বঙ্গবন্ধু সমাধিসৌধের গণগ্রন্থাগার যেন পাঠকের ঘর

প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ১৪:১৯ | আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ১৫:০২

সজল সরকার, টুঙ্গিপাড়া

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সের সরকারি বিশেষ গণগ্রন্থাগারে প্রতিদিন সকাল থেকেই বিভিন্ন বয়সী লোকজন বই নিয়ে বসে থাকেন। আবার অনেকে পত্রিকা পড়তে আসেন। এছাড়া বইপ্রেমীরা বই পড়ে অতিবাহিত করেন সময়। শান্ত ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে অনেককে দেখে মনে হয়, এটা যেন পাঠকের বসতবাড়ি।

এ গণগ্রন্থাগারে বঙ্গবন্ধুর লেখা ও বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে ৩শ’র অধিক বই, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লেখা ও তার সংগ্রামী জীবনের বইসহ মুক্তিযুদ্ধের সাহিত্য, ধর্মগ্রন্থ, একাডেমিক বই, কারেন্ট ওয়ার্ল্ড ও অ্যাফেয়ার্স রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক পত্রিকা, চাকরির খবর পাওয়া যায়। শিশুকিশোরদের জ্ঞান বিকাশের জন্য একই কক্ষের ভেতরে শিশু কর্নার গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে শিশুতোষ বই ও ম্যাগাজিন পাওয়া যায়। এছাড়া বয়স্কদের জন্য গড়ে তোলা হয়েছে প্রবীণ কর্নার।

নিরিবিলি ও কোলাহলমুক্ত পরিবেশে বসে বই পড়ার জন্য গণগ্রন্থাগারে টেবিল ও চেয়ারের ব্যবস্থা রয়েছে। আলো ও বাতাসের জন্য আছে পর্যাপ্ত লাইট, ফ্যান ও এসির ব্যবস্থা। গ্রন্থাগারের সদস্য হয়ে বই বাসায় নিয়ে পড়া যায়।

বঙ্গবন্ধু সমাধি সৌধ কমপ্লেক্সের গণগ্রন্থাগার সূত্রে জানা যায়, ১০ জানুয়ারি ২০০১ সালে এই গণগ্রন্থাগারের উদ্বোধন করেন তৎকালীন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তখন এই গ্রন্থাগার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় পরিচালিত হয়। এরপর ২০০৪ সালে চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় এসে গ্রন্থাগারের প্রকল্প মেয়াদ শেষ করে। পরে ২০০৭ সালে তত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীন আহমদের ঘোষণায় পুনরায় এটি চালু হয়। তখন তিনি এই গ্রন্থাগার গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে হস্তান্তর করেন। এরপর ২০১৭ সালে গ্রন্থাগারটি পুনরায় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করে বর্তমান সরকার প্রধান। এরপর গণগ্রন্থাগার আধুনিকায়নের জন্য সরকার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করে। বর্তমানে এখানে বইয়ের সংখ্যা প্রায় ৯ হাজার। এছাড়া গ্রন্থাগারে ফটোকপি কর্নার, ইন্টারনেট সেবা রয়েছে। লাইব্রেরিটি শুক্রবার ও সরকারি ছুটি ছাড়া নিয়মিত খোলা থাকে।

গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাজিদ আরমান জানান, এখানে এসে বই পড়তে খুব ভাল লাগে। এছাড়া শান্ত ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ থাকায় এখান থেকে যেতে মন চায় না। তবে প্রায়ই বসার জায়গা না পাওয়ায় চলে যায় অনেকে। তাই পর্যাপ্ত বসার স্থান থাকলে পাঠক ফিরে যাবে না।

লাইব্রেরিয়ান যোগেন্দ্রনাথ বাড়ৈ প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, পাঠকদের সেবা দেওয়ার জন্য গ্রন্থাগারটি আধুনিকায়ন করা হয়েছে। কিন্তু লাইব্রেরির পরিধি ছোট ও সল্প সংখ্যক আসন থাকায় অনেকে বসতে পারেন না। যদি শিশু কর্নারটি আলাদা করা হয় তাহলে শিশু, অভিভাবকসহ পাঠকের সুবিধা হবে।

পিডিএসও/হেলাল