হারিয়ে যাচ্ছে মাধবপুরের ‘পানির ফিল্টার’

স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের ফিল্টার বাজারে সয়লাব

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৪:৫০

হামিদুর রহমান

একসময়ে পঞ্চম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকেও ফিল্টার শিল্পের জন্য বিখ্যাত বলে উল্লেখ ছিল যে নগরী, কালের বিবর্তনে সেই মাধবপুর থেকে আজ বিলুপ্ত হতে বসেছে ফিল্টার শিল্প। খাবার পানিকে ঠান্ডা ও বিশুদ্ধ রাখতে বেশ জনপ্রিয় ছিল ‘ফিল্টার’।

এ শিল্পের জন্য বিখ্যাত ছিল হবিগঞ্জের মাধবপুর। মূলত ধানের তুষ, সিমেন্ট ও বালি দিয়ে তৈরি হতো এ ফিল্টার। পরবর্তীতে এতে মোজায়িক পাথর লাগানো হয়। দামে সস্তা, মানে উন্নত বলে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশে ফিল্টার রফতানি শুরু হয়। মাধবপুরে তৈরি ফিল্টার রফতানি করা হতো ভারত-পাকিস্তানসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে। কিন্তু বর্তমানে স্টিল ও অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে তৈরি ফিল্টার বাজারে সয়লাব হয়ে গেছে। একইসঙ্গে কালের বিবর্তনে বিলুপ্ত হতে চলেছে ফিল্টার শিল্পের খ্যাতি।

উপজেলার অমিত ফিল্টারের মালিক পরিতোষ রায় জানান, ১৯৪৭ সালে সর্বপ্রথম প্রয়াত হীরালাল রায় এ ফিল্টার আবিষ্কার করেন। একসময় এ শিল্পের জন্য মাধবপুর এশিয়া মহাদেশের মধ্যে বিখ্যাত ছিল বলে জানা যায়। মাধবপুরের ফিল্টার এখন প্রায় উঠে যেতে বসেছে। এছাড়া ফিল্টার তৈরিতে খরচ বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় অনেক ব্যবসায়ীরা ভিন্ন ব্যবসায় মনোনিবেশ করেছেন। ফলে একদিকে যেমন কমেছে কদর, অন্যদিকে বিলুপ্তির পথে সম্ভাবনাময় ফিল্টার শিল্প।

জানা যায়, মাধবপুর উপজেলায় এখনো ছোট বড় ২৬টি কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় কমপক্ষে ৩ শতাধিক লোক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। এদের বেশির ভাগই নারী শ্রমিক। দিন দিন এ শিল্পের অবনতি দেখে ভিন্ন পেশায় চলে যাচ্ছেন শ্রমিকেরা।

সরেজমিনে কয়েকটি কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, কাঁচামালের মূল্য উর্ধ্বগতি ও চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে মালিকদের বেশির ভাগই এ পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। যারা এখনো এ পেশায় জড়িত, তারাও হিমশিম খাচ্ছেন।

প্রদীপ ফিল্টার হাউসের মালিক প্রদীপ রায় জানান, ফিল্টারের উপকরণ যেমন—সিমেন্ট, বালু ও পালিশের দাম যেভাবে বাড়ছে তেমনি কমছে ফিল্টার বিক্রির চাহিদা। এতে করে ব্যবসা চালানো কষ্টকর। পপুলার ফিল্টার হাউজের মালিক প্রণব রায় জানান, ২০ বছর ধরে ফিল্টার তৈরি করছি। একটি ফিল্টার ৬০০ থেকে ২০০০ টাকায় বিক্রি করা হয়। এখন চাহিদা কম, শ্রমিক সংকট ও খরচ বেশি হওয়ায় ফিল্টার উৎপাদন অনেক হ্রাস পেয়েছে।

সরকার দেশীয় এ শিল্পকে ধরে রাখার উদ্যোগ নিলে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশে রফতানি করে অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের অভিমত।

পিডিএসও/হেলাল