কৈশোরে যৌনতার ভয়াবহ পরিণতি

প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১৫:৫৬

১৬ বছরের কিশোরী সোমা (ছদ্মনাম)। সামনের বছর এসএসসি দেবে। এবারের জন্মদিনে বাবার কাছে উপহার হিসেবে বায়না ধরেছিলো একটি স্মার্ট মোবাইলের। সামান্য বেতনের চাকরিজীবী বাবা একমাত্র মেয়ের বায়না পূরণ করলেন। মেয়েকে স্মার্ট মোবাইল কিনে দিলেন। নতুন মোবাইল পেয়ে সোমা বান্ধবীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ফেসবুক, ইমো, ইন্সট্রাগ্রাম ব্যবহার শুরু করলো। কিছুদিন যেতে না যেতেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া সুমন নামের এক ছেলের সঙ্গে পরিচয় হলো। প্রথমে বন্ধুত্ব পরে তা রূপ নিলো প্রেমে। তাও ভয়াবহ প্রেম। ইমোতে দুজনের মধ্যে প্রথমে ম্যাসেজ আদান প্রদান পরে ভিডিও কলে কথা চলতে লাগলো। একে অন্যকে ছবি শেয়ার করা শুরু করলো। তাদের প্রেম একপর্যায়ে শালীনতা অতিক্রম করলো। ইমোতে অর্ধ উলঙ্গ হয়ে একে অন্যকে শরীর দেখানো শুরু করে দিলো।

এরপর একদিন ঠিক করলো দু’জনে দেখা করবে। সেই মোতাবেক নির্দিষ্ট দিনে সোমা প্রেমিক সুমনের সঙ্গে দেখা করতে গেলো। প্রথমে তারা পার্কে কিছুক্ষণ সময় কাটালো। সেখানেই সুমন সোমাকে কিস টিস করে উত্তেজিত করে ফেললো। এরপর সুমন সোমাকে নিয়ে গেলো একটি বাসায়। সুমন জানালো এটি তার বন্ধুর বাসা। তখন বাসায় কেউ নেই। খালি বাসায় সুমন সোমাকে মিলনের আহ্বান জানালো। কিন্তু সোমা বেঁকে বসলো। ওসব বিয়ের পরে বলে জানালো। কিন্তু সুমন কিছুতেই শুনবে না। সোমাও কিছুতেই শরীর দেবে না। একপর্যায়ে সুমন তার মোবাইল থেকে সোমার অর্ধ উলঙ্গ ছবিগুলো দেখিয়ে বললো- সোমা যদি রাজি না হয় তাহলে এইসব ছবি ফেসবুকে ছেড়ে দেবে। আতঁকে উঠলো সোমা। নাছোরবান্দা সুমনকে একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে শরীর বিলিয়ে দিল। 

এখানেই শেষ নয়। এভাবে প্রতি সপ্তাহে সুমন সোমাকে ব্ল্যাকমেইল করা শুরু করলো। একমাস পর সুমনের সঙ্গে মিলনের সময় সোমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো; যখন দেখলো সেখানে সুমনের আরো ৩জন বন্ধু উপস্থিত। সোমা বাঁধা দিতে গিয়েও পারলো না। ৪ বন্ধু মিলে সোমাকে ভোগ করলো এবং সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করে রাখলো। 

এরপর সুমন ও তার বন্ধুরা সোমাকে প্রস্তাব দিলো যেভাবেই হোক সোমার কোনো বান্ধবীকে এখানে নিয়ে আসতে হবে। সোমা আপত্তি জানালে এই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেবে বলে হুমকি দিলো। সোমা ভয় পেয়ে রাজি হলো। 

সেদিন বাসায় ফিরে সোমা বাথরুমে গিয়ে বমি করলো। বমি করার কারণ সোমা জানে। তার পেটে বাচ্চা। এটা জানাজানি হলে বাবা-মা তাকে মেরে ফেলবে। সে সমাজে মুখ দেখাতে পারবে না। সারা রাত নিজের মনের সঙ্গে যুদ্ধ করলো সে। এরপর একটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলো। সে বুঝতে পারলো তার জীবন আর কোনোদিন স্বাভাবিক হবে না। সে সুমন নামের এক পিশাচকে বিশ্বাস করে ভুল করেছিলো। 

পরদিন সোমার বাবা-মা দেখলো সোমার ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। অনেক ডাকাডাকির পর যখন ভিতর থেকে দরজা খুললো না, তখন লোকজন ডেকে দরজা ভেঙে দেখলো সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় সোমার মরদেহ ঝুলছে। 

এভাবে অকালেই ঝড়ে গেলো সোমার মতো এক কিশোরীর প্রাণ। দোষটা কার ঘাড়ে চাপবে? আবদার মেঠাতে গিয়ে মোবাইল কিনে দিয়েছিলো এবং সঠিক গাইডলাইন না দেয়া বাবা-মার ওপর? উন্নত প্রযুক্তি এখন ঘরে ঘরে তাই? সুমন?  নাকি অসচেতনতা? কে নেবে এ দায়? সমাজ ব্যবস্থা পাল্টানোর আগে নিজেদের পাল্টাতে হবে। হতে হবে সচেতন। অভিভাবকদের আরও বেশি করে সন্তানদের প্রতি নজর দেওয়া উচিত।