন যেমন পূরণ হবে, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ আরো উন্নত হবে বলে মনে করছেন অনেকেই।

লেখক : পরিবেশকর্মী ও কলামিস্ট

সদস্য, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) Email : [email protected]